বাসে সফর, ছোট্ট হোটেল ও ভোটার কার্ডের খেলা! পুলিশের চোখে ধুলো দিতে দেবরাজের ‘মাস্টারপ্ল্যান’

বাসে সফর, ছোট্ট হোটেল ও ভোটার কার্ডের খেলা! পুলিশের চোখে ধুলো দিতে দেবরাজের ‘মাস্টারপ্ল্যান’

সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: পুলিশের নাগাল এড়াতে কি কার্যত দেশভ্রমণে বেরিয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)? বাগুইআটি এলাকার দাপুটে তৃণমূল (TMC) নেতা বাসে বাসে ঘুরে বেড়িয়েছেন সাধারণ মানুষের মতো! ১৫ জুন কলকাতা থেকে বাসে রওনা হয়ে প্রথমে ওড়িশায় যান প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। সেখান থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল, জামশেদপুর হয়ে ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে আসেন অদিতি মুন্সির স্বামী। পুলিশ সূত্রে খবর, নজর এড়াতে ১৫দিন ধরে একাধিক রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। এ যেন এক্কেবারে পরিকল্পনামাফিক কাজ। যে পাকাপোক্ত প্ল্যান বানিয়েছিলেন দেবরাজ, তাতে ১৫দিন পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিলেও, তা বেশিদিন টিকল না। 

শেষপর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুরির একটি রিসর্ট থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে পাকড়াও করেছে রাজ্য পুলিশের STF। পুলিশ সূত্রে দাবি, একেবারে পেশাদার অপরাধীর মতো পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ভিনরাজ্যগুলোতে পালিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ওড়িশা থেকে বিভিন্ন রাজ্য হয়ে ঝাড়খণ্ডে পৌঁছনো ও থাকা-খাওয়া সহ যাবতীয় খরচ নগদে মেটান দেবরাজ চক্রবর্তী। কোনওভাবে যাতে তাঁকে ট্র্যাক না করা যায় তার জন্য নতুন একটি মোবাইল ফোন কিনে সেখানে নতুন সিম ভরে ব্যবহার করছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির পর দেবরাজ চক্রবর্তীর থেকে সেই মোবাইল ফোন ও ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কোন পথে গা ঢাকা দেবরাজ চক্রবর্তীর?

দুর্নীতি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজসহ একাধিক অভিযোগ ওঠার পর থেকেই মোবাইল ফোন সুইচ অফ করে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন দেবরাজ। গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কায় ১৫ জুন কলকাতা ছাড়েন দেবরাজ চক্রবর্তী। থানা সূত্রের খবর, বাসে করে। ১৫ জুন করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে ওঠেন দেবরাজ। প্রাইভেট গাড়ি তিনি ব্যবহার করেননি। নগদ টাকা নিয়ে ঘোরেন।

১৫ দিন তিনি যে সকল হোটেলে থেকেছেন, সবক’টিই বেশ ছোট। পুলিশ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বাস স্ট্যান্ড লাগোয়া ছোট ছোট হোটেল তিনি রাত কাটানোর জন্য বেছে নিয়েছিলেন। কারণ, সেখানে পরিচয় যাচাই নিয়ে বেশি কড়াকড়ি থাকে না। কয়েকটি জায়গায় দেবরাজ পরিচয়পত্র হিসেবে ভোটার কার্ড ব্যবহার করেছিলেন। কারণ, ভোটার কার্ডে সাদা-কালো ছবি থাকে। যা দেখে খুব সহজে পরিচয় যাচাই সম্ভব হয় না। পুলিশ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, যে হোটেলে সম্ভব হয়েছিল, সেখানে দেবরাজ পরিচয়পত্র দেওয়ার জায়গায় টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেন। আর যেখানে যেখানে পরিচয়পত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল, সেখানে তিনি ভোটার কার্ড দেন। 

গত পরশু বেঙ্গল এসটিএফ গ্রেফতার করে। তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ সহ একগুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। দেবরাজকে কোর্টে তোলার সময় আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ  দেখিয়েছিলেন। অনেকে দেবরাজকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ জুলাই অভিযোগকারী  প্রোমোটারের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে।

 

Previous post

West Bengal Government: দুর্গাপুজোর আগেই আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত হাসপাতালের শিলান্যাস? রাজ্যের জন্য বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিউ টাউনে

Next post

‘শক্তিপুর থানার ওসি-র আচরণ, তাঁর ঔদ্ধত্যের জন্যই হাজিরা দেব না’, বললেন হুমায়ুন

Post Comment

You May Have Missed