মাসে ২০ হাজার টাকার SIP করলে ২৪ বছরে কত কোটি টাকার তহবিল তৈরি হবে জানেন কি?

মাসে ২০ হাজার টাকার SIP করলে ২৪ বছরে কত কোটি টাকার তহবিল তৈরি হবে জানেন কি?

কলকাতা: দেশের অনেক মানুষের কাছে এই মুহূর্তে SIP বা সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান সম্পদ তৈরির একটা মাধ্যম। ফিক্সড ডিপোজিট, রেকারিং ডিপোজিট, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদিতে যখন সুদের হার ৮ শতাংশের বেশি নয়, সেই ঐতিহাসিক ভাবে মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ১১ শতাংশের বেশি রিটার্ন পাওয়া গিয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডে নিয়ম মেনে শৃঙ্খলাবদ্ধ বিনিয়োগের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের অর্থও সময়ের সঙ্গে বড় তহবিলে পরিণত হতে পারে। তাই অনেকেরই প্রশ্ন, মাসে ২০ হাজার টাকা SIP করলে কত কোটি টাকার তহবিল তৈরি করা সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধৈর্য্যের সঙ্গে নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় বিনিয়োগ করলে কিন্তু সত্যিই কয়েক কোটির তহবিল তৈরি করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: এআই-এর কারণে চাকরি হারানোর শঙ্কা বাড়ছে, অর্থনৈতিক ভাবে প্রস্তুত থাকবেন কীভাবে?

যদি কোনও বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে একটি ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে SIP-তে বিনিয়োগ করেন। এবং যদি গড়ে বার্ষিক ১২ শতাংশও রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে ২৪ বছরের মধ্যে সেই বিনিয়োগ ৩ কোটিরও বেশি তহবিলে পরিণত হতে পারে। ১২ শতাংশ ধরা হল, কারণ ঐতিহাসিক ভাবে দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ লার্জ ক্যাপ ও ইনডেক্স মিউচুয়াল ফান্ডে প্রায় ১২ শতাংশ হারেই রিটার্ন মিলেছে।

এই হিসাব অনুযায়ী, ২৪ বছরে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৫৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের শক্তি এবং বাজার থেকে প্রাপ্ত রিটার্নের ফলে অতিরিক্ত প্রায় ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার সম্পদ তৈরি হতে পারে। ফলে মোট করপাস দাঁড়াবে ৩ কোটি টাকার বেশি।

আরও পড়ুন: প্রভিডেন্ট ফান্ড (Employees Provident Fund Organisation) থেকে টাকা তুলবেন? সময়ের আগে তুললে কত টাকা কর লাগবে জানেন কি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, SIP-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল ‘কম্পাউন্ডিং’। শুরুতে বিনিয়োগের বৃদ্ধি ধীরগতির মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নের উপর রিটার্ন যুক্ত হতে থাকে। ফলে শেষের কয়েক বছরে তহবিল দ্রুত বাড়তে শুরু করে। আর মোট সম্পদের বড় অংশ সেই সময়েই তৈরি হয়।

তবে বাস্তবে অধিকাংশ চাকরিজীবীর আয় প্রতি বছর বাড়ে। সেই সঙ্গে SIP-এর অঙ্কও যদি ধীরে ধীরে বাড়ানো যায়, তাহলে ৩ কোটি টাকার লক্ষ্য আরও দ্রুত অর্জন করা সম্ভব হয়। একইভাবে, বাজারের পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রিটার্ন মিললে আরও কম সময়ে ওই পরিমাণ টাকা জমিয়ে ফেলা যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজার-নির্ভর এবং রিটার্ন নিশ্চিত নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণের আগে নিজের ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Post Comment

You May Have Missed