প্রচন্ডে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এই ফল, দাম ১০০ টাকা প্রতি কিলো

প্রচন্ডে গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এই ফল, দাম ১০০ টাকা প্রতি কিলো

Last Updated:

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এমন সময় একটি বিশেষ ফল শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ও গরমের প্রভাব কমাতে দারুণ সাহায্য করে। বাজারে এখন মিলছে মাত্র ১০০ টাকা কেজি দরে।

+

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে এই ফল!

পুরুলিয়া, শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি: জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বনজ সম্পদ। সেই সব বনজ খাদ্যের মধ্যেই গ্রীষ্মকালে বিশেষ জনপ্রিয়তা পায় ‘কচরা’ ফল। মহুল ফুল ঝরে যাওয়ার পর মহুল গাছে ধরতে শুরু করে এই কচি ফল, যা স্থানীয় মানুষ বহু প্রজন্ম ধরে সবজি হিসেবে রান্না করে খেয়ে আসছেন। বর্তমানে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত পরিচিত এই কচরা ফল সাধারণত কাঁচা অবস্থায় তরকারি, ভাজা বা ঝোল করে খাওয়া হয়। অনেক পরিবার আবার ডাল বা আলুর সঙ্গে মিশিয়েও রান্না করেন। গ্রামাঞ্চলের প্রবীণদের মতে, এই ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, অত্যন্ত পুষ্টিকরও। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, শর্করা ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকায় গরমের সময় শরীরকে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই ফল শরীর ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ বাজারে সকাল থেকেই কচরা ফল কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বহু ক্রেতাও এখন এই বনজ ফলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে বাজারে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কচরা ফল ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও চাহিদা বেশি থাকলে দাম আরও বাড়ছে বলেও জানা গিয়েছে।

এই ফল সংগ্রহের কাজের সঙ্গে মূলত যুক্ত রয়েছেন গ্রামের মহিলারা। ভোরবেলা তাঁরা দল বেঁধে পাহাড়ি জঙ্গল এলাকায় যান এবং মহুল গাছ থেকে কচরা ফল সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলি পরিষ্কার করে স্থানীয় হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। অনেক পরিবারের কাছে এটি গ্রীষ্মের মরশুমে বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে বিক্রেতারা বলেন, তারা বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে এই ফল গাছ থেকে পেড়ে আনেন। মহুল গাছেই হয় এই কচরা ফল। এই সময় এই ফলের বিরাট চাহিদা থাকে। ১০০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হয়ে থাকে এই কচড়া ফল। এই সময় কচরার খুব চাহিদা থাকে। মহুল ফুলের মত কচরা ফলও এই এলাকার মানুষের কাছে খুব পরিচিত।

জঙ্গলমহলের বনজ খাদ্য সংস্কৃতি আজও এই অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। কচরা ফল তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের ভিড়েও প্রকৃতি নির্ভর এই বনজ ফল এখনও মানুষের পাতে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে।

Previous post

Siliguri-Darjeeling Road Jam: NJP থেকে পাহাড় যাওয়ার প্ল্যান? ভয়াবহ যানজটে নড়ছে না গাড়ি, দমবন্ধ অবস্থা! রাস্তায় কেটে যাচ্ছে ঘণ্টার পর ঘন্টা

Next post

Motorbike Accident: নাগেরবাজার উড়ালপুলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, গাড়ির ধাক্কায় নীচে পড়ে মৃত্যু বাইক আরোহীর

Post Comment

You May Have Missed