‘ঘৃণা করি…’, বিস্ফোরক মদন! পুজোয় নিজের কেন্দ্রে যেতে না পেরে আক্ষেপ উগরে দিলেন বিধায়ক
একই সঙ্গে রাজনীতির প্রতি তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দিলেন, আর রাজনীতি করতে চান না তিনি। বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও।
মদন মিত্রের কথায়, “এত চোখের জল কোনও পুজোয় পড়েনি। আমি চারবারের বিধায়ক, অথচ নিজের কেন্দ্রে যেতে পারলাম না। আতঙ্ক, সন্ত্রাস, নিরাপত্তাহীনতার জন্য যেতে পারলাম না। খুনিরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বুঝতে পারলাম, ঈশ্বর ছাড়া কেউ আশ্রয় দিতে পারেন না।”
পুজোর সময় নিজের এলাকায় যেতে না পারার যন্ত্রণা যে তাঁকে গভীর ভাবে আঘাত করেছে, তা স্পষ্ট মদনের কথায়। তাঁর বক্তব্য, এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম পুজোয় নিজের কেন্দ্রে যেতে পারলেন না তিনি। আক্ষেপের সুরে মদন বলেন, “এই পুজো হল আমার সধবার একাদশী। এত দিনের বিধায়ক আমি, এই প্রথম আমি এলাকায় যেতে পারলাম না পুজোয়।” নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও নিজের এলাকায় যেতে না পারার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
‘রাজনীতিকে এখন ঘৃণা করি’, বিস্ফোরক মদন:
রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর কথায়, “এখন রাজনীতিকে আমি ঘৃণা করি। চালের মধ্যে কাঁকড় বেশি।” রাজনীতিবিদদের উপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশ কমছে বলেও মনে করেন তিনি। মদনের কথায়, “মানুষ রাজনীতিবিদদের উপর আস্থা হারাচ্ছে। নেতাদের সহ্য করতে পারছে না। আমি রাজনীতি আর করতে চাই না।”
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মদন। চার মাসের মুখ্যমন্ত্রীকে কেন ফ্লোর টেস্টের কথা বলতে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তাহলে কি দলের মধ্যেই কোনও সন্দেহের বাতাবরণ দানা বেঁধেছে?” যদিও এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঠিক কোন পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি।
মমতা-শুভেন্দুকে বিজয়ার শুভেচ্ছা
রাজনীতির প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেননি মদন মিত্র। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী—দু’জনকেই বিজয়ার শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এ বার উপহার না পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন মদন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুভেচ্ছা জানালাম বিজয়ায়। এবার উপহার পাইনি। হয়তো ভেবেছেন এই মণিহার আমায় নাহি সাজে।”
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক সুস্থতা কামনা করে মদন বলেন, “চাইব অভিষেকের চোখটা ঠিক হয়ে যাক।” সব মিলিয়ে পুজোর আবহে মদন মিত্রের একাধিক মন্তব্যে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত আক্ষেপ, রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
Post Comment