‘নিজেকে বাড়িতে বন্দি করে ফেলেছিল’, যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে স্মৃতিচারণা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের
কলকাতা: লক্ষ্মীপুজোর দিনে মনখারাপ করা খবর, ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন, চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী (Jogen Chowdhury)। বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি, সেখানেই প্রয়াত হয়েছেন শিল্পী। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সকাল ১০.১৫ তে প্রয়াত হয়েছেন যোগেন চৌধুরী। জানা যাচ্ছে, ব্লাড ক্যান্সার ও মূত্রনালীর সংক্রমণ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল তাঁকে। কিডনির সমস্যা থেকে শুরু করে, ফুসফুসেও সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়েছিল তাঁর। গত ১৪ মাস ধরে বিরল ধরনের রক্তের ক্যান্সারে ভুগছেন। চিকিৎসা করছেন হেমাটোঅঙ্কোলজিস্ট তুফানকান্তি দোলাই। এ যাবৎ ৯টা সাইকেল কেমো চলেছে। কিন্তু ৮৭ বছর বয়সে কেমো নিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। দীর্ঘদিন থেকেই মারণরোগের চিকিৎসা চলছিল তাঁর। তবে জীবনের সঙ্গে তাঁর লড়াই হার মানল আজ।
যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা শিল্পজগৎ। কিংবদন্তি শিল্পীর মৃত্যুতে লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (Shirshendu Mukhopadhyay) বলছেন, ‘খুবই দুঃখের খবর, বিশেষ করে আমার কাছে। যোগেন আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু। খুবই কাছের বন্ধু। আমার বাড়ির কাছেই থাকত, ফলে যাতায়াত ছিল। ‘কারুবাসনা’ নামে যে ছোট্ট স্টুডিওটা ও করেছিল, ওখানে আমি বহুবার গিয়েছি। ওও বহুবার এসেছে আমার বাড়ি। খুব সহজ, সরল, দিলখোলা একটা মানুষ ছিল যোগেন। ওর হাসিটা এখনও ভুলতে পারছি না.. এত সহজ সরল হাসি। যোগেন অসুস্থ, এই খবর অনেকদিন আগে পেয়েছিলাম। বুঝেছিলাম, যোগেন চলে যাওয়ার এই দুঃসংবাদটা একদিন না একদিন শুনতে হবেই। শেষের দিকে ও নিজেকে নিজের বাড়িতে বন্দি করে রেখেছিল। যোগাযোগ করত না, মেলামেশা করত না। টেলিফোনও ধরত না। ওর এই প্রয়াণে আমি শোকস্তব্ধ। যোগেন আমায় ওর শান্তিনিকেতনের স্টুডিওতেও নিয়ে গিয়েছিল। ওখানে আমি ছিলামও। কত কত স্মৃতি যোগেনের সঙ্গে। চিরকাল সেগুলো আমার সঙ্গে থেকে যাবে। এত বড় একজন মানুষ, এত বড় একজন চিত্রশিল্পী, কিন্তু ওর কোনও অহংকার ছিল না। লোভ, লালসা খুব কম ছিল ওর। যোগেনের প্রয়াণে একটা বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হল। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। প্রার্থনা করি, যোগেন যেখানেই থাকুক, ভাল থাকুক।’
Post Comment