‘দেশ কি নেতা অ্যায়সা হো…?’ সল্টলেকে রাহুলের পোস্টার! ‘শীতঘুমের নেতা’ কটাক্ষ দিলীপের! খড়্গপুরের চা-আড্ডা থেকে মমতাকে নিশানা মন্ত্রীর
দুর্গাপুজোর ফুটবল খেলা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী এবং এ বার মেয়ে আভেরী সেনকে তলব করেছে কলকাতা পুলিশের লালবাজার। এই প্রসঙ্গে দিলীপের বক্তব্য, নেতাদের ছেলেমেয়েরা বহু দিন ধরেই মেডিক্যাল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসেছে। তাঁর দাবি, তদন্ত শুরু হয়েছে, আরও অনেক তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্তই।
মেটিয়াব্রুজের গণধর্ষণের অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলেছেন দিলীপ। সাত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ‘বেতাজ বাদশা’ গ্রেফতার হবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, তদন্তে সব বিষয়ই সামনে আসবে। যে দোষী, পুলিশ তাকে ছাড়বে না। তাঁর হুঁশিয়ারি, বাংলায় কোনও অপরাধীই প্রভাব খাটিয়ে পার পাবে না।”
এসআইআর নিয়ে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই প্রসঙ্গেও বিরোধীদের একহাত নেন দিলীপ। তাঁর অভিযোগ, জনসমর্থন না থাকলেও বিরোধী নেতারা রাস্তায় নেমে অশান্তি করছেন। দীপাবলির বাজারে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কটাক্ষ, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এই ধরনের কর্মসূচি করছেন বিরোধীরা।
‘দুর্নীতি’, ”তোষণ এবং পরিবর্তনের রাজনীতিকে সামনে রেখে বিরোধীদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন বিরোধী ইন্ডি জোটের বিভিন্ন নেতা। এসআইআর-কে অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর প্রক্রিয়া বলে দাবি করে ইন্ডি জোটকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, জামাত ও ‘দিমাগি নকশাল’দের উপড়ে ফেলার ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই বক্তব্যের সমর্থনে দিলীপের মন্তব্য, বিরোধীরা এখন নিজেদের অস্তিত্ব এবং পরিবার-দলের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই করছেন।
এ দিকে তোলাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত ডেবরার বিজেপি বিধায়ক এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বিধায়ক। ঘটনায় দিলীপের বক্তব্য, নিজেদের মধ্যে কোনও গণ্ডগোল হয়ে থাকলে দল তা খতিয়ে দেখবে। আর হিংসা বা মারামারির ঘটনা ঘটলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। অর্থাৎ, ঘটনার দায় এড়িয়ে না গিয়ে তদন্তের দিকেই নজর রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সল্টলেক জুড়ে ঘুমন্ত রাহুল গান্ধীর ছবি দিয়ে পোস্টার পড়েছে। দেশের নেতা কি এমনই হওয়া উচিত, প্রশ্ন তোলা হয়েছে পোস্টারে। সেই প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে দিলীপ বলেন, রাহুল গান্ধী মাঝেমধ্যেই শীতঘুমে চলে যান। দেশ-বিদেশে কোথায় থাকেন, তার খোঁজ পাওয়া যায় না। হঠাৎ জেগে উঠে বিতর্কিত মন্তব্য করে কয়েক দিন সংবাদমাধ্যমে থাকেন। তাঁর মতে, পোস্টারের ছবিতে রাহুলের রাজনৈতিক কার্যকলাপেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
খড়্গপুর পুরসভায় ভোট পরিচালনা নিয়ে প্রদীপ সরকারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনাও এ দিন খারিজ করেছেন দিলীপ। তাঁর দাবি, প্রদীপ সরকার এসেছিলেন কালীপুজোর উদ্বোধনের আমন্ত্রণ জানাতে। একই সঙ্গে প্রাক্তন চেয়ারম্যান রবি পাণ্ডেও পুজোর উদ্বোধনের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দিলীপের বক্তব্য, খড়্গপুরের প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন পর খড়্গপুর থেকে একজন মন্ত্রী পাওয়ায় এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে। সেই কারণেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখতে চান তাঁরা। তবে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে পুরসভায় ফের তৃণমূলের বোর্ড গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে যে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি তিনি।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন দিলীপ। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে একের পর এক প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্গাপুজো থেকে ফুটবল বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, যে অভিযোগ সামনে আসবে, সরকার ও পুলিশকে তার তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এক কথায়, খড়্গপুরের চায়ের আড্ডা থেকে এ দিন রাজ্যের বিরোধী শিবির এবং একাধিক বিতর্কিত ইস্যুতে একযোগে আক্রমণ শানালেন দিলীপ ঘোষ। মমতার দিল্লি সফর থেকে এসআইআর, দুর্নীতি থেকে আইনশৃঙ্খলা প্রায় প্রতিটি প্রশ্নেই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল রাজনৈতিক আক্রমণ। নির্বাচনের আবহে এই মন্তব্যগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শঙ্কর রাই
Post Comment