‘দেখা করতে চেয়েছিলেন.. বলেছিলেন, ওঁর কথা শোনার কেউ নেই’, অনীক দত্তের প্রয়াণে বলছেন অভিনেত্রী
কলকাতা: অবসাদে ভুগছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)? তাঁর মৃত্যুর পরে বারে বারে উঠে আসছে এই একটাই প্রশ্ন। যদিও পুলিশ বর্ষীয়ান পরিচালকের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করছেন, তারপরেও অধিকাংশ জায়গা থেকেই উঠে আসছে আত্মহত্যার তত্ত্ব। সূত্রের খবর, পরিচালকের মৃত্যুর জায়গা থেকে মিলেছে একটি ‘সুইসাইড নোট’। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।’ যদিও সেই নোট সদ্যমৃত পরিচালকেরই লেখা কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। সেই নোট পরীক্ষা করে দেখছেন হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞেরা। তবে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে, মানসিক সমস্যাতেও ভুগছিলেন অনীক দত্ত।
অনীক দত্তের প্রয়াণে স্মৃতিচারণা ঋতুপর্ণার
পরিচালকের মৃত্যুর পরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেন লিখেছেন, ‘গত সপ্তাহে অনীকদা ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন, উনি দেখা করতে চান একবার। উনি বলেছিলেন, একাকীত্বে ভুগছেন। বলেছিলেন, এখন তাঁর কথা শোনার সময় আর কারও নেই। বলেছিলেন, উনি আর ছবি তৈরি করবেন না। সরি অনীকদা… বুঝতে পারিনি ভিতরে ভিতরে আপনি ভেঙেচুরে যাচ্ছিলেন। বিদায়..’। অনীক দত্তের মৃত্যুতে অবসাদের কথা উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। তাঁর কথায়, ‘কমবেশি অবসাদ আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু সেই অবসাদ থেকে এমন একটা সিদ্ধান্ত… ভাবা যাচ্ছে না। আমাদের কাছের মানুষদের সঙ্গে আমাদের আরও বেশি করে কথা বলতে হবে। আগলে রাখতে হবে। কে কেমন আছে, জানার চেষ্টা করতে হবে। বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কেউ হাসলেও ভিতরে ভিতরে তিনি যে অবসাদে ভুগছেন না… এই কথা কেউ দিতে পারে না।’
অনীক দত্তের প্রয়াণে কী বলছেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
অনীক দত্তের অকস্মাৎ প্রয়াণে বর্ষীয়ান অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Paran Banerjee) বলছেন, ‘যে কোনও মৃত্যুই তো দুঃখের। অনেকের সঙ্গেই তো পরিচয় হয়, দীর্ঘদিন টিঁকে থাকে। কিন্তু সবার সঙ্গে আত্মিক বন্ধন হয় না। তাঁর আদর্শ, মূল্য়বোধ, সমাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর প্রত্যেকটা কাজের মধ্যে দিয়ে প্রতিভাত হত। এইরকম মানুষ পাওয়া যেমন দুর্লভ, এমন বন্ধুত্ব পাওয়াও দুর্লভ। একটা জীবন এমন অকস্মাৎ, অকারণ এমন বিনা মেঘে বর্জ্রপাতের মতো চলে গেল..এগুলোর কী ব্যাখ্যা করব.. কীভাবে এটাকে সহ্যের জায়গায় নিয়ে যাব.. এগুলো ভাবাা মুশকিল হয়ে পড়ে।’



Post Comment