‘দিনের পর দিন এসব মানতে পারছি না’, বিজেপি বিধায়কের নিশানায় রাজ্যের মন্ত্রীই
ব্যারাকপুর : মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে এবার কৌস্তভ বাগচীর সমালোচনার মুখে পড়লেন অর্জুন সিং। “আপনি যদি এই ধরনের ভুল-চুখ করে ফেলেন মাঝে মাঝে, তাহলে সেখানে আমাদের মুখ পোড়ে” বলে নিশানা শানিয়েছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক। তাঁকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী।
কৌস্তভ বাগচী বলেন, “যেখানে মণীশ শুক্লার বাবা মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় উত্তম দাসের নাম লিখছেন, প্রশান্ত চৌধুরীর নাম লিখছেন, তাঁরা যদি আমাদের নেতাদের পাশে বসে ছবি তোলেন, এক মঞ্চে থাকেন, এটা দেখতে ভাল লাগে ? অর্জুনবাবুর প্রতি আমার রাগ, ক্ষোভ কোনওটাই নেই। শুধু হাতজোড় করে অনুরোধ করব, আপনি আমাদের দলের বড় নেতা…আপনি তো আমাদের অভিভাবক। আপনি যদি এই ধরনের ভুল-চুখ করে ফেলেন মাঝে মাঝে, তাহলে সেখানে আমাদের মুখ পোড়ে। জনগণের কাছে আমরা ছোট হই। আমার মনে হয় অর্জুনবাবু এই বিষয়গুলো আস্তে আস্তে শুধরে নেবেন। উনি অনেক বড় মাপের নেতা। আমি এ ধরনের কথাগুলো ওঁকে কীভাবে বলব ? একাধিকবার এর আগে বলেছি। তারপরে আমি জানি না উনি কী বিচারবুদ্ধিতে এগুলো করছেন। আমি এগুলো মানতে পারছি না দিনের পর দিন। ব্যারাকপুরে বিধায়ক আমি। ব্যারাকপুরের মানুষ আমাকে প্রশ্ন করছেন। যে, তোমাদের নেতারা মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় যারা জড়িত তাঁদের নিয়ে মঞ্চে বসে আছেন। ভাল লাগছে না আমাদের এ বিষয়গুলো দেখতে। আমি একথা আপনাকে বলতে পারি, উত্তম দাস-প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপিতে আসতে দেব না।”
কৌস্তভ বাগচীর অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। তিনি বলেন, “বিধায়কের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে রাজি নই। অর্জুন সিং জানে কী করে রাজনীতি করতে হয়।”
২০২০ সালের ৪ অক্টোবর টিটাগড় থানা থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করা হয়েছিল বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লাকে। বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৪ জন জেলে রয়েছেন। নিহত মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা এর আগে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘এটা তো রাজনৈতিক খুন ছিল। মণীশ বিজেপি করত, বিজেপিতে এসেছিল। CID নিজের রিপোর্টে মেনশন করে রেখেছে যে ওঁর( নির্মল ঘোষ) বাড়ির পাশ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। উনি(নির্মল ঘোষ) যেহেতু যুক্ত আছেন, ওঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। মণীশের হত্যা তো বিজেপি করার জন্যই হয়েছিল। বিজেপি সরকারে যদি এর বিচার আমরা না পাই, তাহলে কোন জায়গায় পাব? এ বিচার আমরা নিয়েই ছাড়ব।’
Trinamool Congress | জোড়াফুল প্রতীক কার? মীমাংসার আগে নথি জমার দিনই বিতর্ক
Post Comment