‘ডিজিটালের সময় এটা! সব দেখুন, জানুন…’, বিধায়কদের কর্মশালায় কী পাঠ পড়ালেন ওম বিড়লা?
Last Updated:
Om Birla: বিধানসভার অভ্যন্তরে একজন অধ্যক্ষের ভূমিকা কি? পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিধায়কদের সেই পাঠ দিতেই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার নেতৃত্বে রাজ্যে হাজির সাতজন ভিন্ন রাজ্যের থেকে আসা অধ্যক্ষরা।
কলকাতা: শহরে দু’দিন ব্যাপী বিধায়কদের কর্মশালা। আর সেই কর্মশালার নেতৃত্বে খোদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। শুক্রবার এই কর্মশালা ঘিরেই রাজ্য রাজনীতির কুশীলবদের ছাত্র-শিক্ষক ভূমিকায় দেখা গেল বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে। বিধায়কদের কর্মশালার সূচনা করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, “এই মাটি বন্দেমাতরমের রচয়িতা, রামমোহন, রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, শ্যামাপ্রসাদের মাটি।”
বিধানসভায় প্রথমবার পা রাখা বিধায়ক থেকে পোড় খাওয়া প্রবীণ বিধায়ক, সকলকেই বিধানসভার নিয়ম ও প্রাধ্যায় বোঝালেন লোকসভার অধ্যক্ষ। বিধায়কদের উদ্দেশ্যে ওম বিড়লা এদিন বলেন, “জনগণের ভোটে আপনারা এসেছেন। মানুষের সমস্যার সমাধান করা আপনাদের দায়িত্ব। ১৮১ জন বিধায়ক এখানে নতুন। সংসদীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। বিধায়কের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা বুঝতে হবে। এই রাজ্যের নীতি, আইন, মানুষের চাহিদা মেটানো আপনাদের কাজ। আমরা কেন্দ্রে জনকল্যানকে গুরুত্ব দিই। আলোচনা হোক। সমাধান করুন। আপনাদের বিধানসভার গুরুত্ব বুঝতে হবে। পুরোনো বিতর্ক ও আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। এখানকার বিধানসভার অনেক ইতিহাস। রাজ্য বিধানসভা মানুষের জীবনকে উন্নত করার কাজ করে। যত বেশি আলোচনা, চর্চা, ততই সমাধান করবেন ভাল ভাবে। সব সময় শেখার অভ্যাস রাখুন। নতুন কিছু করার আগ্রহ রাখুন। ডিজিটালের সময় এটা। সব দেখুন, জানুন। ডিজিটাল সংসদের ডিবেট গুলো দেখুন। যত বেশি সময় বিধানসভায় বসবেন, শুনবেন, তথ্য জানবেন তত বেশি অভিজ্ঞতা হবে। নতুনদের আরও বেশি সময় দিতে হবে। এই মাটি সবসময় ঐতিহ্যের।। এই মাটির আধ্যাত্মিক চেতনা, মনীষীদের বিচারধারা, শিক্ষা এই গরিমাকে অক্ষুন্ন করতে হবে। ভারত বাংলার দিকে তাকিয়ে।”
প্রসঙ্গত, বিধায়কদের পাঠশালায় গিয়েও এদিন শুরুতেই অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। জানান, শুধুমাত্র লোকসভার স্পিকার-মুখ্যমন্ত্রীর ‘সৌজন্যে’ শিবিরে যোগ দিলেও প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই ‘ওয়াক আউট’ করেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর কথায় বিধানসভায় না বলতে দেওয়ার অভিযোগই তাঁর এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। কুণালের কথায়, “কার বক্তব্য শুনব, সেটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
অন্যদিকে এদিন শিবির শেষে আরেক বিরোধী বিধায়ক আইএসএফ এর নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, “এই ধরনের কার্যক্রম আগে হয়নি আগে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। তবে এই ধরনের কার্যক্রম হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গত পাঁচ বছর সেই অর্থে বিরোধী দলকে বলতে দেওয়া হয়নি। গত দেড় মাসে নতুন সরকার গঠনের পরেও একই ভাবেই দেখা গিয়েছে বিরোধীদলের কোনও প্রতিনিধি বলতে শুরু করলে শাসকদলের বিধায়করা চিৎকার চেঁচামেচি করেন। কিন্তু আমরা জনপ্রতিনিধি। সাধারণ মানুষের কথা বলতে দেওয়া উচিত শাসকবিরোধী সকলকে বিধানসভার ভিতরে কথা বলতে দেওয়া উচিত।”
Kolkata,West Bengal
Jul 04, 2026 12:10 AM IST




Post Comment