‘ঠিক ওই সময়েই মেসেজ করি, কিন্তু ব্লু-টিক হল না আর..’, ভয়াবহ কথা প্রকাশ্যে আনলেন মাফিন
- শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু বাংলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
- অভিনেত্রী মাফিন তাঁর সঙ্গে শেষবার যোগাযোগের কথা মনে করে শোকপ্রকাশ করেছেন।
- বন্ধুর শেষ ফোন, চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর সময়েই ঘটে দুর্ঘটনা।
- খুনের ঘটনার সময় ফোনে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
কলকাতা: কারও ভাই, কারও দাদা, কারও বন্ধু, কারও আত্মজন.. শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) মৃত্যু কার্যত কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা বাংলাকে। সদ্য নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে, এখনও গঠন হয়নি সরকার। তবে এর মধ্যেই বাংলার দিকে দিকে অশান্তির ছবি সামনে আসছে। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হল, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনাটা। চন্দ্রনাথ সবারই ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠনের আগে, এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
‘ঠিক ওই সময়েই মেসেজ পাঠিয়েছিলাম আমি, ব্লু-টিক হল না…’
একটা সময়ে, বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী মাফিন, সেই সূত্রেই আলাপ চন্দ্রনাথের সঙ্গে। এখনও তিনি মেনে নিতে পারছেন না, দীর্ঘ পরিচিত সেই মানুষটা আর নেই! এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বললেন, ‘আমি গতকালই, ঠিক ওই সময়েই (চন্দ্রনাথের মৃত্যুর সময়ে) ওকে আমি একটা মেসেজ করেছিলাম। কিন্তু মেসেজটা ব্লু-টিক হল না। একটাই টিক হয়ে পড়ে রইল। মেসেজটা পাঠানোর আধ ঘণ্টার মধ্যে ফোন পেলাম, এইরকম একটা ঘটনা ঘটেছে। এত মাটির কাছাকাছি থাকা একটা মানুষ ছিলেন! মন ভেঙে যাচ্ছে খবরটা শুনে।’
‘আয় না রে… চা খাই..’, বন্ধুকে শেষবার বলেছিলেন চন্দ্রনাথ
দলীয় সূত্রেই আলাপ হয়েছিল চন্দ্রনাথের সঙ্গে। লকেট চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘সবসময়েই ওর সঙ্গে কথা হত। শুভেন্দুদাকে ফোন করে যখন না পেতাম, ও-ই কথা বলাত। খুব ভাল ছেলে ছিল, সবার খুব আদরের ছেলে ছিল। সবাই ওকে ভীষণ ভালবাসত। শুভেন্দুদার কাজ করত শুধু।’ বিজেপির মাইনরিটি মোর্চার রাজ্য সভাপতি কাসেম আলি বলছেন, ‘আমার পরম বন্ধু ছিল। আজকে সন্ধে ছটার সময় ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাকে ফোন করে বলল, আয় না রে, আমরা নিজাম প্যালেসে আড্ডা মারি, চা খাই।’ যখন চন্দ্রনাথের সঙ্গে ভয়াবহ ঘটনা যখন ঘটে, তখন ফোনে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক। সেই সময়ে ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। কথা বলতে বলতে, মাঝপথেই কথা থামিয়ে দেন যান চন্দ্রনাথ। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক বলছেন, ‘৯ তারিখ শপথগ্রহণ। অনেকক্ষণ ধরে কথা হচ্ছিল। আচমকা কথা থেমে গেল। গুলির শব্দ অনেকের আওয়াজ।’



Post Comment