জিও IPO-তে বিপুল সাড়া! দ্বিতীয় দিনেই ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রাইব, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ৩.৫ লক্ষ কোটি
মুম্বই: মুকেশ অম্বানির সংস্থা রিলায়্যান্সের ডিজিটাল ও টেলিকম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সাড়া। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির আগে এই পাবলিক ইস্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল আগ্রহ। একের পর এক রেকর্ড গড়ছে JIO IPO। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ গুণ সাবস্ক্রিপশন হয়েছে। বিজয়া দশমীতে IPO খোলার দিনেই বাজিমাত করল, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল ও টেলিকম শাখা, জিও প্ল্যাটফর্মস। মোট চাহিদা সাড়ে ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ ও মুম্বই শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, কোয়ালিফাইড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার্সের ক্ষেত্রে ৯ দশমিক ৬১ গুণ, NII-এর ক্ষেত্রে ৩ দশমিক ১৮ গুণ এবং খুচরো ক্ষেত্রে ১ দশমিক ১৬ গুণ বেশি চাহিদা দেখা গেছে।
২২ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিও IPO মোট ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের মোট চাহিদা ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে ABP Live Business।
৩০,২১৩ কোটি টাকার এই IPO-তে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত এই ইস্যুতে আবেদন করা যাবে। ফলে শেষ দিনে সাবস্ক্রিপশনের পরিসংখ্যানে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
কোন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?
দ্বিতীয় দিনের সাবস্ক্রিপশনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। ২২ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে সাবস্ক্রিপশনের হার ছিল নিম্নরূপ:
– Qualified Institutional Buyers (QIBs): ৯.৬১ গুণ
– Non-Institutional Investors (NIIs): ৩.১৮ গুণ
– খুচরো বিনিয়োগকারী: ১.১৬ গুণ
– সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশন: ৩.৪৭ গুণ
অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ারের তুলনায় অনেক বেশি আবেদন জমা পড়েছে। খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ অংশও নির্ধারিত শেয়ারের চেয়ে বেশি চাহিদা পেয়েছে।
খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য কী অর্থ এই পরিসংখ্যানের?
জিও IPO-র খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশ দ্বিতীয় দিনের দুপুরের মধ্যেই ১.১৬ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। অর্থাৎ, এই শ্রেণিতে বরাদ্দ শেয়ারের তুলনায় বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীর সংখ্যা বরাদ্দের তুলনায় বেশি হলে নিয়ম অনুযায়ী লটারি-ভিত্তিক পদ্ধতিতে শেয়ার বরাদ্দ হতে পারে। তাই IPO-তে আবেদন করলেই শেয়ার পাওয়া নিশ্চিত নয়।
বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে, কোনও IPO-তে বেশি সাবস্ক্রিপশন মানেই তালিকাভুক্তির দিন শেয়ারের দাম বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সংস্থার আর্থিক অবস্থা, শেয়ারের মূল্যায়ন, ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কবে শেষ হবে জিও IPO-তে আবেদনের সময়?
জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO-তে আবেদনের শেষ দিন ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার। দ্বিতীয় দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইস্যুটি ইতিমধ্যেই ৩.৪৭ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে। শেষ দিনে আবেদন বাড়লে সামগ্রিক সাবস্ক্রিপশনের হারও পরিবর্তিত হতে পারে।
Post Comment