উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে ৪ অভিযাত্রীর মৃত্যু, দেহ ফিরল বাঁকুড়ায়, এখনও নিখোঁজ এক
বাঁকুড়া: উত্তরাখণ্ডে ট্রেকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ ৪ অভিযাত্রীর দেহ ফিরল বাঁকুড়ায়। গত কয়েকদিন ধরে গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল ট্রেকিং রুটে এনডিআরএফ লাগাতার তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বাঁকুড়ার শালবনি গ্রামের রিন্টু মন্ডল, তাপস বাউরী, উদয় ঘোষ এবং কেশরা গ্রামের মনোজ খাওয়াসের দেহ উদ্ধার হয়েছে।
আরও পড়ুন, কালীঘাটে ধুন্ধুমারকাণ্ডে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে FIR, পুলিশকে চড় মারার অভিযোগে গ্রেফতার ২
গতকাল দেহগুলি প্রথমে দেরাদুন থেকে দিল্লিতে আনা হয়। পরে দিল্লি থেকে বিমানে দমদম ও আজ সকালে দমদম থেকে সড়কপথে বাঁকুড়ায় নিয়ে আসা হয়। দেহগুলি নিজের নিজের গ্রামে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃত অভিযাত্রীদের পরিবার। শোকস্তব্ধ বাঁকুড়ার শালবনী ও কেশরা গ্রাম। লক্ষ্মীপুজোর আগে বাঁকুড়ার শালবনী গ্রামের ৪ ও কেশরা গ্রামের ১ জন মিলিয়ে মোট ৫ বন্ধু গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতাল পর্যন্ত ট্রেকিং এর উদ্যেশ্যে রওনা দেন। নির্দিষ্ট দিনে গঙ্গোত্রী বেসক্যাম্প থেকে একটি অভিযাত্রী দলের সঙ্গে তাঁরা রওনা দেন। পথে ভয়ঙ্কর তুষারঝড়ে ওই দলের মোট ৮ অভিযাত্রী নিখোঁজ হয়ে যান। তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজে নামে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ ও উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যভিয়েশান ডেভলপমেন্ট বোর্ড। লাগাতার ৬ দিন ধরে উদ্ধার কাজ চালিয়ে মোট ৭ অভিযাত্রীর দেহ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল। এর মধ্যে বাঁকুড়ার ৪ অভিযাত্রীর দেহ চিহ্নিত করে অভিযাত্রীদের পরিবার। এখনও পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি শালবনী গ্রামের অপর অভিযাত্রী রতন ঘোষের।
অতীতেও একাধিকবার ট্রেকিং করতে গিয়ে একাধিক বঙ্গসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। গত দুই বছর আগে, জগদ্দলের কেউটিয়া জগদ্ধাত্রীতলার বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছিল। ৪৮ বছরের সুব্রত প্রামাণিক ইছাপুরের একটি কারখানায় কাজ করতেন। আর কাজের ফাঁকে সময় পেলেই ট্রেকিং করতে বেরিয়ে পড়তেন । আর সেই ট্রেকিংই প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল তাঁর। মূলত, ৬ সহকর্মীর সঙ্গে হিমাচল প্রদেশের মাউন্ট সিঙ্কুন ওয়েস্ট পাহাড়ে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন সুব্রত। সেখান থেকে ২১ তারিখে ট্রেকিং করতে পাহাড়ে ওঠার সময় তিনি শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। বিষয়টি লক্ষ্য করে তাড়াতাড়ি চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে নিচে নামার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানেই মৃত্যু হয়েছি তাঁর। ওইদিন বিকেলে খবর আসতেই এলাকায় নেমে এসেছিল শোকের ছায়া।বন্ধুদের সঙ্গে ট্রেকিং-এ গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল হাবরার ডাক্তারি পড়ুয়ার।পাহাড়ে ওঠার পথে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে তার সমস্যা তৈরি হয়েছিল। হাসপাতালে নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। মাত্র বাইশ বছরে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর।
Lake Kalibari: আলোর উৎসবে প্রস্তুতি সর্বত্র, পুজোর আয়োজনে লেক কালীবাড়ি
Post Comment