আপনার অজান্তেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে টাকা! কী কী করে তা আটকাতে পারেন আপনি?

আপনার অজান্তেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ফুরিয়ে যাচ্ছে টাকা! কী কী করে তা আটকাতে পারেন আপনি?

কলকাতা: আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে তো? বর্তমানে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষেরই একটা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে। আগে যাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল না তাদের অনেকেই প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। ফলে বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ মানুষেরই অন্তত একটা করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের একের বেশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ধরুন কেউ চাকরি করেন; তাঁর একটা স্যালারি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, একটা সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে, এছাড়াও আরও প্রয়োজনে খোলা কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তাঁর থাকতেই পারে। ফলে ঐ ব্যক্তির একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সারা দেশে অনেক মানুষেরই এমন একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর যাদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের জন্য একটা লুকনো সমস্যাও রয়েছে। কী সেই সমস্যা? আপনার এই একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কোনও অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার অজান্তে টাকা ফুরিয়ে যাচ্ছে না তো?

ব্যাঙ্ক থেকে টাকা অনেকভাবেই ফুরিয়ে যেতে পারে। প্রথম হচ্ছে ব্যাঙ্কের একাধিক লুকানো চার্জ থাকে। কিছু কিছু ব্যাঙ্ক তাদের অ্যাকাউন্ট মেনটেনেন্স করার জন্য বছরে একটা চার্জ নেয়। এর সঙ্গে আবার থাকে এসএমএস খরচ, সহ একাধিক খরচ। ফলে, বিভিন্নভাবে ব্যাঙ্ক আপনার থেকে বিভিন্ন চার্জ কাটতে থাকে। যে খরচগুলো সম্পর্কে আমরা সাধারণত জানতেও পারি না। আমাদের স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকেও হয়তো সেই টাকা কাটে বা আমাদের সাধারণ সেলিংস থেকে অ্যাকাউন্ট থেকেও কাটে। কিন্তু যে অ্যাকাউন্টটা অনেক দিন ধরে পড়ে রয়েছে আমরা সেভাবে ব্যবহার করি না, সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে গেলে অনেক সময় হয়তো আমরা বুঝতেও পারি না। আর এখানেই তৈরি হয় সমস্যা।

ধরা যাক, কোনও ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী সেই ব্যাঙ্কে মিনিমাম ডিপোজিট অ্যামাউন্ট হলো ৩ হাজার টাকা। এবার কোনও ব্যক্তি সেখানে হয়তো ৩ হাজার ৫০০ টাকা রেখে দিয়েছেন। এবার কোনও ফি বা কোনও চার্জের কারণে সেই অ্যাকাউন্টে আপনার ব্যালেন্স ৩ হাজারের নীচে নেমে গেল। তখন কী হবে? তখন ব্যাঙ্ক আপনার ওই যে মিনিমাম ব্যালেন্সটুকু পড়ে রয়েছে তার ওপর একটা পেনাল্টি নেবে। এই পেনাল্টিটা মাসে পাঁচশো টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ প্রত্যেক মাসে পাঁচশো টাকা করে ব্যাঙ্ক আপনার ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেবে। পাঁচ মাস বা ছয় মাস পরেই হয়তো আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যাবে।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন বার্ষিক ফি। কোনও ব্যাঙ্ক ক্রেডিট কার্ড মেনটেন করার জন্য বা অ্যাকাউন্ট মেনটেন করার জন্য কিংবা বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন বার্ষিক ফি নেয়। আপনার যদি জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টও হয়, তাহলেও সামান্য কিছু ফি আপনার ব্যাঙ্ক নিয়েই থাকে। আর জিরো ব্যালেন্স না হলে তো একাধিক ক্ষেত্রেই একাধিক ফি নিয়ে থাকে ব্যাঙ্ক। ফলে আপনার ব্যাংকে জমা রাখা মিনিমাম ব্যালেন্স থেকেই এই টাকা কাটতে থাকে। এবার কোনও কারণে সেই ফি কাটতে কাটতে ব্যালেন্স মিনিমাম যে ব্যালেন্স থাক প্রয়োজন, তার কম হয়ে গেলেই পেনাল্টি নিতে থাকে ব্যাঙ্ক। ফলে আবারও ওই ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে যায়। আর আপনি খেয়াল না রাখলেই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কমতে থাকে হু হু করে।

এর পর রয়েছে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি। আপনি ওই অ্যাকাউন্টে ঠিক করে নজর না রাখলে, কোনও ধরণের প্রতারণা হলে তা আপনি খেয়ালও করতে পারবেন না। আর এমন সময় হয়তো তা বুঝলেন, তখন আর হয়তো কিছু করার নেই। আর এই ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকতে আপনার সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নজর রাখুন। মাসে অন্তত একবার নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চেক করুন। দেখে নিন আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোয় ব্যালেন্স ঠিক আছে কি না।

এ ছাড়াও এমন কিছু অ্যাকাউন্ট বা ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট হয়তো আপনার রয়েছে, যা সম্পর্কে আপনার এই মুহূর্তে খেয়াল নেই। এমন হলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার উদগম পোর্টালে আপনি লগইন করেও দেখতে পারেন। কারণ অধিকাংশ ব্যাঙ্কই এই পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত। ফলে, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংখ্যা, রেকারিং বা ফিক্সড ডিপোজিটের সংখ্যা আপনি এখানেই দেখতে পাবেন। ফলে, আপনার বিনিয়োগ ও জমার অ্যাকাউন্ট ট্র্যাকে রাখতে আপনারই সুবিধা হবে।

Post Comment

You May Have Missed