Profitable Farming Idea: ছোট আইডিয়াতেই বাজিমাত, তমলুকের মাটিতে মরুভূমির ‘সোনা’ ফলিয়ে তাক লাগালেন যুবক! খুলল লাভজনক আরবীয় খেজুর চাষের নয়া দিগন্ত
Last Updated:
Profitable Farming Idea: মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির দামি খেজুর এখন বাংলার মাঠেই উৎপন্ন হচ্ছে। ড্রাগন ফলের পর এবার আরবের আজওয়া ও মরিয়ম খেজুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেলেন পূর্ব মেদিনীপুরের খড়িডাঙ্গা গ্রামের এক উদ্যমী চাষি। জলবায়ু পরিবর্তনের বাজারে এই লাভজনক চাষের খুঁটিনাটি জানুন।
তমলুক, সৈকত শী: পশ্চিমবঙ্গের কৃষিজ মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক। যে খেজুরের জন্য আমরা দীর্ঘকাল আরব দেশ কিংবা মরু-অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল ছিলাম, সেই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খেজুর এখন চাষ হচ্ছে ঘরের কাছেই, তমলুকের মাটিতে। এটি কেবল একটি নতুন ফসলের চাষ নয়, বরং রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। প্রথাগত ধারার বাইরে এক সাহসি পদক্ষেপ।
গ্রামীণ বাংলায় খেজুর গাছ আমাদের পরিচিত দৃশ্য। শীতের সকালে খেজুরের রসের হাঁড়ি কিংবা গুড় তৈরির চিরাচরিত ছবি বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু সেই স্থানীয় খেজুর এবং বাজারে জনপ্রিয় আরব দেশীয় আজওয়া, মরিয়ম, মেজদুল খেজুরের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয় জাতের খেজুর সাধারণত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চাষ হয় না। এতকাল বাজারের অধিকাংশ উন্নতমানের খেজুর আসত সুদূর মরু-অঞ্চল থেকে। সেই প্রথা ভেঙে এখন তমলুকের মাটি দেখাচ্ছে নতুন পথ। মরুভূমির উত্তপ্ত জলবায়ুর ফসল আমাদের এখানকার মাটিতে সফলভাবে চাষ করে দেখালেন তমলুক ব্লকের খড়িডাঙ্গার গ্রামের সুব্রত মণ্ডল।
মরু-অঞ্চলের খেজুরের চাহিদা বাজারে আকাশছোঁয়া। নিজস্ব জমিতে এই চাষ সম্ভব হলে কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। খেজুর গাছ প্রাকৃতিকভাবেই কম জলে এবং বেশি তাপমাত্রায় টিকে থাকতে সক্ষম। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে, সেখানে এই ধরনের ফসল চাষ অনেক বেশি নিরাপদ ও লাভজনক। আরবীয় খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং বিশ্বজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের স্থানীয় জমিতে এই মানের ফলন স্থানীয় বাজারেও উন্নতমানের খেজুরের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করবে।
ভবিষ্যতের হাতছানি তমলুকের মাটিতে এই আরবীয় খেজুরের সাফল্য অন্য কৃষকদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সঠিক চাষবাসের ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগে যে মরুভূমির ফসলকেও বাংলার মাটিতে সোনা হিসেবে ফলান সম্ভব, তা এখন প্রমাণ করলেন এই কৃষক। সুব্রত মণ্ডলের কথায়, “তিনি আগে ছোটখাটো একটি ব্যবসা করতেন। সেইসঙ্গে ছোটবেলা থেকেই চাষবাসের প্রতি ভাল লাগা ছিল। সেই ভাল লাগা থেকে প্রথাগত চাষবাসের বাইরে প্রথম ড্রাগন চাষ করেন। এবার সেই মাটিতেই আরবীয় খেজুর গাছ লাগান হয়েছিল। তাতেই খেজুর হচ্ছে। এই খেজুর সাধারণত মরু অঞ্চলে হয়।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে ঘুরে আসার পর এই আরবীয় খেজুর চাষ করার চিন্তা ভাবনা মাথায় আসে। কারণ সেখানে দেখেছিলেন বাংলাদেশের মাটিতে আরবীয় বিভিন্ন খেজুরের চাষ হচ্ছে। সেই থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নিজের অন্যান্য চাষের সঙ্গে সেই জমিতে এই খেজুর গাছ লাগিয়ে ছিলেন। আর তাতেই অভাবনীয় সাফল্য। সামনের বছর থেকে আরও বড় আকারে এই খেজুরের চাষ তিনি করবেন বলে জানা যায়। মরু-অঞ্চলের এই খেজুর গাছ তমলুকের মাটিকে শুধু সমৃদ্ধ করছে না, বরং বাংলার কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষির দিকে পা বাড়াতে অনুপ্রাণিত করছে। এটি কেবল খেজুরের চাষ নয়, বরং কৃষিতে নতুন উদ্ভাবনের এক সফল জয়যাত্রা।
Purba Medinipur,West Bengal
Profitable Farming Idea: ছোট আইডিয়াতেই বাজিমাত, তমলুকের মাটিতে মরুভূমির ‘সোনা’ ফলিয়ে তাক লাগালেন যুবক! খুলল লাভজনক আরবীয় খেজুর চাষের নয়া দিগন্ত



Post Comment