হুমায়ুনকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, কী বললেন নৌশাদ ?

হুমায়ুনকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, কী বললেন নৌশাদ ?

কলকাতা : আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চরমে। এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁকে সতর্ক করে দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই সতর্কবার্তা বা হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য নিয়ে কী ভাবছেন আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি ?

বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় এ প্রসঙ্গে নৌশাদ বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি যে ভাষায় কথা বলেছেন যে জিরো টলারেন্স বা এই ধরনের আপত্তিকর বক্তব্যকে তিনি সমর্থন করেন না, সেটা যেন প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই হয়। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে যদি হয় তাহলে অবশ্যই সমর্থন না করে যেতে পারি না। কোনও জায়গায় গিয়ে বলছে, এখানে হালাল মাংস বিক্রি করতে দেব না। তাঁর ক্ষেত্রেও যদি মুখ্যমন্ত্রী একই পদক্ষেপ নেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে এই বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাব। তবে, একটা কথা..হুমায়ুন কবীর সাহেব যেটা বলছেন যে এত মুসলমানকে নিয়ে নামব…এটা তিনি মুসলমানদের যেটা জড়াচ্ছেন এর সঙ্গে, এর আমি বিরোধিতা করছি। আপত্তিকর বক্তব্য আমি কোনওদিন দিইনি। কেউ যদি আপত্তিকর বক্তব্য দেন…তিনি যোগী আদিতত্যনাথ হতে পারেন, আর যে কেউ হতে পারেন বা হুমায়ুন সাহেবও হতে পারেন, আমি সেই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত নই।”

কী বলেছেন হুমায়ুন কবীর ? তাঁর সেই বক্তব্য বিধানসভায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানকার একাধিক বিধায়ক তুলে ধরেছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দু’টি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সমাজ ও রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বক্তব্যের উপরে। হুমায়ুন কবীর যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি আপনাদের কাছে পড়ে শোনাচ্ছি। গত ২৬ তারিখে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে কাশীপুরে ওঁর পার্টির একটি মিটিং করেছিলেন। সেখানে তিনি বলছেন, এই যে অনামিকা ঘোষ সে ভোটে হেরে মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে, তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে খুব ভাল কথা। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন সাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। কেস এরকম কেস আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ঢোকে না। লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর সাটা ভাঙ মার দেব, আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন, কত খাওয়াতে পারবেন দেখব। লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায় না, মাথাটা যেদিন গরম হয়ে যায় সেদিন আমি এসপি বুঝব না। চিফ মিনিস্টারেও বুঝব না। আর কে কোথায় থাকল, আর কে কোথায় থাকল না, ওসব বুঝব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়াব। এটা ঘটনা ওয়ান। ঘটনা ২, শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে। ৮ তারিখে । সেখানে উনি বলছেন, ভোটের আগের দিন আমার নিজের ভাইপোকে গ্রেফতার করেছেন এই ওসি। এই…বাচ্চাকে আগে দেখব। এই… বাচ্চাকে এমন শিক্ষা দেব, এর বাবা চোদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে দেব। এ লালগোলায় ৫০০ মুসলমানের লাইফ শেষ করে দিয়ে এসেছে। সত্যভাবে বলব, এই ওসিকে এখান থেকে সরানো শুধু না। একেবারে অকেজো পোস্টিং দিতে হবে। যদি না দেয়, ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে, একে গলা ধরে থানা থেকে বের করব। পারলে আমাকে রুখে নেবেন।”

এরপরই নওদার বিধায়ককে সতর্ক করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিধানসভায় স্পষ্ট মন্তব্য করেন, এই দুটো ঘটনার পরে আমার মনে হয়েছে, এনাফ ইজ এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর। আপনাকে আমি পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন। আমি আপনাকে বলে গেলাম, আমরা দু’টো এফআইআর শুরু করেছি। রেজিনগর থানা ও শক্তিপুর থানায়। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি। আপনি মুখে যেগুলো বলেছেন, আপনাকে আমি বলে গেলাম, আপনি কেন করছেন আমি জানি। রাজনৈতিক কারণটা আমি জানি। আপনার দু’টো এজেন্ডা আছে। আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এইভাবে ধমক-হুমকি-বেপরোয়া-লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না।” বিধানসভার সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জানান, “আপনি ধরে রাখুন, এটা ওঁর শেষ বক্তব্য।”

Post Comment

You May Have Missed