Siliguri News : গাছে যেন ঝুলছে কাশ্মীরি আপেল… ছোট টবে উপচে পড়ছে ফল! বাড়িতেই প্রদর্শনী
Last Updated:
বর্তমানে প্রায় ছয় থেকে সাত ফুট উঁচু এই গাছ ঝোপঝাড়ে ভরে উঠেছে। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়, আর সেই সময় থেকেই বাড়তি যত্ন নেন তিনি। পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সামান্য ওষুধ ব্যবহার করেন।
শিলিগুড়ি, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: শিলিগুড়ির তেলিপাড়া এলাকায় এক সাধারণ বাড়ি এখন যেন ছোটখাটো প্রদর্শনী কেন্দ্র। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কাশ্মীরি আপেল ঝুলছে গাছে—সবুজ ও হালকা হলুদ রঙের মাঝারি আকারের ফল। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়, এটি আপেল নয়, ‘আপেল কুল’। স্বাদে হালকা মিষ্টি, অনেকটা বাউকুলের মতো। এই অদ্ভুত ফলগাছ এখন এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।
২০২৩ সালে ইসলামপুরে আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছোট টবের মধ্যে ফলভর্তি গাছ দেখে মুগ্ধ হন সুনীল বসাক। সেখান থেকেই একটি কলম কেটে এনে নিজের বাড়িতে টবে লাগান। কোনও রাসায়নিক সার নয়, শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে যত্নে বড় করেন গাছটি। এক বছরের মধ্যেই ফুল আসে, আর কিছুদিনের মধ্যেই ফল ভরে ওঠে পুরো গাছ। সুনীল বসাক বলেন, “ইসলামপুরে গিয়ে প্রথম এই গাছটি দেখি। খুব ভালো লেগেছিল, তাই একটি কলম নিয়ে এসে টবে লাগাই। এক বছরের মধ্যেই ফুল আর ফল দেখতে পাই। এখন প্রতি বছর ২০–২৫ কেজির বেশি ফল হয়, আর প্রতিটি কুলের ওজন ২০০ গ্রামেরও বেশি।”
বর্তমানে প্রায় ছয় থেকে সাত ফুট উঁচু এই গাছ ঝোপঝাড়ে ভরে উঠেছে। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়, আর সেই সময় থেকেই বাড়তি যত্ন নেন তিনি। পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সামান্য ওষুধ ব্যবহার করেন। প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা এখন তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সুনীলবাবু আরও বলেন, “প্রতিদিন অনেক মানুষ বাড়িতে আসছেন এই আপেল কুল দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাড়ছেন। ভিডিওগুলো ভাইরালও হয়েছে। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে এই গাছ নিয়ে প্রদর্শনীতেও অংশ নিতে চাই।”
সব মিলিয়ে, এক টবের ছোট্ট কলম থেকে শুরু হওয়া সুনীল বসাকের এই ‘আপেল কুল’ আজ তেলিপাড়ার হট টপিক হয়ে উঠেছে। যত্ন, ধৈর্য আর ভালবাসা থাকলে ঘরের আঙিনাতেও যে চমক সৃষ্টি করা যায়, তারই প্রমাণ এই গাছ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই সবুজ বিস্ময় এখন শুধু একটি ফলগাছ নয়, বরং শিলিগুড়ির এক অনন্য আকর্ষণ।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal



Post Comment