রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ‘কর্মসংস্থানের ত্রিধারা’, আমজনতার জন্য কী কী সুবিধা?
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আজ ২২ জুন সোমবার ছিল সেই সরকারের প্রথম বাজেট পেশ। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশ করেছেন এদিন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কর্মসংস্থানের ‘ত্রিধারা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এবারের রাজ্য বাজেটে রয়েছে কর্মসংস্থানের ত্রিধারা বা ত্রিশক্তি
প্রথম হচ্ছে, সরকারি কর্মসংস্থান। শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী, সরকারের শূন্য থাকা পদ, পুলিশ, বনকর্মী ইত্যাদি ইত্যাদি। রাজ্য বাজেটে বলা হয়েছে এই অর্থবর্ষে ১ লক্ষ নতুন নিয়োগ হবে। ২০ হাজার পুলিশে এবং ৫০ হাজার শিক্ষিক, শিক্ষিকা, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী এবং অন্যান্য যাঁরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সেবা প্রদান করেন, বাকি ৩০ হাজারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি অফিস ডাকাইতি চুক্তিভিত্তিক অপারেটরদের দ্বারা চলছে, সেখানেও যে যে দফতরে যেমন যেমন শূন্যপদ রয়েছে, সেই অনুযায়ী পূরণ করা হবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন নিয়োগ কমিটিতে কোনও রাজনৈতিক লোক থাকবে না। পশ্চিমবঙ্গ ইউপিএসসি- কে অনুসরণ করবে। চাকরি দুর্নীতির থেকে আগামী দিনে বেকার যুবক যুবতীরা, আগামী প্রজন্ম রক্ষা পাবে।
দ্বিতীয় দিক, বেসরকারি শিল্প। ফুড প্রসেসিংয়ে এমএসএমই আছে। সেখানে ব্যাপক বিনিয়োগের উদ্দেশ্যেই ল্যান্ড সেলিংয়ের পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, তাঁরা পঞ্চায়েত বা লোকাল বডি- র থেকে কোনও অনুমতি নিতে হবে না। স্থানীয় স্তরে যে হয়রানি হয় তার থেকে মুক্তি পাবেন যাঁরা ন্যূনতম ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন। আগের সরকার শিল্পে ইনসেনটিভের ব্যাপার তুলে দিয়েছিল। এই সরকার তা ফিরিয়ে আনল। ৫ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব রয়েছে। এই টাকা মূলত কর্মসৃষ্টি সংক্রান্ত কাজ যাঁরা করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেবে এই সরকার। আমাদের এখন বিভিন্ন ফল এবং সবজির ফুড প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে। এইসব ক্ষেত্রে এমএসএমই- র নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
তৃতীয় দিক, ব্যবসা এবং ভর্তুকি কেন্দ্রিক। শিক্ষিত যুবক, যুবতীরা বা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ নেওয়া যাঁরা ছোট-মাঝারি ব্যবসা করতে চান তাঁদের প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, বিশ্বকর্মা এইসব প্রকল্পের মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য সরকার অনেকটা দায়িত্ব নিয়েছে যা বাজেটের ছত্রে ছত্রে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই তিনভাবে আমাদের রাজ্যে কর্মসংস্থানের দিগন্ত উন্মোচিত হবে রাজ্যে। এর সুফল আগামী ৬-৮ মাসের মধ্যেই আপনারা দেখতে পাবেন। সবকিছুর একটা প্রক্রিয়া থাকে, কিছুটা সময় লাগে।
Suvendu Adhikari: ‘৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে, যাঁরা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবে’,বললেন মুখ্যমন্ত্রী



Post Comment