একাধিক জেলায় নতুন বিমানবন্দর প্রকল্পের ঘোষণা রাজ্য বাজেটে, তালিকায় কোন কোন জেলা?
West Bengal
-Ritesh Ghosh
পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ পরিকাঠামোয় এক বড়সড় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম বাজেটে। জেলাস্তরে বিমান যোগাযোগের সম্প্রসারণ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। কলকাতা বিমানবন্দর ও বাগডোগরার ওপর চাপ কমাতে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংযোগ বাড়াতে জেলা স্তরে চারটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক বিমান নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে।
রাজ্যের এই নতুন বাজেটে সরকার আনুমানিক ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রেখেছে। এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা মূলত কলকাতা ও শিলিগুড়ির বাগডোগরা-কেন্দ্রিক ছিল। ফলে রাজ্যের অন্যান্য জেলার বাসিন্দাদের জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যাতায়াত করার জন্য দীর্ঘ সড়ক বা রেল পথের উপর নির্ভর করতে হতো।

অর্থ বাজেট অনুযায়ী, কেন্দ্রের ‘উড়ান’ প্রকল্পের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদহে সম্পূর্ণ নতুন বিমানবন্দর তৈরি করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের অধিবাসীদের সুবিধার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যুগান্তকারী ভূমিকা গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই তিনটি নতুন বিমানবন্দর ছাড়াও উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোচবিহার বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ প্রস্তাব আনা হয়েছে। একই সঙ্গে, জাতীয় সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হাসিমারা এবং কলাইকুণ্ডায় বিমান চলাচল ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পরিকাঠামো আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বিশেষ জমি বরাদ্দ করা হবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে সীমান্ত এলাকাগুলির যোগাযোগও অনেক উন্নত হবে।
কলকাতা বিমানবন্দরের যাত্রী চাপ সমস্যার সমাধান করতে এবং কলকাতার কাছাকাছি দ্বিতীয় একটি বড় বিমানবন্দর তৈরির জরুরি প্রয়োজনের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই উদ্দেশ্যে নদিয়ার কল্যাণীর কাছে একটি সম্পূর্ণ ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই বৃহৎ প্রকল্পের জন্য জমি চিহ্নিতকরণের কাজ রাজ্য সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুরু করবে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই নতুন গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরটি নির্মাণের উদ্দেশ্যে কল্যাণীর কাছে আনুমানিক ১০০০ থেকে ১৫০০ একর জমি শনাক্ত বা চিহ্নিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভূমি ও রাজস্ব দফতর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা শুধুমাত্র কলকাতার বিমানবন্দরের ওপর বাড়তি চাপই কমবে না, বরং নদিয়া ও সংলগ্ন জেলার অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে যাবে।
আকাশপথের পাশাপাশি রাজ্যের স্থল ও জলপথের পরিকাঠামোতেও আমূল রূপান্তরের একগুচ্ছ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেটে। কলকাতায় মেট্রো রেলের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার জেলাস্তরের বড় শহরগুলিতে দ্রুতগতির আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী ভাবনা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর, আসানসোল এবং উত্তরবঙ্গের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র শিলিগুড়িতে নতুন মেট্রো করিডোর চালুর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে মেট্রো রেল চালুর উপযোগিতা এবং রুটের নকশা প্রস্তুত করার জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা বা নতুন ফিজিবিলিটি সার্ভে করা হবে। এই সমীক্ষা রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী স্তরের পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে রাজ্য। এর ফলে জেলার মেট্রোপলিটন এলাকাগুলির যানজট যেমন কমবে, তেমনই দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যের যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে সাধারণের জন্য।
যানবাহনের পাশাপাশি জলপথ পরিবহনের ক্ষেত্রেও আধুনিকীকরণের ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমার কারণে নদিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলে গঙ্গা তথা হুগলি নদীর নাব্যতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করছে। এই জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত প্রাকৃতিক সঙ্কট কাটাতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একটি অত্যন্ত আধুনিক ক্ষমতার নতুন সমুদ্র বা জলপথ বন্দর নির্মাণ করার বড় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।



Post Comment