তোলা যাবে না টাকা, তৃণমূল কংগ্রেসের ৩টি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ করল পুলিশ

তোলা যাবে না টাকা, তৃণমূল কংগ্রেসের ৩টি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ করল পুলিশ

কৃ্ষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের HDFC ব্যাঙ্কের ৩টি অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা যাবে না টাকা। ৩টি অ্যাকাউন্টের ডেবিট ফ্রিজ করল পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে।

অ্য়াকাউন্ট বিতর্কে আরও চাপে পড়ল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। আগেই ব্য়াঙ্ককে চিঠি দিয়ে অ্য়াকাউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। এরপর ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর বিধায়কও বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানায় ওই একই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বেআইনিভাবে পাওয়া অর্থ জমা রয়েছে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে। আর সূ্ত্রের খবর, এই প্রেক্ষাপটেই তদন্তের স্বার্থে HDFC ব্য়াঙ্কে তৃণমূলের নামে থাকা ৩ টে অ্য়াকাউন্টে ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করল পুলিশ। অর্থাৎ এই অ্য়াকাউন্টগুলি থেকে আপাতত টাকা তোলা যাবে না। এই ৩টি অ্য়াকাউন্টে রয়েছে ৪৪০ কোটি টাকা। এর বাইরে তৃণমূলের আর যে অ্য়াকাউন্ট রয়েছে, তাতেও ‘ডেবিট ফ্রিজ’ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্রের খবর।

গত দুদিন ধরে তৃণমূলের অ্য়াকাউন্ট নিয়ে বিতর্ক চলছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কোষাধ্য়ক্ষ হিসাবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন করে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়েছিলেন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। এরপরই, দলের অ্যাকাউন্টে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনেন ঋতব্রত-পন্থী বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক। সূত্রের খবর, এই সংখ্যাটা ১০ জন। 

 

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ জানানো হয় ঋতব্রত-তৃণমূলের এই বিধায়কদের তরফে। সাইবার ক্রাইম বিভাগকে দেওয়া চিঠিতে ৩টি অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ করে স্পষ্টভাবে বলা হয়, বিশ্বাসযোগ্য সূত্র ও পারিপার্শ্বিক অগ্রগতি থেকে এটা জানা গেছে যে, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে বেআইনি কার্যকলাপ, বেআইনিভাবে টাকা তোলা, অসৎ উপায়ে আর্থিক লেনদেন হওয়া টাকা এই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা পড়ে থাকতে পারে। এই তিনটি অ্যাকাউন্টই রয়েছে HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা ব্রাঞ্চে।

আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে, HDFC ব্যাঙ্কের এই ব্রাঞ্চে থাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্টই ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাসও। 

এরপর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশকে চিঠি দেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর একাধিক বিধায়ক। এই চিঠিকে এফআইআর হিসাবে গ্রহণ করার আবেদন করে তদন্তের দাবিও তোলেন অভিযোগকারী ঋতব্রত-তৃণমূল-এর বিধায়ক। ঋতব্রত-তৃণমূল-এর এই বিধায়কদের তরফে চিঠিতে আরও বলা হয়, অ্যাকাউন্টে ঢোকা এই টাকার উৎস কী ? কারা এর সঙ্গে যুক্ত ? তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তাঁদের কাছে নেই। ঋতব্রত-তৃণমূল-এর বিধায়ক তাঁর চিঠিতে এও লিখেছেন, তদন্তের স্বার্থে যে কোনও রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। 



Post Comment

You May Have Missed