West Medinipur News: বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের দাপটে কোনঠাসা বাঁশের ঝুড়ি -কুলো, মুখে হাসি ফোটায় ধান কাটার মরশুম! খেটে খাওয়া শিল্পীদের কঠিন লড়াই

West Medinipur News: বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের দাপটে কোনঠাসা বাঁশের ঝুড়ি -কুলো, মুখে হাসি ফোটায় ধান কাটার মরশুম! খেটে খাওয়া শিল্পীদের কঠিন লড়াই

Last Updated:

West Medinipur News: বাঁশের ঝুড়ি, কুলো তৈরি করেই চলে যায় তাঁদের জীবন। বছরের দু-একটা সময় আর্থিক স্বচ্ছলতা এলেও, বেশিরভাগ সময় টেনেটুনে চালাতে হয় সংসার। ধানা কাটার মরশুমে বাড়ে কুলো ও ঝুড়ির চাহিদা। তাই বাড়তি লাভের আশায় থাকে অতিরিক্ত ব্যস্ততা।

+

বাঁশের ঝুড়ি তৈরি করছেন এক মহিলা

মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে প্রতিদিন সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। টেক্কা দিতে হয় বিজ্ঞানের সঙ্গে। সভ্যতার উন্নতিতে একদিকে যেমন মানুষের ব্যবহারে এসেছে বদল, তেমনই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ধরন ও বদলাচ্ছে। চাহিদা কমেছে বিভিন্ন পুরনো দিনের ব্যবহার্য জিনিসের, বদলাচ্ছে মানুষের রুচি। তবে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে বাঙালির নির্দিষ্ট উৎসবকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহলে এই সকল খেটে খাওয়া মানুষের  হাতে তৈরি নানান জিনিস বিক্রি হয় ভালই। জেলার এক প্রান্তিক গ্রামীণ এলাকায় বহু মানুষ ঝুড়ি তৈরি করে নিজেদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহর থেকে অনতি দূরে ছোট্ট একটি গ্রামের মানুষজনের আয়- রোজগারের উৎস চালা বা কুলো তৈরি, কিংবা বাঁশের ঝুড়ি তৈরি।

সারা বছর সামান্য বিক্রি হলেও মূলত কালীপুজো এবং মকর সংক্রান্তির সময়ে বিক্রি হয় ভাল। যা তাদের প্রায় সারা বছরের এক রোজগারের পথ। তবে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত তারা সময় ও সভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছেন। দিনের পর দিন চাহিদা কমছে, অন্যদিকে বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের রমরমার কারণে রোজগার কমছে এই সকল মানুষদের। তবুও মেদিনীপুর শহর থেকে অনতি দূরে বেলিয়া এবং বেলিয়া ভূঁইয়া হাতা দুই গ্রামে রোজগারের উৎস কুলো কিংবা ঝুড়ি তৈরি। সারাদিন বাড়ির পুরুষদের সঙ্গে মহিলারাও হাত লাগান। এ থেকে যা রোজগার হয়, তাতেই চলে তাদের সংসারের খরচ। তবে দিনের পর দিন সেই রোজগার ক্রমশ কমছে। তবে বছরে নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি হয় ভাল।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার আগের গর্বের হাসপাতাল পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে, বন্ধ ইনডোর পরিষেবা! প্রশাসনের দরবারে হাল ফেরানোর দাবি

কালীপুজোর পর থেকে ধান কাটার কারণে বিক্রি হয় চালা কিংবা কুলোর। অন্যদিকে ঝুড়ি কিংবা কুলো ভাল বিক্রি হয় মূলত মকর সংক্রান্তিতে। এতেই যেন তাদের সারা বছরের রোজগার হয়। বাঁশ কিনে এনে বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাকে কুলো বা ঝুড়ি বানান এলাকার মানুষ। একটি বাঁশকে কেটে তাকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হাতের নিপুণতায় বানিয়ে তোলেন কুলো। মূলত ধান কাটার মরশুমে, ধান ঝাড়া সহ একাধিক কাজে ব্যবহৃত হয় এই কুলো। একইভাবে পানসহ অন্যান্য জিনিস বহন করার কাজে ব্যবহার করা হয় চালা অথবা ঝুড়ি। জানা যায় একটি বাঁশ কিনতে খরচ হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ঘরে বসে হাতের শিল্প শৈলীতে বানিয়ে তোলেন একাধিক ছোট বড় ঝুড়ি।

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

একটি বাঁশ থেকে প্রায় পাঁচটি বড় ঝুড়ি তৈরি হয়। দাম রয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। স্বাভাবিকভাবে একটি বাঁশ ফাটিয়ে তার থেকে ঝুড়ি বুনে প্রতিমাসে বেশ রোজগার হয় তাদের। তবে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রি বেশ। বর্তমান সময়ে পুরুষ এবং মহিলারা প্রতিমাসে বেশ কয়েক হাজার টাকা রোজগার করছেন। প্রতিমাসে রোজগার সমান না হলেও শীতের সময়ে বিক্রি বাড়ে। স্বাভাবিকভাবে বছরে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট উৎসব কেন্দ্র করে জঙ্গল মহলে এই সকল মানুষদের রোজগার হয়। সারা বছর তথৈবচ অবস্থায় চললেও এই সময় রোজগার হয় তাদের। সরকারিভাবে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তারা, যাতে এই দুর্মূল্যের বাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারেন।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/

West Medinipur News: বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের দাপটে কোনঠাসা বাঁশের ঝুড়ি -কুলো, মুখে হাসি ফোটায় ধান কাটার মরশুম! খেটে খাওয়া শিল্পীদের কঠিন লড়াই

Post Comment

You May Have Missed