তৃণমূল-ISF হাতাহাতি, ক্ষোভের মুখে নৌশাদ সিদ্দিকি, তবু ভাঙড় সাক্ষী থাকল বেনজির ভোটের
ভাঙড়: কোনও বোমাবাজি নয়, খুনোখুনি নয়, রক্তপাত নয়। ভাঙড় সাক্ষী থাকল এক অন্য ভোটের। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিতেই মিটল সেখানকার ভোট। উৎসবের মেজাজে ভোট দিলেন ভাঙড়ের বাসিন্দারা। তবে এসবের মাঝে প্রাণগঞ্জে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল ও ISF কর্মী-সমর্থকরা।
ভয়, সন্ত্রাস, বোমা-গুলি ও খুনোখুনি। এতদিন ভোট মানেই এই ছবিগুলো চেনা ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে। কলকাতা পুলিশের অধীনে আসার পরও ছবিটা বদলায়নি সেভাবে। এমনকী সম্প্রতি বিস্ফোরণ, বোমা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে এই ভাঙড়েই।
তদন্ত করছে NIA।
তবে বুধবার দেখা গেল এক অন্য ভাঙড়কে। প্রতি ভোটেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভাঙড়, বোমা পড়ে, প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু এবার শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে ভাঙড়ে। ভাঙড়ের এক ভোটার আকির আলি মল্লিক বলেছেন, ‘শান্তিতে ভোট হচ্ছে। কোনও ঝামেলা হচ্ছে না।’
ভোটকর্মী সুব্রত ঘোষ বলেছেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, গন্ডগোল হবে, কিন্তু খুব ভাল ভোট হয়েছে।’
তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেও কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। কখনও ক্ষোভের মুখে পড়লেন ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি। কখনও হাতাহাতিতে জড়ালেন তৃণমূল ও ISF-এর কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠি চালাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ভাঙড়ে তৃণমূল-ISF হাতাহাতি। পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ। এদিন ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি প্রাণগঞ্জের দিঘির পাড় এলাকায় ২৩৪ নম্বর বুথ পরিদর্শনে গেলে, তাঁকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। এরপরই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। নৌশাদ সিদ্দিকিকে দেখে স্লোগান। ভাঙড়ে তৃণমূল-ISF হাতাহাতি।
তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভাঙড়ের ISF প্রার্থী নৌশাদ সিদ্দিকি বলেছেন,
‘২৩-এ এদেরকে ভোট দিতে দেয়নি। ২০২৪-এ এদেরকে ভোট দিতে দেয়নি। ২৬-এ সুযোগ পেয়েছে। আসল ভাঙড় এটাই। বম্ব-গুলি-পিস্তলকে চাই না।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সওকত মোল্লার বিরুদ্ধে আপনার কী অভিযোগ? নৌশাদ বলেন, ‘উনি আসার পরেই তো ভাঙড়ে হিংসা শুরু হয়েছে। ওঁর দলের লোকরাই তো করছে।’
আরও পড়ুন: রাজ্যে পালাবদল? ক্ষমতায় আসছে BJP? নাকি মসনদে ফের TMC? কী ইঙ্গিত পোল ডায়েরির এগজ়িট পোল?
এদিন জাগুলগাছিতে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন নৌশাদ সিদ্দিকি। তর্কাতর্কিতে জড়ালেন নৌশাদ সিদ্দিকি। এক তৃণমূল কর্মী নৌশাদকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনাকে তো খুঁজেই পাওয়া যায় না।’ নৌশাদ সিদ্দিকি পাল্টা বলেন, ‘মারবে নাকি? মারবে তার জন্য? মারো মারো মারো।’ তৃণমূল কর্মী বলেন, ‘মারার কী আছে?’ নৌশাদ সিদ্দিকি ফের বলেন, ‘মারবে নাকি? মারো দু’ঘা। চর্বি জমে যাচ্ছে। নাকি? হ্যাঁ? শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। পাকামো হচ্ছে, হ্যাঁ? জাগুলগাছি অঞ্চলে আমি প্রায় ৩০ লাখ টাকার কাজ করেছি।’
ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সওকত মোল্লা বলেন, ‘এই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান যখন দেয়, তখন বিজেপি নেতাদেরও একটু কষ্ট হয়। স্বাভাবিক কারণে বিজেপির সবচেয়ে বড় দালাল এই বাংলাতে যদি কেউ থাকে, তাঁর নাম হচ্ছে নৌশাদ সিদ্দিকি, তাঁর ভাই আব্বাস সিদ্দিকি। পিছনের দরজা দিয়ে যারা এখানে বিজেপিকে ঢোকাতে চায়।’
আরও পড়ুন: চমকে দেওয়ার মতো এই সমীক্ষার ফল! সবার থেকে আলাদা! কী বলছে ‘পিপলস পালস-এর Exit Poll’?
ইতিমধ্যেই ভাঙড়ের দুটি ঘটনার তদন্তভার NIA-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিনও সেখানকার ঘটকপুকুরে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে NIA-এর টিমকে।



Post Comment