‘তোমরা খবর নিয়ে নাও না..’, ED দফতর থেকে বেরনোর সময় সাংবাদিককে বলে গেলেন নুসরত জাহান
রঞ্জিত সাউ, প্রকাশ সিনহা ও সমীরণ পাল, কলকাতা: ভোটের আগের দিন, ED দফতরে হাজিরা দিলেন নুসরত জাহান। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে, তাঁকে CGO কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠানো হয়। যদিও ED দফতর থেকে বেরনোর পর এনিয়ে কিছু বলতে চাননি প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ।
ED দফতর থেকে বেরিয়ে কী বললেন নুসরত?
বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে তেড়েফুঁড়ে নেমেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি… প্রথম দফা ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে, বুধবার, ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় ED দফতরে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। ২০২৩ সালের একটি মামলায় নুসরত জাহানকে ডেকেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এদিন সকাল, সাড়ে ৬টা নাগাদ CGO কমপ্লেক্সে যান নুসরত জাহান। প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। নুসরত এদিন ED দফতর থেকে বেরলে, অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদকে প্রশ্ন করা হয়, ‘কেন ডাকল আপনাকে আজকে এতদিন পর?’ উত্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ উত্তর দেন, ‘তোমরা খবর নিয়ে নাও না।’
কী অভিযোগ নুসরতের বিরুদ্ধে?
২০১৯ সালে বসিরহাট থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে পা রাখেন নুসরত জাহান। চার বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৩-১৪ সালে রাজারহাটে ফ্ল্যাট তৈরির জন্য ৪২৯ জনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা করে নেয় ‘সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা। ফ্ল্যাট তৈরির জন্য ওই সংস্থা মোট ২৩ কোটি ৮০ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা তোলে। কিন্তু ৯ বছরেও তাঁরা কেউ ফ্ল্যাট পাননি বলে অভিযোগ। উল্টে, তাঁদের টাকা দিয়ে ওই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর নুসরত জাহান ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে।
প্রতারণার অভিযোগের সূত্রপাত কোথা থেকে?
প্রতারণার অভিযোগে নুসরতের বিরুদ্ধে ED-র কাছে অভিযোগ জানান বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। এই অভিযোগের পরে, সাংবাদিক সম্মেলন করে নুসরত জাহান বলেছিলেন, ‘দুর্নীতির সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন তাহলে যা বলবেন তাই করব। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি দুর্নীতি করিনি।’ ২০২৩-এর ১২ সেপ্টেম্বর সিজিও কমপ্লেক্সে নুসরতকে প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ED। ২০২৪-এর জানুয়ারিতে আলিপুর আদালতেও হাজিরা দেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। এবার, প্রথম দফার বিধানসভা ভোটের আগের দিন ED দফতরে হাজিরা দিলেন নুসরত জাহান। সব মিলিয়ে ভোটের আবহে সক্রিয় কেন্দ্রীয় এজেন্সি। আর তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে সমান তালে।



Post Comment