বাঁশবাগানে নাচছেন শ্যামৌপ্তি, সামনে নাচতে নাচতে চলেছেন শিবপ্রসাদ! শ্যুটিংয়ের অজানা গল্প
- শ্যামৌপ্তি মুদলি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ সিনেমায় অভিনয় করছেন।
- কথ্থক না জেনেও পরিচালকদের ভরসা পেয়ে কাজ করেছেন তিনি।
- শ্যামৌপ্তিকে নাচ শিখিয়েছেন নন্দিতা ও শিবপ্রসাদ নিজে।
- শ্যামৌপ্তি তাঁদের পরিচালনায় কাজ করে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
কলকাতা: শ্যামৌপ্তি মুদলি (Shyamoupti Mudli) যে বড়পর্দায় পা রাখছেন নন্দিতা রায় (Nandita Roy) আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee)-এর সিনেমার হাত ধরে, সেই খবর প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিল এবিপি লাইভ বাংলাই। আর বুধবার মুক্তি পেল, উইন্ডোজ-এর আগামী ছবি, ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর প্রথম গান। আর সেই গান মুক্তির পরে, শিবু-নন্দিতার পরিচালনায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন শ্যামৌপ্তি।
‘কত্থক জানতাম না, ভেবেছিলাম বাতিল হয়ে যাব’
‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবির হাত ধরেই বড়পর্দায় পা রাখছেন শ্যামৌপ্তি। ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ তিনি, কাজ করেছেন ওয়েব সিরিজেও। এই সিনেমায় কাজ করা নিয়ে শ্যামৌপ্তি বলছেন, ‘এই গানটা আমার কাছে খুব বিশেষ। কারণ আমার প্রথম সিনেমার প্রথম গান। আর পুরো গানটাই আমায় নিয়ে। নন্দিতাদি আর শিবুদাকে অনেক ধন্যবাদ আর ভালবাসা… এই গানে প্রচুর মজার মজার মুহূর্ত রয়েছে। এই সিনেমার জন্য কিছুদিন কত্থকের অনুশীলন করতে হয়েছে। আমি যখন এই সিনেমার জন্য শিবুদা আর নন্দিতাদির সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলাম, আমায় ওঁরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি কত্থক জানি কি না? আমি জানিয়েছিলাম, কত্থক না জানলেও, আমি ভরতনাট্যম শিখেছি। তখন মনে হয়েছিল, কাজটা হয়তো আর পেলাম না। কারণ ওঁরা যে নাচটা চাইছেন, সেটা আমি পারব না। কিন্তু ওঁরা আমার ওপরেই ভরসা রেখেছিলেন। শ্যুটিংটা হয়ে যায়। বিশেষ করে সমুদ্রের ধারে আমরা যে দৃশ্যগুলো শ্যুট করি, ওই দৃশ্যের জন্য শিবুদা নিজে আমায় নাচের স্টেপ পাঠাতেন। পাঠিয়ে বলছেন, ‘এগুলো এগুলো প্র্যাকটিস করো, এগুলো দেখতে ভাল লাগবে।’ এই ছবিতে অভিনয়ের আগে কত্থক প্র্যাকটিস করেছিলাম।
নন্দিতা শিখিয়েছিলেন চুল ঝাড়া, শিবপ্রসাদ বাঁশ বাগানে নাচ!
শ্যামৌপ্তি আরও বলছেন, ‘চুল ঝাড়ার একটা দৃশ্য ছিল, সেই দৃশ্যটায় অভিনয় করার আগে, দিদি নিজের হাতে মাথায় গামছাটা বেঁধে দিয়েছিলেন। নিজে চুল ঝাড়াটা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। বাঁশ বনের ওখানে কী কী স্টেপ করব.. সেটা দাদা আমার সামনে করতে করতে যাচ্ছিলেন। আমি শুধু সেগুলো অনুকরণ করতে করতে যাচ্ছিলাম। এইভাবে সবাই একসঙ্গে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা.. এমন ২জন মানুষের পরিচালনায় কাজ করলাম যাঁরা সবসময় আমায় পথ দেখিয়েছেন। আমার কীসে কীসে স্বস্তি হয়, সুবিধা হয় সেইদিকে খেয়াল রেখেছেন। আর এই গানটা এত সুন্দর, এত মজার যে খুব মজা করে শ্যুটিং করেছি গানটার। দাদা আর দিদি খুব ভাল করে জানেন, কীভাবে মানুষের প্রশংসা করতে হয়। ভাল শট দিলে দিদি এসে জড়িয়ে ধরতেন, চুমু খেতেন। থামস আপ দেখাতেন দাদা। এগুলোর মধ্যে ছোট ছোট ভাল লাগা থাকে। যার ফলে, কাজটাও ভাল হয়। আশা করি মানুষের গানটাও ভীষণ ভাল লাগবে।’



Post Comment