ফের তীব্র ভূমিকম্প, পরপর ২টি আফটার-শক; রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রায় বড় প্রভাব

ফের তীব্র ভূমিকম্প। জোরাল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। জাপানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার টোকিওর উপকূলে ৬.১ মাত্রার কম্পন আঘাত হেনেছে। তবে এই কম্পনের পর কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, জাপানের কান্টো অঞ্চলের অদূরে সমুদ্রে সন্ধে ৭টা ৩৯ মিনিটে (জিএমটি ১০:৩৯) ভূমিকম্প আঘাত হানে।

আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল টোকিওর পূর্বে অবস্থিত আসাহি শহর থেকে প্রায় ১৬৯ কিলোমিটার (১০৫ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে।

জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) জাপানের ০-৭ মাত্রার স্কেলে এই ভূমিকম্পটিকে ‘সিসমিক ইনটেনসিটি ৩’ (ভূকম্পন তীব্রতা ৩) হিসেবে রেকর্ড করেছে। এই মাত্রায়, “ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় সবাই কম্পন অনুভব করেন” এবং “আলমারিতে রাখা থালা-বাসন কেঁপে উঠতে পারে।”

তবে, ঘটনার পরপর কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

অন্য একটি খবর অনুযায়ী, জুলাই মাসে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৭.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারের কাছাকাছি এলাকায় এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল, যা সেন্ট্রাল টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।

ভূমিকম্পের পর ছোটখাট সুনামি হতে পারে বলে জেএমএ (JMA) সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ভূমিকম্পটির পরপরই দু’টি  আঘাত অনুভূত হয়, যার ফলে ওই অঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থা, মোবাইল যোগাযোগ এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। 

স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুমামোটো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এটি পুনরায় কখন চালু হবে তা এখনও জানানো হয়নি। কুমামোটোর কিছু ‘সেভেন-ইলেভেন’ (7-Eleven) দোকানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে, অন্যদিকে এনটিটি ডোকোমো (NTT Docomo) জানিয়েছে যে তাদের মোবাইল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।

চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা আরও জানিয়েছেন যে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আহতের ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে বাড়ি ধসে পড়া, অগ্নিকাণ্ড ও পরিকাঠামোগত সমস্যা-সহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির যে খবর পাওয়া গেছে, তা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন।

গত অক্টোবরেই তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে রাশিয়া। তীব্র কম্পন অনুভূত হয় রাশিয়ার কামচাটকায়। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭। রাশিয়ায় ভূমিকম্পের পর কম্পন অনুভূত হয় জাপানেও। 

Post Comment

You May Have Missed