দিয়া মির্জার দীপাবলি-ভিডিও ঘিরে বিতর্ক, আদালত বলল, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ’

মুম্বই: দূষণমুক্ত দীপাবলি পালনের পক্ষে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। অভিনেত্রী দিয়া মির্জার সেই ভিডিও সরানো ঘিরে তরজা চরমে। সেই আবহেই ভিডিওটি ফেরানোর নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের বক্তব্য, “ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ।” গোটা বিষয়টি ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেও মন্তব্য করল আদালত। তবে দিয়ার ভিডিও বার্তা ফেরানো হবে কি না, বৃহন্মুম্বই পুরসভাকেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। (Dia Mira Diwali Video)

দিয়ার ভিডিও বার্তা সরানোর ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। শুনানি চলাকালীন বিচারপতি গিরীশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি নীলা গোখলের বেঞ্চ জানায়, মুম্বই শহরেটি ঐক্য বা একাত্মবোধের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রচারের উদ্দেশে তৈরি ভিডিও ফিরিয়ে আনাই আদর্শ এক্ষেত্রে। বিচারপতিরা বলেন, “এই ধরনের সঙ্কীর্ণ মানসিকতা, বিশেষ করে যাঁরা জনপ্রতিনিধি, তাঁদের এমন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সংবিধানের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য় করবে এই পদক্ষেপ। ঐক্যের অনুভূতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে মুম্বই। কোনও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়া উচিত নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা সকলের মধ্যে থাকা দরকার। সংবিধান নাগরিকদের কাছ থেকে এমন চেতনা প্রত্যাশা করে। তাই ভিডিওটি ফিরিয়ে আনাই এক্ষেত্রে আদর্শ।” (Dia Mirza)

আরও পড়ুন: এবার হুমকি পেলেন অভিনেতা তুষার কপূর, ৫ কোটি টাকা চেয়ে এল ফোন, নেপথ্যে সেই বিশ্নোই গ্যাং?

কোনও রাজনীতিকের নাম আলাদা করে উল্লেখ করেননি বিচারপতিরা। তবে বলা হয়, “বৃহন্মুম্বই পুরসভার জনসচেতনতামূলক প্রচারে অংশগ্রহণ এবং তার সমর্থনে এগিয়ে আসা তারকাদের বিরুদ্ধে কিছু মন্তব্যে উদ্বিগ্ন আমরা। কিছু রাজনীতিকের মন্তব্যে আহত আমরা। মনে রাখা উচিত যে ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। আতসবাজির কারণে সৃষ্ট শব্দ এবং বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাবই তুলে ধরা হয়েছিল প্রচারে। বৃহন্মুম্বই পুরসভা কার্যকরী পদক্ষেপ করেছিল। ঐক্যের বার্তা দিয়েছিলেন তারকারা। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিভাজনের অবকাশ থাকা উচিত নয়।”

বায়ুদূষণের প্রকোপে মায়ানগরী মুম্বইয়েও দমবন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীপাবলির আগে তাই বম্বে হাইকোর্টের তরফে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দীপাবলিকে দূষণমুক্ত রাখতে বলা হয়েছিল। দূষণমুক্ত দীপাবলির প্রচারে যুক্ত করা হয়েছিল দিয়াকেও। 

আরও পড়ুন: সল্টলেক জুড়ে ঘুমন্ত রাহুল গাঁধীর পোস্টার, নীচে লেখা, ‘দেশের নেতা কি এমনই হওয়া উচিত?’

দীপাবলিতে দেদার বাজি পোড়ানো এড়াতে বলেছিল বৃহন্মুম্বই পুরসভাও। সেই আবহেই ভিডিওবার্তায় শব্দ এবং বায়ুদূষণ এড়াতে, স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে আর্জি জানিয়েছিলেন দিয়া। কিন্তু তাঁর ভিডিওটি সরিয়ে দেয় বৃহন্মুম্বই পুরসভা। অথচ তাদেরই অনুরোধে ওই ভিডিও বার্তা রেকর্ড করেছিলেন দিয়া। 

মাধুরী দীক্ষিতের মতো তারকাদের ভিডিও বার্তা নিয়ে আপত্তি থাকলেও, দিয়ার ভিডিও বার্তা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন মুম্বইয়ে বিজেপি-র সভাপতি অমিত সাটম। তাঁর বক্তব্য ছিল, “দীপাবলি উদযাপনের শিক্ষা দিয়ার থেকে নিতে হবে না। আমাদের ঐতিহ্য সংস্কৃতির গভীরে প্রোথিত।”

দিয়ার ভিডিও বার্তা নিয়ে আপত্তি জানান মুম্বইয়ের মেয়র, বিজেপি নেত্রী রিতু তাওড়েও। তাঁর বক্তব্য ছিল, “দিয়া বরাবরই হিন্দুবিরোধী, সরকারবিরোধী।” মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে আবার এককদম এগিয়ে বলেন, “দীপাবলি নিয়ে ট্যুইট করেছেন দিয়া মির্জা। অথচ ইদ, মহরম, বকরি ইদের সময় এমন ট্যুইট করেন না। হোলি, দীপাবলি এলেই পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন শুধু। রমজান, বকরি ইদের সময়ও এসব বলা উচিত। ওঁর মতো লোকজন সনাতনী হিন্দু ধর্মের বিরোধী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলব আমি, যাতে ভবিষ্যতে এমনটা না হয়।” সেই নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হয় বৃহন্মুম্বই পুরসভার সোশ্য়াল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে। বিষয়টি আদালতে পৌঁছলে দিয়ার সেই ভিডিও বার্তা ফেরানোই উচিত বলে জানালেন বিচারপতিরা।

Post Comment

You May Have Missed