‘কেন এত আবেদন পেন্ডিং?’, কলকাতা পুরসভায় ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’! শংসাপত্রের লাইনে নিজেই দাঁড়িয়ে পড়লেন পুর প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পান্ডে, তারপর…

Last Updated:

KMC:কলকাতা পুরসভার ২০ নম্বর ঘরে আচমকাই সারপ্রাইজ ভিজিট পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডের। আবেদনকারীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে শুনলেন জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র পেতে তাঁদের ভোগান্তির কথা। ২০ হাজারেরও বেশি জন্ম শংসাপত্রের আবেদন বকেয়া কেন? দ্রুত সমস্যা মেটাতে আধিকারিকদের কী নির্দেশ দিলেন তিনি? জানুন বিস্তারিত।

কলকাতা পুরসভার ২০ নম্বর ঘরে আচমকাই সারপ্রাইজ ভিজিট পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডের
কলকাতা পুরসভার ২০ নম্বর ঘরে আচমকাই সারপ্রাইজ ভিজিট পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডের

কলকাতা: কুড়ি নম্বর ঘরে সারপ্রাইজ ভিজিট! কি দেখলেন পুর প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পান্ডে? কলকাতা পুরসভার কুড়ি নম্বর ঘরে কিই বা আছে? কেনই বা সেখানে গেলেন স্মিতা?

তবে খোলসা করেই বলা যাক! কলকাতা পৌরসভার ২০ নম্বর ঘর আসলে জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট দেওয়ার ঘরে। সেই ঘরেই সোমবার সকালে আচমকাই হানা দেন প্রশাসক স্মিতা। লাইনে দাঁড়ানো লোকজনের থেকে শুনলেন সমস্যার কথা। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয়েছে অনলাইন পরিষেবা। তিন থেকে চার মাস কার্যত বন্ধ জন্ম-মৃত্যু সার্টিফিকেট পরিষেবা। মৃত্যুর সার্টিফিকেট যেমন বন্ধ, তেমনি কুড়ি হাজারের বেশি জন্ম সার্টিফিকেটের আবেদন বকেয়া। সেই সমস্যার কথা ভুক্তভোগীদের থেকে নিজেই শুনলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে।

কলকাতা পুরসভার তখনও ঘুম ভাঙ্গেনি। ঘড়ির কাঁটা সকাল ১০ টা স্পর্শ করেনি। পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে অন্যান্য দিনের মতোই পুরসভায় ঢুকে পড়েন। প্রতিদিনের মতো চেম্বারে বসে না থেকে আচমকাই টহলে বেরোন। বেরিয়েই একতলায় জন্ম মৃত্যু সার্টিফিকেটের কুড়ি নম্বর ঘরের কাছে চলে যান। কোনও নিরাপত্তা রক্ষী ছাড়াই তাঁকে দেখে চমকে যান সিভিক ভলেন্টিয়ার-রা। কুড়ি নম্বর ঘর কোনটা জেনে নিয়ে তিনি নিঃশব্দে ঢুকে পড়েন। বাকিদের সঙ্গেই লাইনে দাঁড়িয়ে যান তিনিও।

বাইরে তখন তাঁর দেহরক্ষী ও বিশেষ নিরাপত্তার পুলিশ কর্মীরা। ২০ নম্বর ঘরে আবেদনকারীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে স্মিতা খতিয়ে দেখেন সেই ঘরের পরিবেশ, পুরকর্মী ও আধিকারিকদের গতিবিধি। পুরকর্মী ও আধিকারিকেরা হতবাক হয় যান লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রশাসককে দেখে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবেদনকারীদের থেকে প্রশাসক স্মিতা জানতে চান তাঁদের সমস্যার কথা। লাইনে দাঁড়ানো আবেদনকারীদের ভোগান্তির কথাও শোনেন।  কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে নিজেই পুর মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে ডেকে পাঠান। জানতে চান সমস্যা কোথায় হচ্ছে? কেন এত আবেদন পেন্ডিং?

কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, আধিকারিকদের কাছে সব সমস্যা শুনে পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রনিতা সেনগুপ্তকে নির্দেশ দেন আরও বেশি করে কর্মী ও আধিকারিকদের কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রশাসক স্বাস্থ্য বিভাগকে কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। আপাতত ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কিন্তু জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার কাজ দ্রুত করতে অতিরিক্ত টেবিল ও কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা হয়েছে যাতে আবেদনকারীদের সংখ্যা দ্রুত কমে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে।

Previous post

জনগণনার জেরে পিছতে পারে ২০২৭-এর মাধ্যমিক পরীক্ষা! ১৫ ফেব্রুয়ারির বদলে কবে শুরু হতে পারে পরীক্ষা? প্রস্তাব দিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ

Next post

থামল ‘বিগ শো’, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

Post Comment

You May Have Missed