Bargabhima Temple: দেবী বর্গভীমার অনুমতি ছাড়া কালীপুজোয় করা যায় না ‘এই’ কাজ, অলিখিত বিধিতে বাঁধা তমলুক! জানুন

Last Updated:

Bargabhima Temple: মা বর্গভীমার অনুমতি ছাড়া হয় না শক্তিপুজো! প্রায় ১০০ বছরের অলিখিত নিয়ম মেনে আজও শোভাযাত্রা সহকারে পুজো দিয়েই কালীপুজো শুরু করেন তমলুকের উদ্যোক্তারা। জানুন এই প্রাচীন অলিখিত নিয়ম ও বর্গভীমা মন্দিরের ইতিহাস।

+

দেবী বর্গভীমার কাছে আজও চাওয়া হয় শক্তিপুজোর অনুমতি

সৈকত শী, তমলুক: পুজোর আয়োজন করতে হলেই নিতে হয় অনুমতি! অনুমতি ছাড়া তমলুক শহর ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে করা যায় না শক্তিপুজো। এই অলিখিত নিয়ম চলে আসছে যুগের পর যুগ। তমলুকে শক্তি পুজোর আগে দেবী বর্গভীমা মায়ের অনুমতি নিতে হয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রাচীন শহর তাম্রলিপ্ত অধুনা তমলুক। তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বর্গভীমা মা। পুরানে বর্ণিত ৫১ শক্তি পিঠের এক পিঠ। সতীর বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল এই স্থানে। এখানে দেবী ভীমা কালী রূপে পূজিতা। এই বর্গভীমা মায়ের অনুমতি নিয়েই তমলুকে শুরু হয় শক্তিপুজো। দেবী বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দিয়ে তবেই তমলুকের বিভিন্ন ক্লাব প্রতিষ্ঠান বা বাড়ির কালীপুজো শুরু হয়। এমনই রীতি রয়েছে তমলুকে।

তমলুকের শক্তি পিঠের প্রাচীন নাম বিভাস। দেবী এখানে বর্গভীমা বা ভীমারূপা নামে অধিষ্ঠিত। ভৈরব সর্বানন্দ মতান্তরে কপালি। মহামায়া সতীর দেহাংশের মধ্যে বাম গুল্ফ বা বাম পায়ের গোড়ালি পড়েছিল এখানে। ১৪৬৬ খ্রিস্টাব্দ মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল কাব্যে গোকুলে গোমতী নামা তাম্রলিপ্তে বর্গভীমা এবং মার্কণ্ডেও পুরাণে আছে দেবী বর্গভীমার উল্লেখ। তমলুকে অতীতে কোন শক্তি পুজো হত না। শুধুমাত্র দেবীর বর্গভীমার পুজো হত। কিন্তু একসময় তমলুকে দুর্গা, জগদ্ধাত্রী পাশাপাশি কালীপুজোর প্রচলন শুরুর সময় সমস্যা দেখা দিলে তৎকালীন প্রবীণেরা নিদান দেন পুজো শুরু করার আগে দেবী বর্গভীমা মাকে পুজো দিয়ে অনুমতি নিতে হবে।‌ এই থেকেই এই অনুমতি নেওয়ার নিয়ম চলে আসছে।

আরও পড়ুন: মায়ের দেওয়া কিডনিতে পেয়েছিলেন নতুন জীবন, আচমকা হার্টফেল! সরকারি হাসপাতালে হল ‘ম্যাজিক’

তমলুক শহরের বা তমলুক সংলগ্ন এলাকায় ক্লাব প্রতিষ্ঠান হোক বা বাড়ির, প্রথমে দেবী বর্গভীমা মাকে পুজো দিয়ে‌ অনুমতি নিয়ে শুরু হয় পুজো। তমলুকের শহরে যত কালীপুজো হয় প্রত্যেক ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান সুসজ্জিত শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবী বর্গভীমা মন্দিরে এসে পুজো দিয়ে তবেই তাদের কালীপুজো শুরু করে। এ বিষয়ে মন্দিরের সেবাই তথা মন্দির পরিচালন কমিটির সম্পাদক শিবাজী অধিকারী বলেন, “একসময় তমলুক সহ এই এলাকায় শক্তিপুজোর চলছিল না। কারণ মা এখানে অধিষ্ঠাত্রী রয়েছেন। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে বাড়িতে শক্তিপুজো বা ক্লাবে শক্তি পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয় তখনই এলাকার গুণীজনেরা এই নিয়ম তৈরি করে। তাই বর্তমানেও শক্তি পুজোর আগে দেবী বর্গভীমা মায়ের অনুমতি নিতে আসেন পুজো উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন: অমাবস্যার রাতে হবে মহাশক্তির আরাধনা, ত্রিনয়নী দেবী সাজবেন সোনায়! প্রস্তুত সাঁইথিয়া

সতীর একান্ন পীঠের এক পীঠ তমলুকের দেবী বর্গভীমা, বর্তমানেও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজিত হন মা, শক্তি পুজো শুরুর আগে রয়েছে অনুমতি নেওয়ার প্রথা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর ঐতিহাসিক তাম্রলিপ্ত বা তমলুকের আজও মধ্যমণি মা বর্গভীমা। কয়েক হাজার বছর ধরে শক্তি স্বরূপিণী আদ্যাশক্তি মহামায়া রূপে দেবী বর্গভীমার আরাধনা চলে আসছে। ওড়িশি স্থাপত্যের আদলে এই দেউলের উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটার অজস্র কাজ। তার মধ্যেই মন্দিরের গর্ভগৃহে কালো পাথরে তৈরি মায়ের মূর্তি বিরাজ করছে দেবী উগ্রতারা রূপে। দীপান্বিতা অমাবস্যায় রাজরাজেশ্বরী রূপে পূজিত হন দেবী বর্গভীমা।

Post Comment

You May Have Missed