Murshidabad News: মন্ত্রীর ‘নির্দেশ’, মুর্শিদাবাদের সব থানায় বড় করে কালীপুজোর উদ্যোগ শুরু
Last Updated:
এবছর রাজ্যে সরকারের পালা বদলের পর জেলার প্রায় সমস্ত থানাতেই আগেরবারের থেকে বড় করে কালীপুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার প্রত্যেক থানায় বড় করে কালীপুজো হোক। বৃহস্পতিবার বীরভূমে জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে এমনই প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
মন্ত্রীর ‘ নির্দেশ ‘ মেনে এবার মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক থানায় আগের বছরের থেকে বড় করে কালীপুজো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ইতিমধ্যে একাধিক থানায় কালীপুজোর জন্য প্রস্তুতি বৈঠক শেষ হয়ে গিয়েছে এবং কীভাবে এ বছরের কালীপুজো বড় করে করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই জেলার সমস্ত থানার মধ্যে বা থানার ঠিক সামনে কালী মন্দির রয়েছে। তবে পুলিশ রেগুলেশন অনুযায়ী কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ কর্মীরা সরাসরি কোনও ধর্মাচরণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। এই নির্দেশ থাকার কারণে থানার পুজোগুলি বেশিরভাগ জায়গায় ‘থানার পাড়া কালীপুজো’ নামেই পরিচিত হয়ে রয়েছে। থানারপাড়া কালীপুজো কমিটিগুলিতে এতদিন এলাকার বিশিষ্টজনদের সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ পদে রেখে থানার আধিকারিকেরাই এই পুজো চালাতেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ অধ্যুষিত এলাকা মুর্শিদাবাদের সুতি থানার প্রাঙ্গনেই রয়েছে বড় কালী মন্দির। এ বছর সেখানে বড় করে কালীপুজো করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। থানার এক আধিকারিক জানান, কালীপুজোর পরে বড় করে নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থানার মন্দিরে যে কালী মূর্তি রয়েছে তাঁকেও নতুন করে রং করা মূর্তির অঙ্গসজ্জাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ ছাড়া সুদৃশ্য মণ্ডপও তৈরি করা হবে থানা প্রাঙ্গনে।
সূত্রের খবর, কালীপুজোর পরের দিন থেকে বিভিন্ন রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে সুতি থানা প্রাঙ্গনে। সেখানে এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আবৃতি , নাচ এবং অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। এবছর কালীপুজোর সময় সুতি থানার তরফে প্রায় এক হাজার মানুষকে বস্ত্র বিতরণ করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
শক্তিপুর থানার এক আধিকারিক জানান, থানা প্রাঙ্গনে বড় কালী মন্দির রয়েছে। সেখানে নিত্য পুজো হয়। তবে এবছর থানাতে বড় করে কালীপুজো করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কালীপুজোর দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও শক্তিপুর থানায় আগামী ১৩ অক্টোবর নরনারায়ণ সেবা হবে। সেদিন ১২ হাজার মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমাদের থানার মন্দিরের মূর্তি পাথরের নির্মিত। সেই মূর্তিতেও এবছর নতুন করে রং করা হচ্ছে। রাজ্যের মন্ত্রী নির্দেশের পর রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত জঙ্গিপুর পুলিশ ফাঁড়িতেও এবছর বড় করে কালী পুজো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানা প্রাঙ্গনে যে কালীমন্দির রয়েছে সেখানে মূর্তি নতুন করে রং করার কাজ শুরু হতে চলেছে। কালীপুজোর পর এলাকার প্রায় ৫০০০ মানুষকে নরনারায়ণ সেবার মাধ্যমে খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবার নতুন করে কালীমন্দির তৈরী হচ্ছে ফরাক্কা থানার অন্তর্গত এনটিপিসি পুলিশ ফাঁড়িতে। ফরাক্কা থানা এবং এনটিপিসি ফাঁড়ি দু’জায়গতেই বড় করে কালীপুজো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফাঁড়িতে বসতে চলেছে নতুন স্থায়ী মাতৃ মূর্তি। এই উপলক্ষ্যে কালীপুজোর পর এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সকলকে নিয়ে হবে নরনারায়ণ সেবা।
মন্ত্রীর ‘নির্দেশ’ মেনে এবার বড় করে কালীপুজো হচ্ছে সাগরদিঘি থানাতেও। থানার এক আধিকারিক জানান, মন্দিরের দেবী মূর্তি এবং সংলগ্ন এলাকা সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কালীপুজোর পর থানা প্রাঙ্গনে বড় করে নরনারায়ণ সেবার পাশাপাশি একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে এবছর।

Post Comment