বিধায়ক হিসাবে এলাকায় যেতে পারছেন না, এক সুর মদন-শিউলির, মানতে নারাজ অরূপ

আশাবুল হোসেন ও কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: বিধায়ক হিসাবে এলাকায় যেতে পারছেন না। নিজে মুখে এই দাবি করছেন, ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের শিবিরের বিধায়ক মদন মিত্র, শিউলি সাহা। যদিও এই দাবি মানতে রাজি নন অরূপ রায়। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন যেতে পারছেন না? এনিয়ে খোঁচা দিয়েছেন মদন মিত্র।  

আরও পড়ুন, প্রবল গতি নিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, নতুন করে কোন কোন ট্রেন বাতিল ? রেলের জরুরি ঘোষণা

পাড়ায় ঢুকলে ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব। বলেছে পাড়ার দাদারা, অন্য পাড়া দিয়ে যাচ্ছি তাই। অঞ্জন দত্তর গানের এই লাইনই কি সত্য়ি হয়ে উঠেছে রাজনীতিবিদদের একাংশের জীবনে? গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস মদন মিত্র বলেন, যদি অসুবিধা না হত, তাহলে তো বলতাম না। আমরা চোখের সামনে দেখছি, আমরা যাব তো পরের প্রশ্ন, বিজেপির নিজের হাতে নিজেদের ছেলেরা খুন হয়ে যাচ্ছে। মদন মিত্র।উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির বিধায়ক।যুগ যুগ ধরে ছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ছায়াসঙ্গী।সিপিএম আমল থেকে তৃণমূল যখন ক্ষমতায় তখনও। কিন্তু কিছুদিন আগে হঠাৎ ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের শিবিরে যোগ দিয়েছেন।তিনিই এখন বলছেন, নিজের দীর্ঘদিনের বিধানসভা কেন্দ্র কামারহাটিতে যেতে পারছেন না।

 গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, যারা আমায় জিতিয়েছে, তাদের কাছে যেতে পারব না? একই সুর একাধিকবার শোনা গেছে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার গলাতেও। যিনি তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছেন। ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের. গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক   শিউলি সাহা বলেন, কেন বিধায়ক হিসাবে এলাকায় যেতে পারছি না? মদন মিত্র যা বলেছেন ঠিক বলেছেন। আমি এলাকায় যেতে পারেনি। নন্দীগ্রামে অঞ্জলি দিয়েছি।
 
একদা তৃণমূল সরকারে মন্ত্রী, একাধিকবারের বিধায়ক, তাঁকে কিনা পালাবদলের পর, নিজের এলাকায় শুনতে হচ্ছে গো ব্য়াক স্লোগান। তাও নিজেই বলছেন। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক  শিউলি সাহা বলেন, আপনারা তো দেখলেন, মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে গিয়েই দূর হটাও শিউলি সাহা, গো ব্যাক শিউলি সাহা, আমাকে চলে আসতে হল, আমি থাকতে পারলাম না, মঞ্চে যেতে পারলাম না, ওটা ভারতীয় জনতা পার্টির দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না। করতে পারিনি।মমতা তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক  কুণাল ঘোষ বলেন, কী প্রচন্ড চাপ। পুলিশ দিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই তো এই অবস্থা। 

ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়দের দিকের ২ বিধায়ক যখন এই কথা বলছেন, তখন একেবারে উল্টো দাবি করেছেন এই দলের অর্থাৎ গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্য়ান অরূপ রায়। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্য়ান  অরূপ রায় বলেন, তাঁরা কেন যেতে পারলেন না? কী কারণে? আমি তো যাতায়াত করছি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।’ গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস  মদন মিত্র বলেন, হয়তো অরূপের যাতায়াতটা নির্ধারিত রুটের মধ্য়ে, দোতলায় থাকে, একতলায় ওর দোকানদারি। ওই কী বলে, ওকালতি। একটা নির্ধারিত রুটে, নির্ধারিত সময় হুগলি ব্রিজ দিয়ে, এরকম করলে তো সারা পশ্চিমবঙ্গ কভার করা যাবে না। এখন যে তৃণমূল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, আগামী দিনে কি সেখানেই নতুন কিছু হতে পারে, এই জল্পনাই শুরু হয়েছে। 

Post Comment

You May Have Missed