মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই ১০০ শতাংশ সাবস্ক্রাইব Jio Platforms-এর IPO, ভারতের শেয়ার বাজারে নতুন নজির

কলকাতা: ভারতের শেয়ার মার্কেটের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও (IPO) হতে চলেছে জিওর আইপিও। আর তা নিয়ে প্রথম দিনেই বিপুল সাড়া। বুধবার, ২১ অক্টোবর, বিডিং শুরু হওয়ার মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে গেল Jio Platforms-এর ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকার আইপিও। প্রথম দিনের বিডিং সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বড় অঙ্কের আইপিওগুলির মধ্যে দ্রুততম সময়ে সম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশনের নজির গড়েছে এই ইস্যু।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ বিডিং শুরু হওয়ার প্রায় ১০০ মিনিটের মাথায়, অফারে থাকা শেয়ারের প্রায় ১০১ শতাংশের জন্য আবেদন জমা পড়ে। শুরু থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি। যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতা বা Qualified Institutional Buyers (QIBs)-দের জন্য সংরক্ষিত অংশে চাহিদা পৌঁছে যায় বরাদ্দ শেয়ারের ৩.২৫ গুণে।

এই আইপিওর বিশেষত্ব হল, সম্পূর্ণ অর্থই নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে তোলা হচ্ছে। এতে পুরনো শেয়ার বিক্রির কোনও অংশ বা অফার ফর সেল (OFS) নেই। সংগৃহীত অর্থের সিংহভাগ সংস্থার বিদ্যমান ঋণের বোঝা কমাতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে Jio Platforms-এর।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাত ধরে প্রথম দিনেই বিপুল চাহিদা

আইপিও খোলার মাত্র প্রথম ৩০ মিনিটের মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত অংশ সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে এই বিভাগে আবেদন পৌঁছে যায় বরাদ্দ শেয়ারের ৩.২৫ গুণে। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাথমিক পর্যায়েই বরাদ্দের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি চাহিদা এসেছে।

তবে অন্যান্য বিনিয়োগকারী শ্রেণিতে সাবস্ক্রিপশনের গতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। একই সময়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর বা NII বিভাগে সাবস্ক্রিপশন ছিল ২৭ শতাংশ। খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত অংশে আবেদন জমা পড়ে বরাদ্দের ২৪ শতাংশ শেয়ারের জন্য।

এ ছাড়া, কর্মীদের জন্য সংরক্ষিত অংশে সাবস্ক্রিপশন পৌঁছয় ৫৯ শতাংশে। অন্যদিকে, রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নির্দিষ্ট অংশে আবেদন জমা পড়ে বরাদ্দের ৪৫ শতাংশ শেয়ারের জন্য।

উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানগুলি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। বিডিং চলতে থাকায় পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী শ্রেণিতে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে।

আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের সিংহভাগ দিয়ে ঋণ কমানোর পরিকল্পনা

Jio Platforms নতুন ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মোট ৩০ হাজার ২১৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করছে। এই আইপিওতে কোনও অফার ফর সেল (OFS) না থাকায়, শেয়ার বিক্রি করে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকছে না পুরনো শেয়ারহোল্ডারদের জন্য। পরিবর্তে, নতুন শেয়ার ইস্যু থেকে সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থ সংস্থার কাছেই আসবে।

সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অর্থের বেশির ভাগটাই ব্যবহার করা হবে বিদ্যমান ঋণ কমাতে। ফলে আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার এবং ঋণ হ্রাসের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

সাধারণভাবে, কোনও সংস্থা ঋণের বোঝা কমাতে নতুন মূলধন সংগ্রহ করলে তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং ভবিষ্যতের আর্থিক দায় সামলানোর সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হন। তবে Jio Platforms-এর ক্ষেত্রে ঋণ কমানোর পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা মূল্যায়নের জন্য সংস্থার আর্থিক তথ্য, ঋণের পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

আইপিওর বিপুল আকার এবং প্রথম দিনেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জোরালো অংশগ্রহণ সংস্থাটির শেয়ারবাজারে প্রবেশকে ঘিরে আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। বিডিংয়ের বাকি সময়ে খুচরো ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কতটা বাড়ে, তার উপরও সামগ্রিক চাহিদার ছবি নির্ভর করবে।

গ্রে মার্কেটে প্রায় ২৪ শতাংশ প্রিমিয়াম

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় Jio Platforms-এর শেয়ারের গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা GMP ছিল ২৬৮ টাকা। আইপিওর প্রাইস ব্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে শেয়ারপ্রতি ১,০৬৫ টাকা থেকে ১,১১৯ টাকা। সেই হিসেবে, প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ দাম ১,১১৯ টাকার তুলনায় গ্রে মার্কেটে প্রায় ২৪ শতাংশ প্রিমিয়ামের ইঙ্গিত মিলছিল।

গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম হল এমন একটি আন অফিসিয়াল সূচক, যার মাধ্যমে কোনও আইপিওর শেয়ার তালিকাভুক্তির আগে বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এটি নিয়ন্ত্রিত শেয়ারবাজারের অংশ নয় এবং এর ভিত্তিতে তালিকাভুক্তির দিনের প্রকৃত দাম নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা, আইপিওর চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশন এবং তালিকাভুক্তির সময়কার বাজারের গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে প্রকৃত লিস্টিং প্রাইস গ্রে মার্কেটের ইঙ্গিত থেকে আলাদা হতে পারে। তাই শুধু GMP-কে ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

দেশের অন্যান্য বড় আইপিওকে পিছনে ফেলল Jio Platforms

প্রথম দিনেই দ্রুত সম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশনের নিরিখে দেশের অন্যান্য বড় আইপিওগুলিকে পিছনে ফেলেছে Jio Platforms। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আগের কয়েকটি বড় ইস্যুর তুলনায় এই আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক সাড়া ছিল অনেক দ্রুত।

বাজাজ হাউজিং ফিন্যান্সের ৬ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার আইপিও প্রথম দিন দুপুর ২টোর মধ্যে সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল। অন্যদিকে, দেশের সর্বাধিক বিড পাওয়া আইপিও হিসেবে বর্ণিত LG Electronics India-র আইপিও প্রথম দিনের বিডিং শেষ হওয়ার মধ্যে সম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশনের স্তরে পৌঁছয়।

সেই তুলনায় Jio Platforms-এর আইপিও বিডিং শুরুর প্রায় দু’ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশনের সীমা অতিক্রম করে। এই দ্রুততার পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিপুল চাহিদার।

তবে প্রথম দিনেই সম্পূর্ণ সাবস্ক্রাইব হয়ে যাওয়া বা গ্রে মার্কেটে প্রিমিয়াম থাকা—কোনওটিই তালিকাভুক্তির পরে শেয়ারের দাম বাড়ার নিশ্চয়তা দেয় না। আইপিওর বিডিং শেষ হলে চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশন পরিসংখ্যান থেকে বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক আগ্রহ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশন ও লিস্টিংয়ের দিকেই নজর

Jio Platforms-এর আইপিও প্রথম দিনেই যে গতি দেখিয়েছে, তা দেশের শেয়ার বাজারে বড় অঙ্কের ইস্যুগুলির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দ্রুত অংশগ্রহণ এই আইপিওকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

তবে আইপিওর প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়নের জন্য শুধু প্রথম দিনের সাবস্ক্রিপশনই যথেষ্ট নয়। বিডিংয়ের শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিনিয়োগকারী শ্রেণিতে চাহিদার পরিবর্তন, সংস্থার আর্থিক অবস্থান, ঋণ কমানোর পরিকল্পনা এবং তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের পারফরম্যান্স—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হবে।

চূড়ান্ত সাবস্ক্রিপশন পরিসংখ্যান এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরবর্তী গতিপ্রকৃতিই শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট করবে, Jio Platforms-এর এই বড় আইপিও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।

Previous post

Durga Puja 2026: ইছামতীর জলে বিসর্জনেই মিলে যেত এপার-ওপারের পুজো! চেনা ছবির দেখা পাওয়া যাবে এবার? ‘আমরা একটু উদ্বিগ্ন’, কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

Next post

পোশাকে রংমিলান্তি, বিচ্ছেদের গুঞ্জন উড়িয়ে রাজ-শুভশ্রীর পুজো প্রেম নজর কাড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

Post Comment

You May Have Missed