Durga Puja 2026: ইছামতীর জলে বিসর্জনেই মিলে যেত এপার-ওপারের পুজো! চেনা ছবির দেখা পাওয়া যাবে এবার? ‘আমরা একটু উদ্বিগ্ন’, কেন বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?
কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ট্রলিতে চাপিয়েই ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন। প্রশাসন সূত্রে খবর, হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিমা দুপুরের পর নৌকোয় নিরঞ্জন করা হবে। বাকি প্রতিমাগুলি ঘাট থেকেই বিসর্জন দেওয়া হবে। ফলে ইছামতীর বুকে দুই বাংলার মিলনমেলার যে চেনা ছবি এত দিন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, এবার তা অনেকটাই অনুপস্থিত।
ইছামতী নদীতে বিসর্জন ঘিরে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ইছামতী নিয়ে আমরা একটু উদ্বিগ্ন। প্রতিমা ছাড়াও ওখানে মানুষজন নৌকোয় চেপে যান। আমরা তাঁদের বিরত করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মানুষের একটা আবেগ রয়েছে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবরকম ব্যবস্থা রেখেছি। ওখানে সবই তো দেশি নৌকো। বিএসএফ, এনডিআরএফ থাকছে। বারাসতের ডিআইজি এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীদেরও পাঠানো হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, এ বছর দুর্গাপুজোর বিসর্জন উপলক্ষে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করছে কলকাতা পুলিশ। আজ থেকে আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিসর্জন পর্বে সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বিশেষ টিম মোতায়েন করা হবে। ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নির্দিষ্ট ঘাটগুলিতে দায়িত্ব পালন করবেন বলেই সূত্রের খবর৷
পুলিশের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, নিমতলা ঘাট, গওয়ালিয়র ঘাট, বিচালি ঘাট, রতনবাবু ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, বাবুঘাট, বাজা কদমতলা ঘাট কমপ্লেক্স এবং নর্থ ইমারশন করিডরে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশকর্মী।
বিসর্জন চলাকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। কলকাতা পুরসভার সরবরাহ করা অ্যাম্বুল্যান্সগুলি বিভিন্ন ঘাটে মোতায়েন থাকবে। ২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী চালক ও অ্যাটেনড্যান্টরা শিফট ভাগ করে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়াও বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট, ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিসর্জনের সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়াই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
Post Comment