চোরবাগান বিপর্যয়ের পর শহরে ফিরছে না বাংলা দল, রঞ্জিতে নাটকীয় ম্যাচ জিতে দিল্লি থেকেই কেরলে

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সোমবার ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সার্ভিসেস যখন দিনের শেষে ১২/০ স্কোরে ছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল যে, ম্যাচের ফয়সালা তিনদিনেই হয়ে যাবে। রঞ্জি ট্রফিতে বাংলা বনাম সার্ভিসেস ম্যাচে মঙ্গলবার যে থ্রিলার অপেক্ষা করে রয়েছে, সেই ইঙ্গিতও ছিল। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি বাংলার। ৬০ রানে সার্ভিসেসকে হারিয়ে ৬ পয়েন্ট ঘরে তুলল বাংলা। পরপর দুই ম্যাচ জেতায় ১২ পয়েন্টে পৌঁছে গেলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণরা।

মঙ্গলবার পালাম মাঠে সরাসরি ম্যাচ জিততে বাংলার দরকার ছিল ১০ উইকেট। সার্ভিসেসের প্রয়োজন ছিল আর ১৯৭ রান। যে কোনও দলই ম্যাচ জিততে পারত। তবে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে বাজিমাত করল বাংলাই। ১৪৮ রানে শেষ হয়ে গেল সার্ভিসেসের দ্বিতীয় ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে একটা সময় বাংলা শিবিরকে বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল সার্ভিসেসের দ্বিতীয় উইকেট পার্টনারশিপ। ওপেনাররা ৪৯ রান যোগ করার পর শাহবাজ আমেদ তার আগে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শুভম রোহিল্লাকে। সার্ভিসেসের স্কোরবোর্ডে তখন ৪৩ রান উঠেছে। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন যে, এরপর ম্যাচের পাল্লা বাংলার দিকে ঝুঁকে পড়বে। কিন্তু অন্যরকম ভেবেছিলেন রবি চৌহান ও নীতিন তনওয়ার। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রান যোগ করে বাংলার হাত থেকে ম্যাচের রাশ ছিনিয়ে নিচ্ছিলেন দুজনে। ৭৯/১ স্কোরে পৌঁছে গিয়েছিল সার্ভিসেস। স্পিন সহায়ক পিচে তখনই কামাল করেন বাংলার পেসার মহম্মদ কাইফ। রবি চৌহানকে এলবিডব্লিউ করে দেন। তারপরই ধস নামে সার্ভিসেস ব্যাটিংয়ে। ৬৯ রানে বাকি ৯ উইকেট হারায় সার্ভিসেস।

ম্যাচের শেষে বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল দিল্লি থেকে মোবাইল ফোনে এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, ‘কাইফের ওভারটাই টার্নিং পয়েন্ট। পার্টনারশিপ ভাঙার জন্য ওকে বল করাতে বলেছিলাম। কাইফ উইকেট নিয়ে ধাক্কা দেয় সার্ভিসেসকে। সেখান থেকেই ম্যাচ ঘুরে যায়।’ গোটা ম্যাচে পেসারদের ঝুলিতে এই একটিই উইকেট এসেছে।

বাংলার বাঁহাতি স্পিনার প্রদীপ্ত প্রামাণিক দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ৩ উইকেট বাঁহাতি স্পিনার শাহবাজ আমেদের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট নিয়ে শাহবাজই ম্যাচের সেরা। চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার পরই। ২টি উইকেট অফস্পিনার আমির গনির।

বাংলার পরের ম্যাচ কেরলের বিরুদ্ধে মঙ্গলপুরমে, ২৬ অক্টোবর থেকে। সার্ভিসেস ম্যাচ আগেভাগে শেষ হয়ে যাওয়ায় কি পুজোর কলকাতায় ফিরবেন? লক্ষ্মীরতন বললেন, ‘চোরবাগানে মর্মান্তিক ঘটনার পর পুজোর আনন্দ আর বেঁচে নেই। তাই আমরা কলকাতায় ফিরছি না। আপাতত ২ দিন দিল্লিতেই থাকব। শুক্রবার এখান থেকেই কেরল রওনা হব।’

হাতে আর মাত্র ১৯৬ রানের পুঁজি ছিল। মঙ্গলবার মাঠে নামার আগে ছেলেদের কী বলেছিলেন? লক্ষ্মী বললেন, ‘বেশি কিছু বলিনি। টিমহাডলে শুধু বলেছিলাম, যা বলার মাঠে নেমে পারফরম্যান্স দিয়ে বলো। ছেলেরা সেটাই করে দেখিয়েছে।’ লক্ষ্মী যোগ করলেন, ‘পরপর ২ ম্যাচ জিতে রঞ্জি অভিযানের শুরুটা ভাল হয়েছে আমাদের। এই ছন্দ ধরে রাখতে হবে।’

Post Comment

You May Have Missed