Durga Puja 2026: ‘যেতে নাহি দিব…’ আজ মহানবমী, আর মাত্র একদিন! উৎসবের শেষ প্রহরে আনন্দ, আবেগ আর বিষাদের সুর

ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচির ধোঁয়া, আলোর রোশনাই আর মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়-দুর্গাপুজোর কলকাতা যেন এক অন্য শহর। কিন্তু নবমীর সকাল থেকেই সেই চেনা আনন্দের আড়ালে ধীরে ধীরে উঁকি দেয় মনখারাপ। কারণ, পুজোর শেষ লগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে শহর। আর মাত্র কয়েকটা মুহূর্ত, তারপরই যে বিদায়ের পালা!

নবমী মানেই কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় শেষবারের মতো প্যান্ডেল হপিংয়ের উন্মাদনা। কেউ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ঠাকুর দেখতে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে রাত জাগার পরিকল্পনা করেন। কারও লক্ষ্য শহরের নামী মণ্ডপ, আবার কেউ খুঁজে নেন পাড়ার ছোট্ট পুজোর আন্তরিকতা। তবু নবমীর বর্ণময় ক্যানভাসে কোথাও যেন লেগে থাকে বিষাদের সুর।

নবমীর দুপুর মানেই বহু পুজোমণ্ডপে ভোগ খাওয়ার আয়োজন। খিচুড়ি, লাবড়া, চাটনি, পায়েস—পাত পেড়ে একসঙ্গে খাওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন আট থেকে আশি। ব্যস্ত শহরের পরিচিত দূরত্ব যেন কয়েক দিনের জন্য মুছে যায়। অপরিচিত মানুষও পাশাপাশি বসে ভোগ খান, গল্প করেন, ভাগ করে নেন উৎসবের আনন্দ। দুর্গাপুজো তো শুধুই প্রতিমা দর্শন নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন। শিকড়ের টানে ফিরে আসা পুরনো পাড়ায়৷ আর একরাত৷ তারপরেই শুরু হবে বিদায়ের তোরজোর৷ নবমীর অন্যতম আকর্ষণ ধুনুচি নাচ। ঢাকের তালে ধুনুচি হাতে নাচের ছন্দে মেতে ওঠেন পুজোর উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থীরাও। ধুনুচির ধোঁয়া, ঢাকের তালে তালে শরীরী ছন্দ আর মণ্ডপজুড়ে উচ্ছ্বাস—এই দৃশ্য যেন বাঙালির দুর্গোৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

নবমীর রাত কলকাতার পুজোর অন্যতম ব্যস্ত সময়। আলোকসজ্জায় ঝলমল শহরের রাস্তায় তখন মানুষের ঢল। কেউ শেষবারের মতো প্রিয় মণ্ডপে ফিরে যান, কেউ বাকি থাকা ঠাকুর দেখা শেষ করতে ছোটেন এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়।রাত পোহালেই শুরু হবে বিদায়ের প্রস্তুতি। যে প্রতিমাকে ঘিরে এত দিনের অপেক্ষা, যে মণ্ডপে প্রতিদিনের আড্ডা, যে আলোয় শহরকে নতুন করে চিনে নেওয়া, সবকিছুই শেষের দিকে এগোয়। তাই নবমীর আনন্দের মধ্যেও থাকে একরাশ বিষণ্ণতা। এই শেষ রাতটুকু যেন নিজের মতো করে বাঁচিয়ে রাখতে চায় গোটা বাংলা।

ধরণীর প্রান্ত হতে নীলাভ্রের সর্ব্বপ্রান্ততীর/

ধ্বনিতেছে চিরকাল অনাদ্যন্ত রবে/

“যেতে নাহি দিব! যেতে নাহি দিব।” সবে

কহে “যেতে নাহি দিব!”/ তৃণ ক্ষুদ্র অতি

তারেও বাঁধিয়া বক্ষে মাতা বসুমতী

কহিছেন প্রাণপণে “যেতে নাহি দিব!”/

আয়ুঃক্ষীণ দীপমুখে শিখা নিব’-নিব’/

আঁধারের গ্রাস হতে কে টানিছে তারে,/

কহিতেছে শতবার “যেতে দিব না রে!”/

এ অনন্ত চরাচরে স্বৰ্গমর্ত্ত্য ছেয়ে/

সব চেয়ে পুরাতন কথা, সব চেয়ে/

গভীর ক্রন্দন “যেতে নাহি দিব।” হায়,/

তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়!

Post Comment

You May Have Missed