সারারাত ট্রেন সফর, প্ল্যাটফর্মেই জিরিয়ে নিয়ে ২২ গজে দাপট, জাতীয় দলে বাংলার অভিপ্রায়

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: সামনে দোর্দণ্ডপ্রতাপ অস্ট্রেলিয়া। প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়ায় যারা সিদ্ধহস্ত।

সেই অস্ট্রেলিয়ার (India vs Australia) বিরুদ্ধে মাঠে নামার সময় অভিপ্রায় বিশ্বাসের কি মনে পড়ে যাবে মাঝরাত পেরিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে দুর্গাপুর স্টেশনে যাওয়া, ভোরে হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছে বেঞ্চে বসে খানিক জিরিয়ে খেলার মাঠের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সেই মুহূর্তগুলো? যা তাঁকে শুধু মানসিকভাবে কঠোরই করেনি, জাতীয় দলে খেলার সোপান তৈরি করে দিয়েছে? যে সিঁড়ি বেয়ে  হেঁটে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিরুদ্ধে আসন্ন মাল্টি ডে ক্রিকেট সিরিজে ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে জায়গা করে নিয়েছেন অভিপ্রায়।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর মাসে দেশের মাটিতে ওয়ান ডে ও লাল বলের ক্রিকেট সিরিজ খেলবে ভারত। মাল্টি ডে সিরিজের দলে সুযোগ পেয়েছেন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিপ্রায় বিশ্বাস। যাঁর ক্রিকেট সফর খানিকটা সিনেমার মতো। দুর্গাপুর ওয়ানে সুকান্তপল্লিতে বাড়ি। মা, বাবা ও দাদুকে নিয়ে ছোট পরিবার অভিপ্রায়ের। বাবা পঙ্কজ কুমার বিশ্বাস চিকিৎসক। মা অলকা বিশ্বাস গৃহবধূ।

ক্রিকেট খেলা শুরু কীভাবে? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত উইকেটকিপারদের শিবিরের জন্য বেঙ্গালুরুতে সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে রয়েছে অভিপ্রায়। সেখান থেকে ফোনে এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, ‘ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল ক্রিকেটার হব। দুর্গাপুর ওয়ানে একটি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হই। তখন আমার ৭ বছর বয়স। তবে আমাদের ওখানে ক্রিকেট খেলার সুযোগ সুবিধা কম। আমি তাই সল্ট লেকের করুণাময়ীতে ভিডিওকন অ্যাকাডেমিতে (টোয়েন্টি টু ইয়ার্ডস অ্যাকাডেমি) আসা শুরু করি। আই টেন বলে খেলা শুরু করি। শনি ও রবিবার করে প্র্যাক্টিস থাকত। মায়ের সঙ্গে দুর্গাপুর থেকে মাঝরাতে বেরোতাম। হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশনে ভোরবেলা পৌঁছে গেলে প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে বসেই কিছুটা বিশ্রাম নিতাম। তারপর যে মাঠে খেলা বেরিয়ে পড়তাম।’

এরপর ভিডিওকন অ্যাকাডেমির হয়ে পরপর দু’বছর অনূর্ধ্ব ১৩ অম্বর রায় টুর্নামেন্টে খেলেন অভিপ্রায়। কিন্তু তারপরই কেরিয়ারে ধাক্কা। করোনার প্রাদুর্ভাবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। ক্রিকেট বন্ধ। অতিমারির শেষে ফের ক্রিকেটে ফেরা অভিপ্রায়ের। বর্ধমানের হয়ে সিএবি-র জেলা ক্রিকেটে নজর কাড়েন। বর্ধমানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটার। অভিপ্রায় বলছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই উইকেটকিপিং ও ব্য়াটিং, দুই-ই করতে ভালবাসি। প্রথমবার জেলা ক্রিকেট খেলার বছরই বাংলার অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগের সম্ভাব্য দলে ছিলাম। তবে মূল দলে সুযোগ পাইনি।’

এরপর সিএবি-র ক্লাব ক্রিকেটে প্রবেশ। ২০২২-২৩ মরশুমে ইন্টারন্যাশনাল ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলেন অভিপ্রায়। সিএবি-র অনূর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করেন। চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব। যা তাঁকে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৬ দলে সুযোগ করে দেয়। অভিপ্রায় বলছিলেন, ‘বাংলার অনূর্ধ্ব ১৬ দলের হয়ে তামিলনাড়ুতে প্রস্তুতি সফরে গিয়েছিলাম। সেখানে শেষ ম্যাচে ১৭৯ রান করি। তারপর আমদাবাদেও প্রস্তুতি ম্যাচে রান করি। বোর্ডের অনূর্ধ্ব ১৬ বিজয় মার্চেন্ট ট্রফির জন্য বাংলা দলে জায়গা করে নিই। বিজয় মার্চেন্ট ট্রফির প্রথম ২ ম্য়াচে রান পাইনি। তারপর লাগাতার তিন ম্যাচে – গোয়া, হরিয়ানা ও সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি।’

পরের মরশুমে বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ দলে ডাক পান অভিপ্রায়। পরে খেলেন অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। কোচবিহার ট্রফিতে সাড়ে তিনশো রান করেন। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বেঙ্গল টি-২০ লিগে খেলেন রশ্মি মেদিনীপুর উইজার্ডসের হয়ে। সেখানে ঋদ্ধিমান সাহার সাহচর্য, পরামর্শ পান। অভিপ্রায় বলছেন, ‘আমার প্রিয় উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহা। ওঁর কাছে অনেক কিছু শিখেছি। বিরাট কোহলির ব্যাটিং ভাল লাগে।’

আরও পড়ুন: বাছাই করা ক্রিকেটারকে উপেক্ষা! প্রশ্ন করায় দুর্ব্যবহার! CAB বৈঠকে ঝড়, কী বললেন অভিযুক্ত?

ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলে সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। বললেন, ‘আমি বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে আছি। দলীপ ট্রফি চলছে আর বাংলার ক্রিকেটার সূরয সিন্ধু জয়সওয়াল পূর্বাঞ্চল দলের সঙ্গে এখানে রয়েছে। আমি সূরজদার ঘরেই ছিলাম। আমাকে সৌরাশিস লাহিড়ী স্যর ফোন করে খবরটা দেন। তারপরই বাড়িতে জানাই। সকলে খুব খুশি। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছেন আমার দাদু।’

Previous post

সোনা ও রুপো কেনার বড় সুযোগ ! এক ধাক্কায় অনেকটা কমল দুই মূল্যবান ধাতুর দাম, দেখুন নতুন রেট

Next post

Raksha Bandhan 2026: টাটকা সবজিতে ভরে যাবে বাগান, ‘এই’ রাখি পরলেই বছরে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয়! কোথায় মিলছে? বিশদে জানুন

Post Comment

You May Have Missed