পদ খোয়ানোর পরেও ক্রিকেট দল নির্বাচনী বৈঠকে হাজির প্রাক্তন কর্তা! আধার কাণ্ডে নাজেহাল CAB
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বয়স ৭০ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বহাল তবিয়তে তিনি যুগ্মসচিবের জন্য বরাদ্দ ঘরে, যুগ্মসচিবের চেয়ারে বসছিলেন। এমনকী, কিছু কাগজপত্রে তিনি সই করছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির সুপারিশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে যায় সিএবি-তে।
প্রবল সমালোচনার পরে যুগ্মসচিব মদন ঘোষকে সরিয়ে দিয়েছে সিএবি। অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভায় নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচিত হবে।
এরই মাঝে ফের কাঠগড়ায় প্রাক্তন ক্রিকেটার মদন ঘোষ। এবার অভিযোগ উঠল, বাংলার দল নির্বাচনী বৈঠকে তিনি হাজির ছিলেন। দিন তিনেক আগে আসন্ন মরশুমের জন্য বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দল বেছে নিয়েছেন জুনিয়র নির্বাচকেরা। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি। যাঁকে এবার বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হেড কোচ করেছে সিএবি। কোচ হওয়ার পর এটাই মনোজের প্রথম দল নির্বাচনী বৈঠক। যে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিএবি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত। শোনা গেল, বৈঠকে ছিলেন সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও। সিএবি সচিব বাবলু কোলে এখন দেশের বাইরে। তাই তিনি থাকতে পারেননি। বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ বিভাগের সম্ভাব্য দলে কোন ক্রিকেটারদের রাখা হবে, নির্ধারিত হয় সেই বৈঠকে।
এই পর্যন্ত ঠিকই আছে। কিন্তু গোলটা বেঁধেছে চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনাকে ঘিরে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দল নির্বাচনী সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন লোঢা আইনে ‘বাতিল’ যুগ্মসচিব মদন ঘোষ। যা শুনে সিএবি-র একাংশ স্তম্ভিত। প্রশ্ন উঠছে, কীসের মাপকাঠিতে নির্বাচনী বৈঠকে ‘প্রাক্তন’ হয়ে যাওয়া সিএবি কর্তা থাকতে পারেন?
সিএবি-র সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এবিপি লাইভ বাংলাকে বললেন, ‘নির্বাচনী বৈঠকে মদন ঘোষ ছিলেন। কীসের ভিত্তিতে ছিলেন, কেউই জানে না। তবে আইনত এটা সম্ভব নয়।’
মদন ঘোষকে নিয়ে বিতর্কের রেশ থামছে না। তাঁর বয়স ৭০ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যুগ্মসচিব পদ আঁকড়ে ছিলেন। বিতর্কের ঝড় ওঠার পর কার্যত বাধ্য হয়ে তাঁকে সরাতে হয়। নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচনের দিনক্ষণও ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কী করে নির্বাচনী বৈঠকে থাকলেন মদন? প্রশ্ন তুলছে ময়দানের একাংশ।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়ার জন্য মদন ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি ফোন ধরেননি। হোায়াটসঅ্যাপের জবাব দেননি।
সিএবি-র কেউ কেউ ক্ষুব্ধ, যেভাবে প্রাক্তন যুগ্মসচিব গাড়ি থেকে শুরু করে এখনও অনেক সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা থেকে, তা নিয়ে। বুধবার ডক্টর বিধান চন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী ছিল। সকালে ইডেনে বিধান চন্দ্র রায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস, কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়, অবজার্ভার কমিটির প্রধান শ্রীমন্ত মল্লিক প্রমুখ। সেখানেও সামনের সারিতে ছিলেন মদন। কেউ কেউ যদিও বলছেন, প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসাবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে আসতেই পারেন মদন ঘোষ। কিন্তু দল নির্বাচনী বৈঠকে প্রবেশ করলেন কীভাবে?
বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দল নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছে। আধার আপডেটের ইতিহাস মেনে এবার ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারদের চিহ্নিত ও বাতিল করার কাজ চলছে সিএবি-তে। ভারতীয় বোর্ডের নিদান মেনে। কিন্তু ঝাড়াই বাছাই শুরু হতেই দেখা দিয়েছে সমস্যা। বহু ক্রিকেটার যাঁরা বাংলার বিভিন্ন দলে রয়েছেন, তাঁরা বাতিল হয়ে যাচ্ছেন। অনূর্ধ্ব ১৯-এর প্রাথমিক দল নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
জানা গেল, দলের দুই ক্রিকেটার – শিবম ঝা ও শ্রীনাথ মোহান্ত আধার কার্ড আপডেটের ইতিহাস অনুযায়ী বাংলার হয়ে খেলতে পারবেন না। তাঁরা বাদ পড়ায় বাঁহাতি কোনও পেসারই নেই দলে। ডানহাতি পেসার শিবম ভারতীর বলের গতি দেখে ভাল লেগেছে কোচ মনোজ তিওয়ারির। তবে তাঁর নিয়ন্ত্রণ, লাইন-লেংথ নিয়ে পরিশ্রম করতে হবে বলে জানালেন মনোজ। ৫০ ওভারের ট্রায়াল ম্যাচ খেলিয়ে ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার থেকে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের ফিটনেসের ওপর শিবির শুরু হবে।
FIFA World Cup 2026: মহাকাশে বিশ্বকাপের ফুটবল! ‘Trionda’ নিয়ে গবেষণা করছে NASA?



Post Comment