ভেনিজুয়েলায় রহস্যমৃত্যু ভারতীয় নাবিকের, দেশে ফিরল নিথর দেহ, গায়েব মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, যকৃৎ…

ভেনিজুয়েলায় রহস্যমৃত্যু ভারতীয় নাবিকের, দেশে ফিরল নিথর দেহ, গায়েব মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, যকৃৎ…

নয়াদিল্লি: বিদেশে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ভারতে দেহ ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁর। কিন্তু মৃত নাবিকের শরীরের একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গায়েব বলে অভিযোগ। জানা যাচ্ছে, ওই নাবিকের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস গায়েব। ছিল না যকৃৎও। গোটা ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে। (Indian Sailor Body Parts Missing)

মে মাসে ভেনিজুয়েলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ভারতীয় নাবিক, ৩৩ বছর বয়সি রাকেশ চৌহান। তাঁর পরিবারের দাবি, রাকেশের দেহ ফিরিয়ে আনার পর ময়নাতদন্ত করা হয়। আর তাতেই দেখা যায়, ভিতর থেকে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস এবং যকৃৎ গায়েব হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে ফেডারেশন অফ সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন্স অফ ইন্ডিয়া (FSUI)। (Indian Sailor Dead in Venezuela)

FSUI জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ার বাড়িতে রাকেশের দেহ পাঠানো হয়। ভেনিজুয়েলা থেকে তখনও সম্পূর্ণ তথ্য আসেনি, ছিল না ময়নাতদন্তের রিপোর্টও। তাই নতুন করে ময়নাতদন্তের দাবি জানান পরিবারের লোকজন। সেই মতো মনাতদন্ত করা হলে দেখা যায়, শরীরের ভিতর কোনও অঙ্গই নেই। 

আরও পড়ুন: পশ্চিম থেকে পূর্বে ভারতকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা? পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ-মায়ানমারকে নিয়ে করিডর গড়তে চায় চিন

FSUI দাবি করেছে যে, রাকেশের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, উভয় ফুসফুস, যকৃৎ, বৃক্ক, প্লীহা, অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলী, অন্ত্র, কিছুই ছিল না। পাওয়া যায়নি থাইরয়েড, ল্যারিংস, ট্রাকিয়াও। ঘাড়ের কাছে ২২টি সেলাই ছিল, ২১টি সেলাই ছিল এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত। প্রায় এক মাস হিমায়িত অবস্থায় রাখা ছিল মৃতদেহটি। 

নাবিকের দেহের এমন অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। FSUI-এর বক্তব্য, ‘এমনটা কাম্য নয়। নাবিকরা বলির পাঁঠায় পরিণত হয়েছেন। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চাই, ভেনিজুয়েলার প্রশাসনকে এর দায় নিতে হবে। সেখানে ভারতীয় দূতাবাস অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করুক। নয়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাই। কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে…গোটা ঘটনার বিচার হোক। পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’।

রাকেশের পরিবার জানিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ভেনিজুয়েলা যান ছেলে। মার্চেন্ট নেভির জাহাজে তিন কর্মীর মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। যে সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, তাদের তরফে মৃত্য়ুর খবর দেওয়া হয় পরিবারকে। ৬০ দিনের মধ্যে দেহ পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। জেলাশাসকের হস্তক্ষেপে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত হতেই গোটা বিষয়টি সামেন আসে বলে দাবি পরিবারের। এব্য়াপারে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন রাকেশের পরিবারের লোকজন।

আরও পড়ুন: পশ্চিম থেকে পূর্বে ভারতকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা? পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ-মায়ানমারকে নিয়ে করিডর গড়তে চায় চিন

রাকেশের পরিবারের দাবি, জাহাজে ছেলে পড়ে গিয়েছে বলে প্রথমে জানানো হয়। পরদিন সকালে ফোন করে জানানো হয়, না বাঁচার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ। সন্ধে হতে হতে মৃত্যুর খবর আসে। পড়ে গিয়ে, আঘাত পেয়ে রাকেশ মারা গিয়েছেন বলে জানানো হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে দেহ পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল ওই সংস্থা। কিন্তু ছেলের দেহ পেতে সময় লেগে গেল প্রায় এক মাস।

ময়নাতদন্তের সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হৃদপিণ্ড, পিত্তথলি, কিডনির মতো অঙ্গ বের করে আনা হলেও, এক্ষেত্রে ভেনিজুয়েলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ওই সংস্থার আচরণ সন্দেহের উদ্রেক ঘটিয়েছে। রাকেশের মৃত্য়ু নিয়ে কারও তরফেই স্পষ্ট ভাবে কিছু বলা হচ্ছে না। ভেনিজুয়েলায় যে ময়নাতদন্ত হয়েছিল, তার রিপোর্টও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে রাকেশের মৃত্য়ু ঘিরে রহস্য বাড়ছে।



Previous post

Suvendu Adhikari: ক্যান্সার আক্রান্তের সমস্যা শুনেই নির্দেশ শুভেন্দুর, নিউ টাউনে চালু নতুন রুট! বাস বাড়ছে কোন কোন রুটে?

Next post

‘দেবরাজের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ জানতেন?’ পুলিশের কি কি প্রশ্নের মুখে পড়লেন অদিতি মুন্সী?

Post Comment

You May Have Missed