E20 পেট্রোলের ব্যবহার এখনও পরীক্ষামূলক, দেশজোড়া বিতর্কের মাঝেই সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি কেন্দ্রের
Last Updated:
বহু গাড়ির মালিক অভিযোগ করেছেন ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের আগে যে সমস্ত যানবাহন ভারতে চলার জন্য তৈরি হয়েছে, সেগুলি ই ২০ জ্বালানি ব্যবহারে উপযুক্ত নয়৷
ই২০ পেট্রোল ব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ দেশে ই২০ মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহারই বাধ্যতামূলক হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বীকারোক্তি জমা দিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল যানবাহনে ই২০ জ্বালানির ব্যবহার শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক ভাবেই করা হচ্ছে৷ আগামী বছর এই পরীক্ষামূলক ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷
মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমনি সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, বর্তমানে যানবাহনে ই২০ জ্বালানির যে ব্যবহার শুরু হয়েছে তার ফলাফল কী দাঁড়ায় তা মূল্যায়ন করছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশজুড়ে পরীক্ষামূলক ভাবে ই২০ জ্বালানি ব্যবহার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হবে৷
উচ্চমাত্রায় এথানল বা ই২০ মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহারে বিশেষত কয়েক বছরের পুরনো যানবাহনের এঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি গাড়ির মাইলেজও কমছে বলে দেশজুড়ে অভিযোগ উঠছে৷ বিশেষত যে যানবাহন গুলি ই ২০ বা উচ্চমাত্রায় এথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নয়, তাতে এই ধরনের জ্বালানি ভরলে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে যানবাহনের ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল বলেই অভিযোগ করা হচ্ছে৷
এথানল সরবরাহের বরাত নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড৷ সেই মামলার শুনানি চলাকালীনই এ দিন সুপ্রিম কোর্টকে ই ২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে এই তথ্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল৷
গাড়ির মালিকদের অভিযোগ, ই২০ পেট্রোলের ব্যবহারে গাড়ির ফুয়েল লাইন ক্ষয়ে গিয়ে মাইলেজ কমে৷ যদিও এই উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ই ২০ জ্বালানির ব্যবহার বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত এবং নিরাপদ৷ ই ২০ জ্বালানি ব্যবহার করে গাড়ির এঞ্জিনের অথবা গাড়ির যান্ত্রিক কোনও ক্ষতি হয়েছে, তার পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি বলেও দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷
তবে ই২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে যে বিতর্কই থাক না কেন আর্থিক দিক দিয়ে দেখতে গেলে দেশের অর্থনীতির জন্য এই পরিবর্তন বিপুল সাশ্রয়কারী৷ পেট্রোল, ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বেশি মাত্রায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে অপরিশোধের তেলের আমদানি কমবে৷ পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার ফলে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে ১ লক্ষ ৪১ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বিদেশী মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে৷
কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বছরের মধ্যে ই২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য হাতে পেতে চাইছে৷ তবে ২০৩০ সালের মধ্যে পেট্রোল, ডিজেলে এথানল মিশ্রণের মাত্রা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল তা অপরিবর্তিতই রয়েছে৷
Kolkata,West Bengal




Post Comment