“১২ পাতার ফর্মে…”, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপ নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া শহরের বাসিন্দাদের ?
কলকাতা: এবার তালিকা থেকে এসব বেনোজল বার করতে উদ্য়োগী হয়েছে রাজ্য়ের বিজেপি সরকার। কারণ, জুন মাস থেকেই শুরু হচ্ছে তাদের অন্নপূর্ণা যোজনা। রাজ্য় সরকার জানিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সবাইকেই ফিল আপ করতে হবে। বুধবার রাতেই অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। শুক্রবার থেকে অফলাইনে ফর্ম পাওয়া যাবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন, মমতা নিয়ে এবার বিস্ফোরক তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা, বললেন ‘ভয় পাই নাকি’ !
অনলাইনে ফর্ম আপলোড হতেই তা ডাউনলোড করে ফিলআপ করতে শুরু করে দিয়েছেন আবেদনকারীরা। ১২ পাতার ফর্মে, নিজের ও পরিবার সম্পর্কে নানা তথ্য দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের। যেমন, পরিবার কি মাসিক রেশন তোলে? ৩টির বেশি পাকা ঘর আছে কি? পরিবারের সব সদস্য মিলে মোট জমির পরিমাণ কত? পরিবারে কারও চারচাকা গাড়ি আছে কি? স্বাস্থ্যবিমা আছে কি? পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত? যাদবপুরের বাসিন্দা তনুশ্রী কর্মকার। পেশায় গৃহশিক্ষিকা। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপ করে ফেলেছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী তনুশ্রী কর্মকার বলেন, খুব কঠিন না। যা যা আপনাদের কাছে ডকুমেন্টস আছে সেই অনুযায়ী এটা ফিলআপ করতে হবে। যাদের পাওয়ার দরকার তাঁরা পাবেন। অযথা কাউকে দিয়ে জিনিসটা নষ্ট হবে না।আমার মনে হয় এটা সুষ্ঠু পথে এগোচ্ছে। অনলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ডাউনলোড করেছেন বাঘাযতীনের বাসিন্দা গৃহবধূ সুনন্দা মালাকারও। অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী সুনন্দা মালাকার বলেন, না মোটেও কঠিন নয়। আমি অনলাইন থেকে এটাকে ডাউনলোড করে নিয়েছি। ডাউনলোড করে নেওয়ার পর ফিলআপ করছি। যবে জমা দেওয়ার জমা দিয়ে দেব। স্বচ্ছভাবে করার জন্য যেটুকু প্রক্রিয়া রয়েছে, যেটুকু করা দরকার সেটুকুই করছি। সমস্ত সোজা ভাষায় লেখা।
তবে অনেকে এক্ষেত্রে ভিন্নমত। সন্তোষপুরের বাসিন্দা রুমা দাস বলছেন অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য তিনি আবেদনই করবেন না। সন্তোষপুরের বাসিন্দা রুমা দাস, অন্নপূর্ণার ফর্ম ফিলআপ করব না। ১২ পাতার ফর্ম। বাড়ির দলিল চাইছে। পাকা বাড়ি কিনা জানতে চাইছে। হাজব্যান্ড ডিটেলস চাইছে এগুলো দেওয়া যায় নাকি? বিজয়গড়ের বাসিন্দা গৃহবধূ পূজা সাহার অবশ্য় ফর্মে নিজের সম্পর্কে তথ্য় দিতে কোনও আপত্তি নেই। অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী পূজা সাহা বলেন, যে ফর্মটা এসেছে সেটা খুবই সহজ। মানুষ খুব ভয় পাচ্ছে, কী দিতে হবে, কী ফিলআপ করতে হবে আদৌ পাব কিনা। এটাই বেস্ট। আমি মনে করি এটাই বেস্ট।পঞ্চসায়রের বাসিন্দা মুনমুন দে আবার অন্য় কথা বলছেন। পঞ্চসায়রের বাসিন্দা মুনমুন দে বলেন, শুধু আমরা কেন বহু প্রান্তিক মানুষই দিতে পারবে না। এত তো তথ্য দেওয়ার দরকার ছিল না। আমাদেরকে ভোটের আগে যেই ফর্ম দেখানো হয়েছিল সেটায় তো এক কিছু ছিল না।
বুধবার রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদেরও অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপ করতে হবে।সরকারের তরফে ভেরিফিকেশনের পর তালিকায় নাম উঠলে তবেই মাসে ৩ হাজার টাকা মিলবে। ভেরিফিকেশনে ফর্ম বাতিল হয়ে গেলে টাকা পাওয়া যাবে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা ছিলেন অজয়নগরের বাসিন্দা কৃষ্ণা নন্দী। এবার তিনি কী করবেন? অজয়নগরের বাসিন্দা কৃষ্ণা নন্দী বলেন, আমি আমার নথি দিতে পারি কিন্তু পরিবারের অন্য কারওরটা কেন দেব? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাই কিন্তু এত জটিলতার মধ্যে নেই। যদিও, সমস্ত আবেদনকারীকেই আশ্বস্ত করেছেন রাজ্য়ের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী।
নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন,’আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ফর্মটা আমরা আনব না। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান তাঁরাই অন্নপূর্ণা পাবেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী যেমনটা বলেছেন প্রচুর ভুয়ো লোক ঢুকে আছে এর মধ্যে। তাই ফর্মটা আনতে হয়েছে। ‘রাজ্য় সরকারের তরফে স্পষ্টই জানানো হয়েছে, যে মহিলারা আয়কর দেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না। ভোটার তালিকায় যাদের নাম নেই, তাঁরাও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। CAA-তে যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাঁরা ব্যতিক্রম। SIR-এ নাম বাদের পর যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য় আবেদন করতে পারবেন। আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে হলে চূড়ান্ত তালিকায় কত জন উপভোক্তা হিসাবে নথিভুক্ত হন, সেটাই এখন দেখার।



Post Comment