‘লবিবাজি’, ‘প্রশ্নহীন আনুগত্য’… দল নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই-ক্ষোভ প্রতীক উর রহমানের

‘লবিবাজি’, ‘প্রশ্নহীন আনুগত্য’… দল নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেই লড়াই-ক্ষোভ প্রতীক উর রহমানের

Pratik Ur Rahman:দল নয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়াই প্রতীক উর রহমানের। বর্তমান রাজ্য সম্পাদকের প্রতি রয়েছে যথেষ্ট ক্ষোভও। ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে ‘লবিবাজি’, ‘প্রশ্নহীন আনুগত্য’ নিয়ে কী বললেন প্রতীক উর রহমান? 

সুমন দে – ‘শোলে’ ফিল্মের ঠিক ৫০ বছর পর, তুমি রাজ্য রাজনীতিতে ‘শোলে’- কে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছ। তুমি বলেছ সিপিএম দলে গব্বর আছে। একেবারে ডর কা মহৌল চালায়। ওখানে কথা বলা যায় না। ওখানে প্রশ্ন করা যায় না। সেই গব্বর সিংয়ের প্রশ্নে আমি পরে আসব। আগে বলো, তুমি জয়, বীরু নাকি ঠাকুর বলদেভ সিং? 

প্রতীক উর – এখন তো মনে হচ্ছে ঠাকুর বলদেভ সিং। দুটো হাত কেটে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমার সামনে ওই কাঁটাওয়ালা জুতো ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই। ফলে ওই কাঁটাওয়ালা জুতোটাই আমাকে পরতে হচ্ছে। 

সুমন দে – দু’টো হাত কে কাটল 

প্রতীক উর – মতাদর্শকে সামনে রেখে একদল নেতৃত্ব আছেন, যাঁরা মতাদর্শকে সামনে রেখে নিজের ব্যক্তি ইমেজকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাঁরাই মেরেছে। সেখানে প্রশ্ন করা যাবে না। প্রশ্নহীন আনুগত্য। প্রশ্নহীন আনুগত্য না থাকলে ডানা কাটা হবে। 

সুমন দে – তুমি প্রশ্ন করেছ বলে লবিবাজি হয়েছে 

প্রতীক উর – আমি কেন, আমার মতো অসংখ্য কর্মী সমর্থক রয়েছেন যাঁরা প্রতিদিন লবিবাজির শিকার হচ্ছেন। আমি নিজের চোখে দেখেছি ছাত্র রাজনীতি করার সময়। এখনও সেই লবিবাজি চলছে। স্টিল নাউ টুডে, কোথাও না কোথাও, কোনও ব্রাঞ্চে, ইউনিটে, লোকালে সেই লবিবাজির শিকার হচ্ছে। আজকে একজন প্রতীক উর হয়তো প্রকাশ্যে বলেছে। কিন্তু হাজার হাজার প্রতীক উরের মনে প্রশ্ন রয়েছে, যারা হয়তো বলার সাহস পাচ্ছে না, বা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। 

সুমন দে – তুমি কাকে কী প্রশ্ন করেছিলেন যে টানা ২ বছর, তোমারই কথা অনুযায়ী, তোমাকে কোনও সংগঠনে বা পদে রাখা হয়নি? 

প্রতীক উর – এর জন্য একটু পিছনে ফিরে দেখতে হবে। সূর্যদা যখন রাজ্য সম্পাদক ছিলেন, আমরা তখন সবে সদ্য নতুন ছাত্র রাজনীতিতে ঢুকেছি, আমাদের রাজ্য কমিটি মেম্বার করলেন। সেই সময় সূর্যদা একঝাঁক তরুণ নেতৃত্বকে রাজ্য কমিটির মধ্যে আনলেন। ভোটে দাঁড় করালেন। আমরা খুব খোলা মনে কাজ করছিলাম। মনে আছে, সূর্যদা মিটিং করতেন। আমরা হুলিয়ে মিটিংয়ের সমালোচনা করতাম। ওই দিনই ডাকতেন। আস্তে করে জিজ্ঞেস করতেন কী বলেছ, বিষয়টা কী… আমি বলতাম। পরের দিন এসে বলতেন তোমার অ্যাঙ্গেলটা ঠিক আছে। তবে ওই অ্যাঙ্গেলটা ভাবতে পারো। এটাই তো আমাদের লিডার যে, প্রশ্ন তুমি করো, তার বদলে আমি তোমাদের উৎসাহিত করব, যাতে পরের দিন গিয়ে আরও বেটার প্রশ্ন করবে। আমরাও উৎসাহিত হতাম পরের দিন গিয়ে আবার প্রশ্ন করার। 

সেলিমদা যখন থেকে হলেন, অদ্ভুত ভাবে, সূর্যদা যে টিমটা তৈরি করেছিলেন, ইয়ং জেনারেশনের টিম গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে, যাদের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছেন, নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের মধ্যে থেকে ছাঁকনি দিয়ে বেশ কয়েকজনকে তুলে নিলেন। টার্গেট হল যাদেরকে উনি তুলে আনছেন, ওনার পেয়ারের লোক, কাছের লোক, ক্যামেরার ভাষায় তাদের ফ্রেমে যেন অন্য কেউ না থাকে। অন্য যারা থাকবে, যদি মনে হয়, যে ওদের কম্পিটিটর কেউ আছে, তাদের আস্তে আস্তে শুইয়ে দাও। 

প্রতীক উর রহমান স্পষ্ট ভাষায় এদিনের সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, আমার যে কথাগুলো সেগুলো ধ্রুব সত্য। আমি ধ্রুব সত্য তুলে ধরেছি বলেই এত মানুষ রেসপন্স করছেন। আমি দলের বিরুদ্ধে বলছি না। বামপন্থার প্রতি এখনও আমার অগাধ ভরসা। বিশ্বাস দৃঢ় ছিল, আজও আছে, আগামীতেও থাকবে, ভবিষ্যতেও থাকবে। দলের বিরুদ্ধে আমার কোনও কথা নেই। দলের অভ্যন্তরে কিছু ব্যক্তি, যারা জমিদারিত্ব কায়েম করতে চাইছে, ভয়ের পরিবেশ কায়েম করতে চাইছে, যারা সো-কলড আনুগত্য না থাকলে তোমাদের সামনে আনব না, আর প্রশ্ন করলে ডানা ছেঁটে দেব, আমার লড়াই তাদের বিরুদ্ধে, একেবারে ব্যক্তির বিরুদ্ধে।’ 

Previous post

২০২৪-এর ফাইনালও এত মানুষ দেখেননি, ভিউয়ারশিপে টি২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নজির গড়ল !

Next post

Suvendu Adhikari: খাতা খুলতে পারবে না তৃণমূল, ২০২৬-এ উত্তরবঙ্গে কত আসনে জিতবে বিজেপি? ভবিষ্যদ্বাণী শুভেন্দুর

Post Comment

You May Have Missed