মার্কেট থেকে মুহূর্তে উবে গেল ৫০ হাজার কোটি! গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেটের শেয়ারে ১৩% ধস, ওয়াল স্ট্রিটের ইতিহাসে নজিরবিহীন বিপর্যয়
Last Updated:
Google Alphabet stock crash: AI খাতে বিপুল বিনিয়োগের খরচ ও আয়ের অনিশ্চয়তায় ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধাক্কা। একদিনে ১৩% পড়ল গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেটের শেয়ার, বাজারমূল্য থেকে মুছল প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার।
গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম একদিনের ট্রেডিং সেশনে প্রায় ১৩ শতাংশ ধসে পড়েছে। সংস্থার ইতিহাসে একদিনে শতাংশের হিসাবে এটিই সবচেয়ে বড় পতন। এর জেরে বাজার মূলধন থেকে মুছে গিয়েছে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI খাতে বিপুল বিনিয়োগ এবং বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশার তুলনায় কম আয় নিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগই এই নজিরবিহীন শেয়ার বিক্রির অন্যতম কারণ।
বাজারে এই বিপুল ধস ওয়াল স্ট্রিটের কোনও সংস্থার ক্ষেত্রে একদিনে বাজারমূল্য হারানোর নিরিখে দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘটনা। AI খাতে বিপুল বিনিয়োগের ফলে সংস্থার মুনাফার মার্জিন কমে যাচ্ছে, অথচ সেই বিনিয়োগের তুলনায় এখনই সমানুপাতিক রিটার্ন মিলছে না—বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আশঙ্কাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
বাজারে এই আতঙ্কের মূল কারণ অ্যালফাবেটের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফল। সংস্থার অন্যতম প্রধান ব্যবসা গুগল সার্চ থেকে আয় বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সার্চ থেকে আয় বেড়ে প্রায় ৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছলেও ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে জেনারেটিভ AI-নির্ভর বিভিন্ন ফিচার এবং ব্যবহারকারীদের সার্চ করার অভ্যাসে পরিবর্তনের জেরে প্রচলিত সার্চ ব্যবসার আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে অ্যালফাবেটের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের নেগেটিভ ফ্রি ক্যাশ ফ্লো। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিকে সংস্থার হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ ঋণাত্মক হয়ে গিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত করতে ডেটা সেন্টার, নিজস্ব চিপ এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল মূলধনী বিনিয়োগের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। AI পরিকাঠামোয় এই বিপুল খরচের পরেও দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই মুনাফা আসবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
অ্যালফাবেটের শেয়ারের দামে বড়সড় পতন হলেও সংস্থার ক্লাউড ব্যবসার পরিসংখ্যান যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। গুগল ক্লাউডের আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর ফলে স্পষ্ট, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে AI প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত পরিকাঠামোর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
পাশাপাশি, অ্যালফাবেট জানিয়েছে, তাদের স্বতন্ত্র Gemini AI অ্যাপ্লিকেশনের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটির মাইলফলক পেরিয়েছে।
তবে ক্লাউড ব্যবসা এবং Gemini-র ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। AI খাতে বিপুল বিনিয়োগের আর্থিক চাপ এবং তার তুলনায় আয়ের অনিশ্চয়তাই আপাতত অ্যালফাবেটের শেয়ার বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Post Comment