বয়স ৭০ পেরলেও চেয়ারে! সুপ্রিম কোর্টকে অগ্রাহ্য করার অভিযোগ, কী বলছেন সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট?

বয়স ৭০ পেরলেও চেয়ারে! সুপ্রিম কোর্টকে অগ্রাহ্য করার অভিযোগ, কী বলছেন সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট?

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বয়স সত্তর পেরিয়েছে। তবু পদ আঁকড়ে বসে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে! বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি-তে ফের অনিয়মের অভিযোগ। সংস্থার যুগ্মসচিবের পর এবার কাঠগড়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশ রঞ্জন দত্ত। ময়দানে যিনি অনু দত্ত নামেই পরিচিত।

আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কাণ্ডে দেশের ক্রিকেট তখন তোলপাড়। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের খোলনলচে বদলে দেয় বিচারপতি লোঢার কমিটি। লোঢা কমিটির দেওয়া সুপারিশ মেনে বদলে যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র। বদলে ফেলা হয় সমস্ত রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার গঠনতন্ত্রও।

যে গঠনতন্ত্রে সাফ বলা রয়েছে, বয়স ৭০ পেরিয়ে গেলে কেউ কোনও ক্রিকেট সংস্থার পদাধিকারী থাকতে পারবেন না। যে নিয়ম মেনে মেয়াদ ফুরনোর আগেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রজার বিনি। বোর্ডের বার্ষিক সাধারণ সভায় (AGM) মিঠুন মানহাস নির্বাচিত হওয়ার আগে অবধি যে কারণে বিসিসিআই প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলেছিলেন রাজীব শুক্ল। মনে করিয়ে দেওয়া যাক, রজার বিনি ক্রিকেটে বেশ বড় নাম। তিনি কপিল দেবের বিশ্বকাপজয়ী দলের ক্রিকেটার।

সিএবি-তে অবশ্য সত্তর পেরিয়ে গেলেও পদ আঁকড়ে থেকে যাওয়া নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। কয়েকদিন আগেই (২৩ মে) সিএবি-র যুগ্মসচিব, প্রাক্তন ক্রিকেটার মদন ঘোষের ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তিনি ইস্তফা দেননি। পদে বহাল। সিএবিতে যুগ্মসচিবের জন্য বরাদ্দ ঘরেই বসছেন। দরজায় জ্বলজ্বল করছে তাঁর নেমপ্লেট!

মদনের পর এবার কাঠগড়ায় নীতীশ রঞ্জন দত্ত। সংশোধিত ভোটার তালিকায় তাঁর বয়স ৭০ বছর নথিবদ্ধ রয়েছে। ভোটপর্ব মিটে গিয়েছে এবং ভোটার কার্ড অনুযায়ী অনু দত্তের বয়স ৭০ পেরিয়েছে। তা হলে কী করে তিনি পদে রয়েছেন? কেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশিকা মানছেন না?

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে অনু দত্ত বললেন, ‘জানি না কী করে SIR -এ আমার বয়স ৭০ বছর হল। ওরা মনে হয় অ্যাভারেজ ধরেছে।’ যদিও বয়সের ‘অ্যাভারেজ’ ঠিক কী বিষয়, বোঝাতে পারেননি। অনু দত্ত আরও বলছেন, ‘আমার প্যান কার্ড, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট, পাসপোর্ট সব জায়গায় আমার জন্মতারিখ ২৬ জুন, ১৯৫৭। সেই হিসেবে আমার ৭০ হয়নি।’ প্রশ্ন হচ্ছে, সদ্যই SIR পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। বয়সের গরমিল কি তিনি কারও নজরে এনেছিলেন? কোথাও কোনও আবেদন করেছেন? সদুত্তর নেই।

 

সিএবি-র প্রাক্তন যুগ্মসচিব ও কোষাধ্যক্ষ বিশ্বরূপ দে, প্রাক্তন যুগ্মসচিব সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়রা যদিও লোঢা সুপারিশ কার্যকর হতেই পদ ছেড়ে সরে গিয়েছিলেন। বাধ্যতামূলক কুলিং অফে গিয়েছিলেন বা গিয়েছেন স্বয়ং সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাক্তন সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া, স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়রা। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই নিয়ম মানছে না কেন? প্রশ্ন তুলছে সিএবি-র বিরাট বড় একটা অংশ।

অনু দত্ত অবশ্য পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন, ‘আগে তো কেউ কেউ টানা সাত বছর হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও পদে থেকেছেন। সেটা তাহলে কী করে পারলেন?’ গোটা ঘটনায় সিএবি কী পদক্ষেপ করে দেখার অপেক্ষায় ময়দান।

Previous post

Purulia News: পুরুলিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! পুড়ে ছাই গোশালার ১৬ লক্ষের খড়, অল্পের জন্য রক্ষা পেল গবাদি পশুরা

Next post

MLA Subhas Patra Inspection: ‘মানুষ তো দূর, ছাগলেরও…!’ রায়নার স্বাস্থ্যকেন্দ্র দেখে ‘থ’, রেগে লাল নয়া বিধায়ক সুভাষ পাত্র

Post Comment

You May Have Missed