টাটাদের জমি অধিগ্রহণ করে আয়ুর্বেদিক নিরাময়কেন্দ্র? মহারাষ্ট্র সরকারের বিজ্ঞপ্তি খারিজ

মুম্বই: টাটাদের জমিতে বেসরকারি আয়ুর্বেদিক নিরাময়কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা। সেই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল মহারাষ্ট্র সরকার। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিল বম্বে হাইকোর্ট। দেবেন্দ্র ফড়ণবীস সরকারের শোকজ নোটিসও বাতিল করা হল। মহারাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছিল টাটারা। (Tata Power’s Land Case)

Bar and Bench জানিয়েছে, একটি বেসরকারি আয়ুর্বেদিক নিরাময়কেন্দ্রের জন্য পুণেতে Tata Power Company Limited-এর জমির ৮৪ হেক্টর অধিগ্রহণ করতে চায় মহারাষ্ট্র সরকার। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সেই নিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। (Bombay High Court)

আরও পড়ুন: SBI থেকে ১২৬৬৮০০০০০০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে মেটাননি, ভিডিওকন কর্তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হল

ওই জমিটি Tata Power-এর ৭৫ মেগাওয়াট শক্তির জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রস্তাবিত ১০০০ মেগাওয়াট শক্তির জলাধার কেন্দ্র হিসেবেও চিহ্নিত। মহারাষ্ট্র সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে ওই জমিকে শিল্প এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জানা যায়, গবেষণা, শিক্ষা, আয়ুর্বেদিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা ‘মহর্ষি বেদোদ্ধারক ফাউন্ডেশন’ সেটিকে অধিগ্রহণ করবে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নিরাময় পরিষেবা প্রদান করা হবে সেখানে। 

টাটাদের ওই জমি লাগোয়া ১২৬ হেক্টর জমি আগেই  ‘মহর্ষি বেদোদ্ধারক ফাউন্ডেশনে’র হাতে উঠেছিল। বাড়তি জমি চেয়েছিল তারা নিরাময়কেন্দ্র এবং আয়ুর্বেদিক কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য। সেই নিয়ে ২০১৮ সালের ২৫ জুন সেই নিয়ে রতন টাটাকে চিঠিও লিখেছিলেন ফড়ণবীস। ওই জায়গা বৈদিক পণ্ডিতদের মন্ত্রোচ্চারণের জন্য আদর্শ বলে জানান তিনি। 

আরও পড়ুন: ফের শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাল বাংলাদেশ, ‘উনি অপরাধী’, বললেন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান

সেই নিয়ে  ‘মহর্ষি বেদোদ্ধারক ফাউন্ডেশন’ এবং Tata Power Company Limited-এর মধ্যে বৈঠকও হয়। কিন্তু জমি হস্তান্তরে রাজি হয়নি টাটারা। শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মামলার শুনানিতেই মহারাষ্ট্র সরকারের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে দিল বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মণীশ পিটালে এবং শ্রীরাম ভি শিরসাতের বেঞ্চ। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ‘মহর্ষি বেদোদ্ধারক ফাউন্ডেশনে’র পরবর্তী প্রক্রিয়াও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। 

টাটারা আদালতে জানায়, এক শতকেরও বেশি সময় আগে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওই জমিটি তাঁদের পূর্বসূরিদের হস্তান্তর করা হয়। একটি বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে এখন সরকার ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও স্বচ্ছতা আইন ২০১৩ লঙ্ঘন করছে মহারাষ্ট্র সরকার। 

বৃহস্পতিবার সেই নিয়ে শুনানি চলাকালীন সরকারের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয় আদালত। বাঁধের জলাধার এলাকাকে আধ্যাত্মিক ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, “Tata Power জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং জলাধার এলাকার ক্ষতির বিনিময়ে কি এটা হতে পারে? আমরা মনে করি, Tata Power যুক্তিযুক্ত কারণ দেখাতে পেরেছে।”

এতে মহারাষ্ট্র সরকারের আইনজীবী শ্রীহরি জি আনে এবং ‘মহর্ষি বেদোদ্ধারক ফাউন্ডেশনে’র  আইনজীবী অনিল আন্তুরকর দাবি করেন, জমিটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে প্রকল্পটি হলে ১০০০ কর্মসংস্থান হতে পারে। টাটাদের তরফে আগেভাগেই আবেদন জানানো হয় বলেও আদালতে দাবি করেন তাঁরা। 

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ মহারাষ্ট্র সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরে আদালত, যেখানে বলা হয়েছিল, বাঁধের সর্বোচ্চ বন্যাসীমা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনও রকমের উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে না। টাটাদের ওই জমি তাই এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানায় আদালত। কিন্তু যেভাবে জমিটি অধিগ্রহণের চেষ্টা চলছে, তা কাম্য নয় বলে জানায় আদালত।

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালত ২০১৮ সালের ৮ মার্চের একটি সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছে, যেখানে বাঁধের সর্বোচ্চ বন্যাসীমা (হাই-ফ্লাড লাইন) থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে যেকোনও ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, এই জমি “উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করা যাবে না”।

Post Comment

You May Have Missed