‘কালীঘাট’ বনাম ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’, বিধানসভায় যেন নাটক, শিবিরের মধ্যেও কি তৈরি হচ্ছে শিবির ?

‘কালীঘাট’ বনাম ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’, বিধানসভায় যেন নাটক, শিবিরের মধ্যেও কি তৈরি হচ্ছে শিবির ?

কলকাতা : এখন বিরোধীদের মধ্য়েও দু’ভাগ। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ আর ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। আর যা নিয়ে সোমবার বিধানসভায় তৈরি হল নাটকীয় পরিস্থিতি। ভোটাভুটির আগে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর সিংহভাগ বিধায়ক। তারমধ্যেই কয়েকজন আবার দলছুট হয়ে যান। দ্বিতীয়ার্ধ্বে আবার ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর কুণাল ঘোষ উঠে গিয়ে বসেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর বেঞ্চে! ছন্নছাড়া তৃণমূলের এই অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।                                            

তৃণমূল এখন দুই শিবিরে বিভক্ত। ‘কালীঘাট তৃণমূল’-‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। কিন্তু শিবিরের মধ্য়েও কি শিবির তৈরি হচ্ছে? বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে? সোমবার বিধানসভায় যা দেখা গেল, তার থেকেই উঠছে প্রশ্ন। সোমবার বিজেপি সরকারের দুটি বিল পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিল পাসে ভোটাভুটি শুরু হতেই তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর সিংহভাগ বিধায়ক। কিন্তু কয়েকজন দলছুট হয়ে যান। এই অবস্থায় বিধানসভার ভিতরে নিজের নিজের আসনে বসে পড়েন ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরের ৭ জন বিধায়ক। তাঁদের কয়েকজনকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায়।                    

সিগনালে দাঁড়িয়ে গাড়ি, ভেঙে পড়ল গাছ, রাসবিহারীতে অল্পের জন্য ৮ যাত্রীর রক্ষা 

এতো গেল প্রথমার্ধের কথা। বেলা গড়াতেই আরেক কাণ্ড। ঋতব্রত-তৃণমূলের তরফে বক্তব্য রাখছিলেন গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানি। তখন আচমকা তাঁর সামনের সারিতে দেখা গেল অদ্ভুত ছবি। ‘কালীঘাট – তৃণমূলের’ কুণাল ঘোষ উঠে গিয়ে বসলেন ‘ঋতব্রত – তৃণমূলের’ বেঞ্চে। একই সারিতে তখন – ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, কুণাল ঘোষ ও আখরুজ্জামান। তাঁদের কথাবার্তায় রীতিমতো বিরক্ত হন গোলাম রব্বানি। বিধানসভায় হইহট্টগোল শুরু হয়। এরপর ফের ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খানদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন কুণাল ঘোষ। বক্তব্য়ের মধ্য়ে এই ছবি দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন গোলাম রব্বানি।                        

এরপর ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ ও ‘কালীঘাট -তৃণমূলের’ সংঘাতের ছবি ধরা পড়ে বিধানসভায়। শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় অভিযোগ করেন, তাঁর জায়গায় কুণাল ঘোষ বলবেন বলে চিফ হুইপকে জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরও তাঁরই নাম দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। ছন্নছাড়া তৃণমূলের এই অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২ মাস আগেও যে দলটা ক্ষমতায় ছিল, আজ তাদের কার্যত দফারফা অবস্থা।                         

Post Comment

You May Have Missed