SSC সুপারিশপত্র প্রদান শুরু, হারানো চাকরি ফিরে পেয়ে কান্না চাকরিপ্রার্থী কৃষ্ণমৃত্তিকার !
কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: হারানো চাকরি ফিরে পেয়েও কান্না-ক্ষোভ চাকরিপ্রার্থীদের। ভোটের মুখে আজ থেকে শুরু হল এসএসসির সুপারিশপত্র প্রদান। একাদশ-দ্বাদশের একাংশকে দেওয়া হল নিয়োগের সুপারিশপত্র। দুর্নীতির কারণে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল। ফের যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মিলল সুপারিশপত্র। দুর্নীতি করল অন্যরা, খেসারত কেন তাঁদের দিতে হবে ? সুপারিশপত্র হাতে নিয়ে প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থীদের। একাদশ-দ্বাদশে সাড়ে ১২ হাজার শূন্যপদে মেধা অনুযায়ী সুপারিশপত্র দেওয়া হবে, খবর এসএসসি সূত্রে।সুপারিশপত্র মেনেই নিয়োগপত্র দেবে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এরপর শুরু হবে নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ পর্ব।
দুর্নীতির জেরে ২৬ হাজারের চাকরি বাতিল হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ফের পরীক্ষায় বসতে হয়েছে ৭-৮ বছর ধরে চাকরি করা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তাঁরা উত্তীর্ণ হয়ে অবশেষে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কারণ আজকে স্কুল সার্ভিসের তরফে, নিয়োগের সুপারিশ পত্র দেওয়া প্রথম শুরু হয়েছে। অর্থাৎ যারা এতদিন নিয়োগ পত্র হাতে পেয়েছেন, পেয়ে শিক্ষাকত করেছেন, দুর্নীতির জেরে তাঁদের চাকরি গিয়েছে, ফের পরীক্ষায় বসেছেন, তারপর আবার তাঁরা উত্তীর্ণ হয়ে, এইভাবে নিোয়গপত্রের সুপারিশ হাতে নিতে, স্কুল সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্রে যেটা জানা যাচ্ছে, নিয়োগ পত্রের সুপারিশ দেওয়ার জন্য, ৮০ জন এরকম চাকরিপ্রার্থীকে ডাকা হয়েছে। মূলত, একাদশ-দ্বাদশ যারা শিক্ষকতা করেন বা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেই এই নিয়োগপত্রের সুপারিশ দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামীদিন নবম-দশমের কাউন্সিলিং এবং নবম-দশমের ইন্টারভিউয়ের পর, তাঁদেরও এই পর্ব শুরু হবে।
যারা নতুন চাকরি প্রার্থী, যারা প্রথম চাকরি পেলেন, প্রায় ১০ বছর অপেক্ষা করে, তাঁদের মুখে এক চিলতে হাসি আজকের এই নিয়োগপত্রের সুপারিশ পেয়ে। কিন্তু তার পাশাপাশি যারা পুরনো , দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা আজকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। যে দুর্নীতি এবং যে দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার চাকরি বাতিল হল, আবার নতুন করে পরীক্ষা পর্ব শুরু হল, সেই পর্বের সমাপয়েৎ-র দিকে চলছে ভোটের আগেও, নিয়োগপত্রের সুপারিশ দেওয়া শুরু করল স্কুল সার্ভিস কমিশন।
চাকরিপ্রার্থী কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ জানিয়েছেন, ‘এটুকুই বলব, আমার শত্রুর সঙ্গেও যেনও এমন ঘটনা না ঘটে। কারণ ভীষণ, ..অনেক কষ্টের পর, অনেক সততা, অনেক সাধনার ফলে আমরা এই চাকরি পাই। অনেক কষ্টের ফল আমাদের। কিন্তু যে অসম্মান, অপমান প্রতিমুহূর্তে সইতে হয়েছে আমাদেরকে, সেটা আমরা কোনওদিন ভুলতে পারিনি। যে সময়ের মধ্যে দিয়ে আমরা গিয়েছি, যে সামাজিক অপমান আমরা সহ্য করেছি, সেটা শুধু আমরাই জানি। নিজের ঢোল নিজেদের পেটাতে হয়েছিল, সেটা শুধু আমরাই জানি। নিজেকে জারি করতে হয়েছিল যে, আমি ইউনিভার্সিটির টপার। দ্যাট ইজ ভেরি শেমড ফর মি। মানে এটা খুব লজ্জার আমার কাছে। আমরা যেনও কনটিনিউশনটা পাই। কারণ আমাদের চাকরি চলে যাওয়ার পিছনে আমাদের কোনও দোষ ছিল না। আমরা কোনও অপরাধ করিনি। ‘



Post Comment