High Court on maintenance case: ডিভোর্সের মুখে খোরপোশে ছাড় পেতে মোটা মাইনের MNC-র চাকরি ছাড়লেন যুবক, খেপে গিয়ে কোর্ট চাপাল ৪ কোটির ক্ষতিপূরণ!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সিঙ্গাপুরে উচ্চপদস্থ চাকরি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও রেহাই পেলেন না এক কানাডার নাগরিক। পরিবারের ভরণপোষণ এড়াতে গত বছর সিঙ্গাপুর থেকে কানাডায় পাড়ি দিলেও, আদালত তাকে প্রায় ৪ কোটি টাকা (৬৩৪,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার) বকেয়া রক্ষণাবেক্ষণ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
পরিবার ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে আইনি মারপ্যাঁচে বাঁচার চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হলো না এক কানাডীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার। বিদেশের মাটিতে বিলাসবহুল জীবন এবং বছরে ৬ কোটি টাকারও বেশি (বার্ষিক বেতন) আয়ের মোহ ছেড়ে তিনি নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন শুধুমাত্র স্ত্রী ও চার সন্তানের খোরপোশ এড়াতে। কিন্তু আদালতের কঠোর হস্তক্ষেপে এখন তাকে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের জরিমানা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০১৩ সালে এই দম্পতি সপরিবারে সিঙ্গাপুরে বসবাস শুরু করেন। ওই ব্যক্তি সেখানে একটি বহুজাতিক সংস্থায় অত্যন্ত উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে তিনি অন্য এক মহিলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেন এবং ঘর ছেড়ে চলে যান। এর পরপরই তার স্ত্রী নিজের এবং চার সন্তানের ভরণপোষণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। স্ত্রী আইনি আবেদন করার ঠিক পরেই ওই ব্যক্তি তার লোভনীয় চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন এবং এক পর্যায়ে সিঙ্গাপুর ছেড়ে কানাডায় চলে যান।
আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
২০২৪ সালের শুরুর দিকে আদালতের শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জুম (Zoom) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিলে সেই পরোয়ানা বাতিল করা হয়। শুরুতে তিনি মাসে ২০,০০০ ডলার (প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পরে তা কমিয়ে ১১,০০০ ডলার (প্রায় ৮ লক্ষ টাকা) করার আবেদন করেন।
ডিস্ট্রিক্ট জজ ফাং সিয়াও চুং এই পদক্ষেপকে ‘অকাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। বিচারক স্পষ্ট জানান, স্ত্রী ভরণপোষণের আবেদন করার পরেই চাকরি ছেড়ে দেওয়া একজন দায়িত্বশীল বাবার পরিচয় নয়। পদত্যাগের আগে তার উচিত ছিল পরিবারের খরচ মেটানোর জন্য বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
আদালতের রায় ও নির্দেশনাবলী
দীর্ঘ শুনানির পর আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো প্রদান করে:
১. বকেয়া পরিশোধ: ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য তাকে ৬৩৪,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৪ কোটি টাকা) বকেয়া হিসেবে দিতে হবে।
২. মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ: ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে প্রতি মাসে তাকে ২৩,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা) করে দিতে হবে।
৩. যৌথ দায়িত্ব: কানাডায় নতুন চাকরিতে তার আয় কমে ২ কোটি টাকার কাছাকাছি হওয়ায় বিচারক নির্দেশ দেন যে, ভবিষ্যতে বাবা ও মা উভয়কেই পরিবারের খরচে সমানভাবে অবদান রাখতে হবে।
জীবনযাত্রার মান নিয়ে বিতর্ক
মামলা চলাকালীন ওই ব্যক্তির আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, তার স্ত্রী অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। ফর্মুলা ওয়ান (F1) টিকিট, দামী ছুটি কাটানো এবং কসমেটিক ট্রিটমেন্টের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন তিনি। ওই ব্যক্তি চেয়েছিলেন পরিবার যেন কানাডায় ফিরে যায়, যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
তবে স্ত্রী যুক্তি দেন যে, সিঙ্গাপুরে সন্তানরা যে উচ্চমানের জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, তিনি সেটিই বজায় রাখতে চান। আদালত জানায়, স্ত্রীকে নিজের খরচের জন্য ভবিষ্যতে চাকরি খুঁজতে হবে ঠিকই, কিন্তু বাবা তার আর্থিক দায়বদ্ধতা থেকে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন না। বর্তমানে এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)



Post Comment