Bangladesh President: ‘সংবিধান মানেননি ইউনূস, প্রাসাদবন্দি করে ফেলা হয়েছিল আমাকে’, বিস্ফোরক দাবি রাষ্ট্রপতির
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন মহম্মদ ইউনূস বারবার সাংবিধানিক বিধান লঙ্ঘন করেছেন। ইউনূসের আমলে জারি হওয়া একাধিক অধ্যাদেশ একেবারেই “অপ্রয়োজনীয়” এবং অনেক ক্ষেত্রেই তার কোনও সাংবিধানিক ভিত্তিই ছিল না।
রাষ্ট্রপতির কথায়, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি— যা নিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক শীর্ষ মহলেও উদ্বেগ ছিল।
কী থেকে এতবড় বিতর্ক
২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রায় ১৮ মাস ধরে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনূস। সেই সময় একাধিক দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি ও আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,যা নির্বাচন-পূর্ব সময়ে হওয়ায় অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ স্বচ্ছতা ও আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অনির্বাচিত প্রশাসনের পক্ষে ভোটের ঠিক আগে বড় নীতিগত চুক্তি চূড়ান্ত করা রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল—এবং আইনি বিতর্ক তৈরি করার ঝুঁকি থাকে।
রাজনৈতিক পালাবদল ও নতুন সমীকরণ
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি বিপুল জয় পাওয়ার পর Tarique Rahman প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর ফলে ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায়ের অবসান ঘটে এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়।
এই প্রেক্ষিতেই রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে— কারণ তা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
কী বোঝাচ্ছে এই মন্তব্য?
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল অতীত প্রশাসনের সমালোচনা নয়— বরং ভবিষ্যতে সাংবিধানিক সংস্কার, অধ্যাদেশের বৈধতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের ইঙ্গিত।
ঢাকার রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই—ইউনূস আমলের সিদ্ধান্তগুলি কি পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়তে চলেছে?
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলে তিনি রাজনৈতিক উত্তরণ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন-তখতে তারেক, ক্ষমতার হাতবদলেই অশনিসংকেত? রাজনীতি ছেড়ে তড়িঘড়ি কাজে ফিরলেন বিতর্কিত ইউনূস…
নির্বাচনে বড় জয়ের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে ও তাঁর নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে গত ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল। তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠন, দুর্নীতি দমন এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে কাটানো গত ১৮ মাসকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক “প্রাসাদবন্দি” অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বঙ্গভবন থেকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন কীভাবে তাঁকে পদ্ধতিগতভাবে সবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার এবং তাঁকে অবৈধভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়েছিল।
তিনি এই পুরো সময়টিকে একটি বিরতিহীন “ঝড়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করা এবং রাষ্ট্রকে স্থায়ী বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়া।
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন দেশটিকে একটি সাংবিধানিক সংকটের হাত থেকে রক্ষা করেছে। একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়াকেই এই সময়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)



Post Comment