Hilsa Fishing: গঙ্গায় ইলিশের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ উদ্যোগ !
Last Updated:
Hilsa Fish: গঙ্গায় ইলিশের ঘাটতি দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো, প্রজনন রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: বর্ষার আগেই ইলিশের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ উদ্যোগ ফরাক্কাতে। গঙ্গায়, বিশেষ করে প্রয়াগরাজ থেকে ফরাক্কা পর্যন্ত এলাকায় ইলিশের কমে যাওয়া সংখ্যা পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ফরাক্কায় ‘ইলিশ র্যাঞ্চিং কর্মসূচি’র আয়োজন করল আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ICAR-CIFRI)। ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন গঙ্গায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের জলশক্তি মন্ত্রালয়ের ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের অধীনে এবং ‘ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ (এনএমসিজি)-র তৃতীয় পর্যায়ের অন্তর্গত ‘গঙ্গা নদী অববাহিকার মৎস্য সংরক্ষণ এবং মৎস্য সম্পদের বৃদ্ধি’ অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফরাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন গঙ্গার বুকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বৃত্তাকার খাঁচায় লালন করা ১১০টি ইলিশ মাছ ছাড়া হয়। অনুষ্ঠানটিতে ব্যারাকপুরের আইসিএআর- সিআইএফআরআই- এর বিজ্ঞানী ও আধিকারিক, ফরাক্কা বাঁধ প্রকল্প ও এনটিপিসির সিআইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য বিভাগের আধিকারিকরা সহ স্থানীয় মৎসজীবিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মসূচির মূল কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। প্রথমে নদীর নিম্ন অববাহিকা (ডাউনস্ট্রিম) থেকে পরিপক্ব ইলিশ মাছ সংগ্রহ করে ফরাক্কায় স্থাপিত বিশেষ ‘ইলিশ র্যাঞ্চিং স্টেশন’-এর হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ইলিশের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মূল লক্ষ্য যেহেতু মাছের পরিযান ও গতিবিধি ট্র্যাক করা, তাই হ্যাচারিতে উৎপাদিত ইলিশের চারাগুলোর গায়ে একটি বিশেষ ‘ট্যাগ’ লাগিয়ে তারপর সেগুলোকে গঙ্গার প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়া হতো শুরুর দিকে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ট্যাগিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। ফরাক্কা থেকে ছাড়া এই ট্যাগযুক্ত ইলিশগুলো সাঁতার কেটে এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে কি না, তা এই ট্যাগের মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এলাহাবাদের গঙ্গায় এমন কিছু ট্যাগযুক্ত মাছের সন্ধান মেলায় বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে। এই ট্র্যাকিং প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করতে এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করতে একটি বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। গঙ্গার আপস্ট্রিমে মাছ ধরার সময় যদি কোনও মৎস্যজীবীর জালে এই ট্যাগযুক্ত ইলিশ ধরা পড়ে, তবে সেই মাছটি বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে কিনে নেবে সংশ্লিষ্ট দফতর। এর ফলে মৎস্যজীবীদের মধ্যে এই ট্যাগযুক্ত মাছ জমা দেওয়ার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে, যা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য জোগাতে সাহায্য করছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে এই ইলিশ র্যাঞ্চিং কর্মসূচি শুরু হয়। গবেষকদের মতে, ফরাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকে ডাউনস্ট্রিম থেকে আপস্ট্রিমে ইলিশের স্বাভাবিক পরিযান বা যাতায়াত মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। যার ফলে ফরাক্কা থেকে উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত গঙ্গার উজানের অংশে ইলিশ মাছ পাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গঙ্গার সেই পুরনো ইকো-সিস্টেম এবং ইলিশের ভাণ্ডার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র।সেই কর্মসুচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইসিএআর-সিআইএফআরআই-এর প্রধান বিজ্ঞানী ড. এ কে সাহু, ফারাক্কা ব্যারেজের আধিকারিক ওয়াই এস বাঘনেয়, এনটিপিসি সিআইএসএফ সিনিয়র কমান্ড্যান্ট বিজয় কুমার, অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক বিকাশ কুমার সাক্সেনা, ফরাক্কা ব্যারেজের সিআইএসএফ কমান্ড্যান্ট নকুল কুমার বর্মা, সহকারী কমান্ড্যান্ট বিপিন যাদব এবং মৎস্য দফতরের অধিকারী মমতা হেনা আলি এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই সম্পূর্ণ কর্মসূচিটি ড. এ কে সাহুর সমন্বয়ে এবং ড. এস কে মজুমদার ও ড. প্রদীপ দে-র নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। এনটিপিসি-ও তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর মাধ্যমে এই কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই র্যাঞ্চিং কর্মসূচির হাত ধরে যেমন গঙ্গায় আপস্টিমে বিলুপ্তপ্রায় ইলিশের সংখ্যা ফিরবে, তেমনই আগামী দিনে নদীর ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার মৎস্যজীবীর জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে, ভারতের অন্যান্য নদী ব্যবস্থায় ইলিশ সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য এটি একটি আদর্শ মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বৈজ্ঞানিকরা।
Kolkata,West Bengal
Jun 29, 2026 12:30 PM IST


Post Comment