হুবহু এক গল্পের ধাঁচ, চরিত্রায়ণ.. সব জেনেও চুপ প্রসেনজিৎ! বিস্ফোরক অভিযোগ পরিচালক সুমনের

হুবহু এক গল্পের ধাঁচ, চরিত্রায়ণ.. সব জেনেও চুপ প্রসেনজিৎ! বিস্ফোরক অভিযোগ পরিচালক সুমনের

কলকাতা: আজ মুক্তি পেয়েছে, যীশু সেনগুপ্ত (Jisshu U Sengupta) এবং সৌরভ দাসের (Sourav Das)-এর প্রযোজনা সংস্থা, ‘হোয়াই সো সিরিয়াস’ (Why So Serious)-এর প্রথম সিনেমা, ‘অভিমান’। সিনেমার মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করছেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee), শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhasree Ganguly) এবং যীশু নিজে। তবে সিনেমা মুক্তির দিনই, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিনেমা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন, পরিচালক সুমন ঘোষ (Suman Ghosh)। সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ সকালেই একটি লম্বা পোস্ট করেছেন পরিচালক। তাঁর অভিযোগ, প্রায় এই একই ধরণের চিত্রনাট্য নিয়ে সিনেমা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনিও, লেখা হয়ে গিয়েছিল চিত্রনাট্য ও। মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করার কথা ছিল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। সমস্ত বিষয়টা জেনেও, কেন চুপ থাকলেন প্রসেনজিৎ, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি। 

প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ পরিচালকের!

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন, সুমন ঘোষ (Suman Ghosh)। লম্বা সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি গত আড়াই বছর ধরে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি সিনেমা নিয়ে আলোচনা করছেন। ছবিটির নাম ছিল, ‘স্টার’ (Star) এবং শুরু থেকেই মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করার কথা ছিল, প্রসেনজিতের। আড়াই বছর ধরে এই সিনেমার কাজ চলছে এবং অভিনেতা নির্বাচন থেকে শুরু করে, চিত্রনাট্য নিয়ে ঘষামাজা চলছিলই। পরিকল্পনা ছিল, ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ২টি লুক থাকবে। একটি জরাগ্রস্ত ইমেজ এবং আরেকটি যৌবনের ইমেজ। ‘Nideas’ প্রযোজনা সংস্থা থেকেই এই সিনেমাটি প্রযোজনা করার কথা ছিল এবং ছবিটির একটি বাজেটও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সুমন ঘোষ লিখেছেন, ‘অভিমান’ সিনেমাটির টিজার, ট্রেলার মুক্তির পরে, সুমনের মনে হয়েছে, সিনেমাটা প্রায় তাঁর সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই!

এক সুপারস্টার, তাঁর হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়া, প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটা বাড়িতে থাকা, মস্তিষ্কের অসুখ, হুইলচেয়ারে যাতায়াত, নিজের ছবি ভেঙে ফেলা… এই সমস্তই যেন মিলে যাচ্ছিল সুমন ঘোষের চিত্রনাট্যের সঙ্গে, এমনটাই দাবি করছেন তিনি।  ‘অভিমান’ ছবিতে কাঞ্চন যে চরিত্রে অভিনয় করছেন, সুমন ঘোষও তাঁকে সেইরকমই একটা চরিত্রের জন্য ভেবেছিলেন। গোটা বিষয়টা নিয়ে সন্দেহ হতেই, সুমন ঘোষ বারে বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে, কিন্তু তিনি যোগাযোগ করেননি বলেই অভিযোগ করেছেন পরিচালক। সুমন ঘোষ লিখেছেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রির বহু নামী এবং কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে— যেমন সৌমিত্রকাকু, মিঠুনদা, শর্মিলা ঠাকুর বা অপর্ণা সেন। এঁদের কাছ থেকে প্রফেশনাল এথিক্স শেখা উচিত। এঁদের কারও কাছ থেকে এমন আচরণ অবিশ্বাস্য। তাই তোমার মতো একজন সিনিয়র অভিনেতার কাছ থেকে এই চরম অসৌজন্যমূলক উপেক্ষা এবং অনৈতিক আচরণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

​সুমন ঘোষ আরও লিখেছেন, ‘আমার প্রশ্নটা কোনও আইনি লড়াই বা কপিরাইটের অধিকারের নয়; আমার প্রশ্নটা শিল্পের আদিম সততা নিয়ে, বিশ্বাস এবং নৈতিকতা নিয়ে। একজন লেখক বা পরিচালক যখন আড়াই বছর ধরে তাঁর স্বপ্ন এবং নিষ্ঠা কোনও অভিনেতার সামনে উজাড় করে দেন, তখন সেই বিশ্বাসের মর্যাদা কি এতটাই ঠুনকো? প্রতিষ্ঠিত নাম এবং ক্ষমতার জোরে একজন স্বাধীন পরিচালকের আইডিয়া বা ক্যারেক্টারাইজেশনকে এভাবে কি নিঃশব্দে আত্মসাৎ করে নেওয়া যায়? ​যদি ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা একজন মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ হতে পারে, তবে নতুন যে ছেলেমেয়েরা শুধুমাত্র গল্প বলার স্বপ্ন নিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখছে, তারা কি আর প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়দের ওপর ভরসা রাখতে পারবে? আমি বছরে বড় জোর একটা ছবি বানাই এবং তাতে আমার পুরো সত্ত্বা ঢেলে দিই। কিন্তু যারা নতুন কাজ করতে আসছে, চোখে শিল্পের, সাধনার ও উৎসাহের নতুন চশমা নিয়ে, তাদের কী হবে? আশা রাখব তাদের সঙ্গে যেন আগামী দিনে এমন আচরণ না হয়; কোনও শিল্পীর নিষ্ঠা ও ডেডিকেশনকে যেন এভাবে অবহেলা না করা হয়। শিল্প টিকে থাকে সততায়, ক্ষমতার দম্ভে নয়। তোমার পদ্মশ্রীর যথার্থ মর্যাদা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।’

আরও পড়ুন: Parambrata-June: ফের গোয়েন্দা চরিত্রে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রহস্য সিরিজ নিয়ে ফিরছেন জুন মাল্য!

 

Post Comment

You May Have Missed