অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! ছাদ থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! ছাদ থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তের

কলকাতা: প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত। ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল পরিচালকের। বুধবার নিজের বাড়ির ছ’তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। কী করে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন অনীক, নেহাত দুর্ঘটনা, না কি অন্য কিছু, এখনও স্পষ্ট নয়। ভরদুপুরে তিনি ছাদে উঠেছিলেন কেন, তাও জানা যায়নি। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।(Anik Dutta Passes Away) হিন্দুস্তান পার্কের অভিজাত বহুতলে বাস ছিল অনীকে স্ত্রীর। অনীক থাকতেন গড়িয়াহাট থানার সামনে। বুধবার দুপুরে স্ত্রীর ফ্ল্যাটে আসেন তিনি। আর সেখানেই, বহুতলের ছ’তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। বহুতলের গা ঘেঁষে থাকা একটি গাছের ডালও ভেঙে যায়। ছাদ থেকে পড়ার সময় অনীক ওই গাছে ধাক্কা খান বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিলেন অনীকের স্ত্রী। তবে অনীক দুর্ঘটনাবশত পড়ে যান, না কি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ ছিল, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।  (Anik Dutta Dies)

হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মারা যান অনীক। তাঁর সারা শরীরে চাপ চাপ রক্ত ছিল। মাথায়, কাঁধে, বুকে আঘাত ছিল তাঁর। তাঁকে এমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হলেও, মারা যান। অনীকের স্ত্রী হাসপাতালে রয়েছেন। মেয়ে আসছেন মুম্বই থেকে। দুপুর ৩টে বেজে গিয়েছে বলে আজ ময়নাতদন্ত হবে না। দেহ সংরক্ষণ করা হবে। ময়নাতদন্ত হবে কাল। দেহ নিয়ে কী হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে মেয়ে এসে পৌঁছনোর পর। গড়িয়াহাট থানার একটি টিমও হাসপাতালে রয়েছে। যে চিকিৎসক প্রথন অনীককে দেখেন, জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাঁকেও। অনীক একা ছাদে উঠেছিলেন, না কি সঙ্গে ছিলেন কেউ, ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন, না কি উপরের ব্যালকনি থেকে, তা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে স্ত্রীকেও।

হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে রহস্যমৃত্যু পরিচালক অনীক দত্তর। বুধবার দুপুরে দুঃসংবাদে বাকরুদ্ধ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বিজ্ঞাপন জগতে দীর্ঘদিন কাজের সূত্রেই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত। তারপর ২০১২-য় মুক্তি পায় তাঁর প্রথম বাংলা সিনেমা ভূতের ভবিষ্যৎ। আর প্রথম ছবিতেই বাজিমাত। কমেডির মোড়কে সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি নিয়ে নিজের ধারণা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন চিত্রনাট্যে। সত্যজিতের সিনেমাই ছিল তাঁর অনুপ্রেরণা। আর সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ২০২২-এ তিনি বানিয়েছিলেন ‘অপরাজিত।’  সত্যজিৎ রায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন জিতু কামাল।  শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা ছোটগল্প অবলম্বনে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, সাসপেন্স-থ্রিলার ‘মেঘনাদ বধ রহস্য’, ভবিষ্যতের ভূত, রমাপদ চৌধুরীর লেখা গল্প ছাদ অবলম্বনে ‘বরুণবাবুর বন্ধু’। নিজের সিনেমায় একটা স্বতন্ত্র ঘরানা তৈরি করেছিলেন অনীক দত্ত। গতবছর মুক্তি পায় অনীক দত্তর শেষ ছবি  ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’। মগজাস্ত্রে শান দেওয়ার ভরপুর রসদ ছিল তাঁর সেই ছবিতে। 

Previous post

‘মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে জানাতে চাই…’, R G Kar তদন্তে সহযোগিতায় প্রস্তুত শান্তনু সেন

Next post

East Medinipur News: পাতে টাটকা ইলিশ পেতে অপেক্ষা বাড়বে? মৎস্যজীবীদের গলায় উল্টো সুরে বাড়ছে আশঙ্কা! সামুদ্রিক অর্থনীতি রক্ষায় নজিরবিহীন দাবি

Post Comment

You May Have Missed