শৃঙ্গ জয় করে নামার পথে মৃত্যু পর্বতারোহীর, এভারেস্টেই দেহ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবারের
নয়াদিল্লি: এভারেস্ট জয় করে আর নীচে নামতে পারেননি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন পর্বতের কোলেই। সেই এভারেস্টেই পর্বতারোহীর দেহ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পরিবার। তাদের মতে, ‘শিবালয়’ই ছেলের আদর্শ আশ্রয়। তাই সেখান থেকে দেহ নামিয়ে আনার প্রশ্ন নেই। (Mountaineer Dies on Everest)
গত ২১ মে এভারেস্ট জয় করেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী, ৫৩ বছর বয়সি অরুণকুমার তিওয়ারি। কিন্তু পর্বত জয় করে নীচে নামার সময়ই বিপত্তি ঘটে। ক্লান্তি গ্রাস করে অরুণকে। শরীর অবসন্ন হয়ে পড়তে থাকে। অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত, শৃঙ্গের নীচে, হিলারি স্টেপের কাছে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। (Arun Kumar Tiwari)
সেই থেকে তাঁর দেহ নামিয়ে আনা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে অরুণের পরিবার। তাই জামাইবাবু সুধীর উপাধ্যায় জানিয়েছেন, এভারেস্ট ভগবান শিবের আলয় বলে বিশ্বাস করে তাঁদের পরিবার। তাই এভারেস্টের চেয়ে আদর্শ জায়গা হতে পারে না। অরুণ সেখানেই চির আশ্রয়ে থাকুন বলে একমত পরিবারের সকলে।
পাশাপাশি এভারেস্ট থেকে দেহ নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা মাথায় রেখেও এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে অরুণের পরিবার। অত উঁচুতে আবহাওয়া প্রতিকূল। অক্সিজেন পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে উদ্ধারকারীদের বিপদ ঘটতে পারে। সেখান থেকে দেহ বাড়িতে ফেরাতে ফেরাতে তা অক্ষতও থাকবে না বলে মনে করছে অরুণের পরিবার। সুধীরের কথায়, “ও ভগবান শিবের আশ্রয়ে রয়েছে। দেহ ফিরিয়ে আনা হলেও, আমাদের কাছে পৌঁছতে পৌঁছতে তা আর ঠিক থাকবে না। এভারেস্টে এই ধরনের অভিযান সফলও হয় না।
আরও পড়ুন: জংলি সাপ নিয়ে নিয়ে খেলতে গিয়ে পর পর ছোবল খেলেন ট্রাম্পের সচিব, ভিডিও ভাইরাল
খরচ-খরচার কথা ভেবে নয়, হিমালয়ের প্রতি ছেলের অমোঘ আকর্ষণ, পাহাড়-পর্বতের প্রতি তাঁর আকর্ষণের কথা মাথায় রেখেও অরুণের পরিবারের সকলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। অরুণ দক্ষ পর্বতারোহী ছিলেন। এর আগে রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুজ, আলাস্কার মাউন্ট ডেনালি, আর্জেন্টিনার মাউন্ট আকেনকাগোয়াও জয় করেছেন তিনি। ২০২৫ সালেও এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করেন অরুণ। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জেরে ৭২০০ মিটার উঠেও নেমে আসতে হয়। এবছর ফের গিয়েছিলেন। কিন্তু এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলেও, বেঁচে ফিরতে পারলেন না। স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে রেখে গিয়েছেন অরুণ।
এবার অরুণের সঙ্গে এভারেস্ট জয় করে ফেরার সময় মৃত্যু হয়েছে সন্দীপ আরে নামের ৪৬ বছর বয়সি আর এক পর্বতারোহীর। পর্বত জয় করে নামার সময় চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন না তিনি। ক্লান্তি গ্রাস করে শরীরকে। তবে তিনি ক্যাম্প-৩-র কাছে মারা যান। শেরপারা তাঁর দেহ ক্যাম্প-২-তে নামিয়ে আনতে সফল হন। সেখান থেকে দেহটি তুলে আনে হেলিকপ্টার।
মাউন্ট এভারেস্ট থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। বিশেষ করে ৮০০০ মিটারের উপর ‘ডেথ জোন’ থেকে দেহ উদ্ধার করা একরকম অসম্ভব। প্রতিকূল আবহাওয়া, অক্সিজেনের ঘাটতিতে যুঝতে পারে না শরীর। হিলারি স্টেপের কাছে প্রায়শই ক্লান্তি, তুষারকামড় কাবু করে ফেলে শরীরকে। ঠান্ডায় বরফের মতো শীতল হয়ে যায় শরীর। একটি দেহ উদ্ধার করতে ৮-১২ জন দক্ষ মানুষের প্রয়োজন পড়ে। অক্সিজেন সিলিন্ডার, অন্য সরঞ্জাম নিয়ে উঠতে হয়, যাতে অনেক সময় লাগে। পাশাপাশি খরচও পড়ে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকার মতো।



Post Comment